মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

৪ঠা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।

অভিশপ্ত ইয়াহুদী সম্প্রদায়

ইতিহাসের আয়নায় বর্তমান ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব

অভিশপ্ত ইয়াহুদী সম্প্রদায়

ইতিহাসের আয়নায় বর্তমান ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব

ইতিহাসে মানব সভ্যতার বিষফোঁড়া হিসেবে ইয়াহুদী সম্প্রদায় স্বীকৃত। পৃথিবীর যেখানেই ইয়াহুদীরা অবস্থান করেছিলো, সেখান থেকেই বিতাড়িত হতে হয়েছিলো। প্রায় সব অঞ্চলেই ইয়াহুদীরা ঘুরেছে। কোথাও তাদের মাথা গুজার ঠাঁই হয়নি। কারণ, মানব সভ্যতার মধ্যে ইয়াহুদীরাই একমাত্র জাতি, যারা অতি ধূর্ত ও কৌশলী। তাই যেখানেই তারা গিয়েছিলো সেখানেই তারা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছে। ফলে সেখানকার জনগোষ্ঠী ও শাসক শ্রেণীর জন্য তারা অস্বস্তির কারণ হয়েছিলো। যে জনগোষ্ঠীতেই তারা গিয়েছিলো, সেখানেই তারা বিষফোঁড়ার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলো।

তাই বিশ্বদরবারে তারা মানব সভ্যতার বিষফোঁড়া হিসেবে পরিগণিত হতে থাকে। এজন্য পৃথিবীর মানচিত্রে কোথাও তাদের দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়া হয়নি। তবে তাদের অনিষ্টতা থেকে বাঁচারও কোনো উপায় ছিলো না। তাদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র থেকে দুনওয়াকে রক্ষা কারার জন্য হিটলার লক্ষ লক্ষ ইয়াহুদী নিধন করেও ঠেকাতে পারেনি। তাই বিশ্ব-নেতারা ইয়াহুদী সম্প্রদায় নিয়ে ছিলেন চরম উদ্বিগ্নে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭-৪৮ এর আগ পর্যন্ত ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের নিজস্ব কোন দেশ বা ভূখণ্ড ছিলো না।

এদিকে সাম্রাজ্যেবাদী ও ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামকে নির্মূল ও ঘায়েল করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট ছিলো। হাজারো বছর ধরে ময়দানের লড়াইয়ে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের মোকাবালায়, সভ্যতা-সংস্কৃতির বিচারে, শিল্প-অর্থনৈতিক খাতে, ইতিহাস-ঐতিয্যের দিক থেকে মোটকথা সার্বিকভাবে যখন মুসলমানদের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারছিলো না, তখন কৌশলগতভাবে মুসলমানদের মাঝে আভ্যন্তরিন দ্বন্দ্ব তৈরী করে দূর্বল করার কুকৌশল হিসেবে আরব উপদ্বীপে অভিশপ্ত ইয়াহুদীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। কেননা, আরবই ছিলো মুসলমানদের প্রধান এবং মূল ঘাঁটি। তাই বৃহত্তর আরবকে দূর্বল করতে পারলে সম্পদ ও আধিপত্য উভয়ই অর্জিত হবে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় ইসরাইল রাষ্ট্র হওয়ার পর থেকে আরবদের মাঝে আভ্যন্তরিণ কোন্দল সবচেয়ে বেশি তৈরী হয়েছিল এবং এখনো তা চলমান।

যেহেতু ইয়াহুদীরা স্বভাবতই উশৃংখল, বেয়াদব, ফাসাদ সৃষ্টিকারী ও জাতিগত দ্বন্দ্ব তৈরীকারী তাই রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চৌদ্দশত বছর পূর্বেই তাদের প্রথমবার মদীনা থেকে নির্বাসিত করেছেন এবং একাধিক হাদিসে আরব উপদ্বীপ থেকে তাদের বের করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঘোষণা করছেন- اخرجوا اليهود من جزيرة العرب “অর্থাৎ তোমরা ইয়াহুদীদের আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দাও।” খলিফা উমর রা. এর সময় ইয়াহুদীদের পুরো আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। তখন থেকেই নির্বাসনের লাঞ্ছনা ললাটে নিয়ে তারা ঘুরছিলো।তাদের এই বিতাড়িত ও নির্বাসিত হওয়ার কারণ ও ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। সে বিষয়ে অন্য প্রবন্ধে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশদের দখলে যখন ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ছিলো তখন তাদের ছত্রছায়ায় কৃষিকাজের নাম করে অভিশপ্ত ইয়াহুদীরা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে থাকে এবং সরলমনা আরবদের থেকে কৃষিজমি ক্রয় করতে থাকে। এভাবে যৎসামান্য জমি কিনে তারা বসতি স্থাপনের দাবি করে বসে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তাদের অভিবাসন নিশ্চিত কল্পে বৃটিশদের সাথে একটি চুক্তিও হয়। অবশেষে ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের মাধ্যমে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে আরব ও অভিশপ্ত ইয়াহুদিদের মাঝে ভাগাভাগি করে দেয়া হয়। জাতিসংঘ নামি জাতি সংঘর্ষ তৈরীকারী এ সংস্থা সম্পূর্ণ অসম ও অমানবিক বন্টনের ফলে তৈরী হয় আরব ও ইয়াহুদীদের মধ্যে সংঘাত। বর্তমান ইসরাইল সেই অসম বন্টনের ফলে পাওয়া ইয়াহুদীদের জবরদখলকৃত ভূমি। কেননা উড়ে এসে জুড়ে বসার অধিকার হিসেবেও যদি সমবন্টন হতো, তাহলে ইয়াহুদীরা দশ শতাংশেরও কম জায়গা পেত। সেখানে জাতি সংঘর্ষ তৈরীকারী সংস্থা অর্ধার্ধি অংশের সিদ্ধান্ত দেয়। এই অমানবিক বন্টনে আরব দেশগুলো বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদ করে পূর্ণ সফল হতে না পারলেও ফিলিস্তিনীরা মেনে নিতে পারেনি তাদের সাথে কৃত এ অমানবিক আচরণ। ফলে আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব।

আরব উপদ্বীপ সহ মুসলিম বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে রাখার জন্য সাম্রাজ্যবাদী তাগুতি শক্তি ও ক্রসেডররা রসদ দিয়ে যাচ্ছে ইয়াহুদীবাদী ইসরাইলকে। তাই অভিশপ্ত ইয়াহুদীবাদী ইসরাইল বার-বার আঘাত হানছে মুসলমানদের হৃদেয়ের স্পন্দন পূণ্যভূবি মাসজিদুল আকসায় এবং অবৈধ জবরদখলের জন্য নিরীহ মানুষ মারছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়।

লেখক: মুহাদ্দিস , জামিয়া ইসলামিয়া বুধবারীবাজার গোলাপগঞ্জ, সিলেট।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত