সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
করোনার টিকা শেষ হলে মশা মারবে সিসিক

করোনার টিকা শেষ হলে মশা মারবে সিসিক

মহামারী করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচীর পর্ব শেষ হলেই সিলেট নগরীতে মশা মারা শুরু করবে সিলেট সিটি করপোরেশন। এমনটাই জানালেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম।

ব্যঞ্জন বর্ণের দু’টি শব্দে গঠিত ক্ষুদ্র একটি প্রাণী মশা। নাম আর আকারে ছোট হলেও অনেট দাপট নিয়ে চলে। যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে মানুষ পাগল হয়ে যায়। উঠতে-বসতে, পড়ার টেবিলে, অফিস কিংবা হাটবাজারে অপরিচ্ছন্নতার কারণে ভীড় বাড়ে, জন্ম নেয় মশার।

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সিলেট নগরীর বাসিন্দারা। কিছু সংবাদমাধ্যমে এ সম্পর্কে কিছু খবর ছাপা হয়েছে। এটা প্রাথমিক কাণ্ডজ্ঞানের কথা যে মশার উপদ্রব বাড়ে তখনই, যখন মশকনিধন কার্যক্রম থাকে না।

আর মহামারী করোনার প্রার্দূভাবের পর থেকে সিলেট নগরীতে সিসিকের মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়ে নি। সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণসহ নগরী ভাসছে এখন উন্নয়নের জোয়ারে। ড্রেনের মশা আশ্রয় নিচ্ছে বাসা-বাড়ি আর অফিস আর শপিংমলে।

সিসিক সূত্রে জানা যায়, নগরীতে বিচ্ছিন্নভাবে নাকি চলছে মশক নিধন। মশার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে কেউ আবেদন করলে নেওয়া হয় অভিযানের উদ্যোগ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছর সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাবের সময় নাগরিক সমাজের প্রবল সমালোচনার চাপে মশকনিধন কার্যক্রমে যে তৎপরতা দেখা দিয়েছিল, ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে।

এর মানে কি এই যে ডেঙ্গু জ্বর কিংবা মশাবাহিত কোনো রোগ প্রায় মহামারির আকার ধারণ না করা পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের চেতনায় কোনো সাড়া পড়তে নেই? তাদের টনক শুধু তখনই নড়বে, যখন হাজার হাজার মানুষ মশার কামড় খেয়ে রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল-ক্লিনিক-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়বে?

সিসিক সারা বছর নিয়মিতভাবে মশকনিধন কার্যক্রম চালিয়ে গেলে মশার উপদ্রব এমন মাত্রায় বেড়ে ওঠা সম্ভব ছিল না বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

ডেঙ্গুজ্বর নেই। নেই কোনো চিকুনগুনিয়া রোগী। শোরগোল নেই। সহ্য করে নিজ দায়িত্বে কয়েল, স্প্রে করে মশা নিধন করছেন নগরবাসী। এই ভেবে হয়তো সিসিক করপোরেশন মশকনিধন কার্যক্রমে শিথিলতা দেখাচ্ছে।

করোনার ভাইরাসের সংক্রমণে পাশাপািশ তবে কি সিলেটবাসী অচিরেই বড় বিপদের মুখোমুখি হতে চলেছেন।
জানা যায়, বসন্ত আসার এখনো সপ্তাহ বাকী, বিদায় নিতে চলেছে শীতও। কিন্তু এরই মাঝে নগর জুড়ে মশার উপদ্রব বেড়েছে বহুগুণ। সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে মশার উৎপাত বৃদ্ধি পায়। তবে গ্রীষ্ম-বর্ষা দূরে থাক, বসন্ত আসার আগেই বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব। দীর্ঘদিন থেকে বৃষ্টিপাত না থাকায় ছড়া-নালায় ময়লা জমে আছে। ফলে সেসব স্থানে বাসা বেধেঁছে মশা।

নগরীর প্রায় সবকটি ওয়ার্ডেই বেড়েছে মশার উৎপাত। মশার যন্ত্রণায় দিনের বেলায়ও কয়েল জ¦ালাতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব বেড়ে যায় কয়েকগুণ। শীতকালে বাসা-বাড়ী অফিসে ফ্যান বন্ধ থাকায় মশা আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশন মশা নিধন কার্যক্রম শুরু না করায় মশা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না নগরবাসী।

নগরীর আম্বরখানা, কানিশাইল, শামীমাবাদ, শেখঘাট, চৌকিদেখী, জালালাবাদ, ফাজিলচিশত, মদিনা মার্কেট, আখালিয়া, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, কালিঘাট, ছড়ারপাড়, সোবহানীঘাট, মিরাবাজার, নয়াসড়ক, নবাব রোড, শামীমাবাদ, ভার্থখলা, কদমতলী সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে মশার উপদ্রবের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে ২০/২৫ দিন যাবত মশার উৎপাত বেড়ে গেছে বেশী। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সব জায়গায়ই মশার উৎপাত বেড়েছে। এমনকি ফুটপাত ও পাবলিক পে¬সেও মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই মিলছে না।

মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর, চিকুনগুনিয়া রোগ হতে পারে যে কোনো বয়সি মানুষের এমনটাই জানালেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল।

জানা যায়, মশক নিধনে সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে বিভিন্ন সময় নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু বছরের মার্চ এপ্রিলে চলে বড় অভিযান।

এছাড়া সারাবছর বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে ওয়ার্ড ভিত্তিক পরিস্কার পরিচ্ছন্না অভিযানের পাশাপাশি মশক নিধন অভিযানও চলে। তবে এবছর এমন অভিযান দেখা যায়নি। তবে সিসিকের পক্ষ থেকে করোনার টিকাদান কর্মসূচীর ১২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম।

মশক নিধনে সিসিকের নিদিষ্ট বাজেটের ব্যাপারে ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন-না মশক নিধনে আমাদের নির্দিষ্ট কোনো বাজেট নেই। তবে অভিযানে যা ব্যয় হবে তা সিসিকই বরাদ্দ দেবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ধারাবাহিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সাথে মশক নিধন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তবুও কেন যে মশার উৎপাত কমছেনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

শেয়ার করুন
  •  
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত