মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২০, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৩ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

নোটিশঃ
★করোনাভাইরাস থেকে হেফাজত থাকতে পড়ুন-'লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা, ইন্নি কুনতু মিনায যোয়ালিমীন'।। ★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
করোনাকালে গরীবের ঈদ

করোনাকালে গরীবের ঈদ

মো. নুরুল হক:: ‘ঈদ ‘ মানে-ই আনন্দ, খুশি। ঈদুল- ফিতর ও ঈদুল-আজহা , এই দুই ঈদেই ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকল মুসলমানের মধ্যেই কোননা-কোনভাবে কম-বেশি এই খুশির আমেজ বিরাজ করে।
ঈদুল-ফিতরে যাকাত, ফিতরা ইত্যাদি ভোগের মাধ্যমে গরীবেরা এই খুশশির অংশিদার হয়ে থাকে।এই ঈদে ধনী ও সামর্থবানদের কেউ-কেউ নিজ-নিজ সামর্থ অনুযায়ী ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবতাবোধকে বিবেচনায় এনে গরীবদেরকে ঈদের আনন্দের প্রধান অনুসঙ্গ নতুন জামা-কাপড়, শাড়ি, লুঙ্গি ইত্যাদি উপহার দিয়ে থাকে, দান করে থাকে।

ঈদুল-আজহায় ধর্মীয় বিধিতেই যাকাত, ফিতরা ইত্যাদির উপস্হিতি না থাকার কারণে কোরবানীর মাংস বিতরণ ও কোরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করে পাওয়া অর্থ গরীবদেরকে বিতরণের মধ্য দিয়ে তাঁদেরকে এ ঈদের আনন্দের অংশীদার করে নেয়া হয়ে থাকে।

এবার দু ‘টি ঈদ-ই করোনাকাল অতিক্রম করছে।করোনা- মহামারির এ বিপর্যয়কিলে অন্যান্য বছরের ন্যায় ধনী-গরীব নির্বিশেষে কেউই ঈদের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি/ পারবেনা, আনন্দ ভাগ করে নেয়ার সাহস বা উৎসাহটুকুও যেন হারিয়ে ফেলছে।সবার মনেই যেন এক ধরণের অজানা ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।’করোনা ‘ নামক এ নীরব-গোপন-ঘাতক কখন, কা ‘কে যে মরণের স্বাদ তা কেউই অনুমান করতে পারছেনা।

করোনাকালের এবারের ঈদুল-ফিতরটা এ-রকম একটা মহা আতঙ্কের মধ্যে দিয়েই অতিক্রান্ত হয়েছে।এবার অন্যান্যবারের মত জাঁকজঁমকপূর্ণভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।ঈদের নামাজ শেষে অন্ততঃ সাথী-প্রিয়জনের সাথে একে-অপরের বুকে-বুক মিলিয়ে কোলা-কুলি করে আনন্দ ও ভালবাসা বিতরণের চিরাচরিত অভ্যেসে এবার চরমভাবে ছেদ ঘটেছে।নামাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য ‘নামাজিদের কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো ‘তো যায়ইনি , বরং – করোনার কারণে এক্ষেক্রে পারস্পরিক সামাজিক ও দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধি -নিষেধ- নিয়ম কঠোরভাবে পালন, অনুসরণ করতে হচ্ছে।

করোনাকে উপেক্ষা করে নাড়ির টানে যাঁরা শহর ছেড়ে ঈদ করার জন্য গ্রামের বাড়ি গিয়েছে ( তাঁদের মধ্যে কম আয়ের লোকের সংখ্যাই বেশি) , তাঁদের অনেককেই ঈদগাহে/ মসজিদে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার খবরও জানা গেছে।শহরেও ধনী-গরীব নির্বিশেষে অনেককেই ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

গরীব-মিসকিনরা এবার অন্যান্যবারের মত ঈদের নতুন জামা-কাপড় উপহার পায়নি বললেই চলে।
রমজানের ঈদ এলেই একটা কথা বাজারে বেশ প্রচার হতে থাকে, সেটা হলো- ‘যাকাতের কাপড় ‘। এক শ্রেণীর তথাকথিত ধনী লোক বাজার থেকে একধরণের স্বল্পমূল্যের শাড়ি, লুঙ্গি ইত্যাদি কিনে গরীব নারী-পুরুষের মধ্যে ( অনেকটা নাম জাহিরের জন্যে)বিতরণের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে।অবশ্য – এটা কতটা যাকাতের মৌলিক বিধানের সাথে যায় সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।এই যাকাতের কাপড় আনতে গিয়ে পদদলিত হয়ে অনেকের মৃত্যুর কলঙ্কিত ঘটনার স্মৃতি স্বজনদের কাছে বেশ পুরাতন হয়নি।এবার করোনার কারণে একদিকে যেমন গরীবরা এ-সমস্ত তথাকথিত-যাকাতের কাপড় প্রাপ্তি থেকে অনেকেই বঞ্চিত হয়েছে, অপরদিকে- যাকাতের কাপড়/ টাকা আনতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মরার দূর্ভাগ্যজনক ঘটনার পূনরাবৃত্তিও রোধ হয়েছে বৈকি!

গরীব, মিসকিনদেরকে একটা নিদৃষ্ট/ নির্ধারিত পরিমাণ ফিতরা ( একজন গরীব বা মিসকিনের একবেলার খাবারের মূল্য বা খাদ্যসামগ্রী) দেয়ার বিধানের ভিত্তিতেই রমজান মাসের শেষের ঈদকে ‘ঈদুল-ফিতর ‘ বলা হয়।ঈদের দিনে সারাবছরের তুলনায় একটু ভিন্নভাবে, ভিন্নস্বাদের, ভিন্নরকমের খাবারের বেশি করে আৃয়োজন করে থাকে।গরীবরাও যাতে সামান্যতম হলেও এই আনন্দের দিনে একটু ভাল খেয়ে ঈদের আনন্দকে তাঁদের মত করে উপভোগ করতে পারে- সেজন্যেই এই ফিতরার ব্যবস্হা।কিন্তু, এবার করোনার কারণে ঈদের-আনন্দ-সম্পৃক্ত এই বিধানটি সেই অর্থে পরিপালিত হয়েছে কিংবা হওয়া সম্ভবহয়ে বলে চোখে পড়েনি।

ঈদের জামাত সমূহ গ্রামে এবং ছোট শহরে সাধারণতঃ ঈদগাহেই হয়ে থাকে।আর বড়-বড় শহরগুলোতে কোথাও ঈদগাহে আবার কোথাও জামে মসজিদসমূহেও অনুষ্ঠিত হযে থাকে।এবার করোনাকালীন ঈদুল-ফিতরের নামাজের জামাত , বিশেষতঃ শহরগুলোতে মসজিদেই অনুষ্ঠিত হয়েছে করোনার জন্য আরোপিত সকল স্বাস্হ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের মধ্য দিয়ে।মসজিদগুলোর বহিরাঙ্গনে বা রাস্তায় ফিতরা বা সাহায্যপ্রার্থী গরীবদেরকে হাত পাততে দেখা গেলেও, সাহায্য বা ফিতরাদাতাদের হাত তাঁদের প্রতি অন্যান্যবারের মত প্রসারিত হতে দেখা যায়নি।অবস্হাটা এ-রকম যে- কোনরকমে নামাজটা আদায় করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখান থেকে সটকে পড়তে পারলেই যেন বাঁচে!

মোট কথা – এই করোনাকালে ঈদুল- ফিতরে ধনী-গরীব নির্বিশেষে কারো মধ্যেই প্রকৃত ঈদের আনন্দ বিরাজমান ছিলনা।গরীবরা তো ঈদের আনন্দ উপভোগ এবং এতদুপলক্ষে প্রাপ্য সকল প্রকার সাহায্য- সহযোগীতা থেকে বলতে গেলে পুরোপুরো-ই বঞ্চিত হয়েছে বৈকি!

ঈদুল -আজহা একইসাথে আনন্দ ও ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর একটি ধর্মীয় উৎসব।ঈদুল-ফিতরে যেমন গরীবদের মধ্যে যাকাত ও ফিতরা বিতরণের মাধ্যমে ধনীরা গরীবদেরকে ঈদের আনন্দের সাথে সম্পৃক্ত ওঅংশিদার করে, ঠিক তেমনি- ঈদুল আজহায়ও গরীবদের মধ্যে কোরবানীর গোস্ত বিতরণের মাধ্যমে ঈদের আনন্দকে শেয়ার করে থাকে।ধনী বা সামর্থবানরা যেমন সারা বছরই কোননা-কোনভাবে গরু বা অন্যান্য হালাল জীব-পশু-পাখির মাংস খাওয়ার বা তাঁদের পাতে জুটাবার তৃপ্তি উপভোগ করে থাকে, গরীবরা কিন্তু সে-অর্থে বলতে গেলে অধিকাংশ গরীবই বছরে একবারের জন্যে হলেও কোন প্রকার মাংসের স্বাদ গ্রহণ করতে সমর্থ হয়না।তাঁদের সেই কাঙ্খিত রসনার- বাসনা পূূণ করার সুযোগটা আসে বছরে একবার,ঈদুল- আজহায়, তথা- কোরবানীর ঈদে।
করোনাকালের এবার কোরবানীর ঈদে কোরবানী দেয়ার ক্ষেত্রে অনেকের আগ্রহেই স্তিমিত ভাব বিরাজ করছে, চোখে পড়ছে। কোরবানীর পশুর হাট বসানোর ক্ষেত্রেও এবার অনেক কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্হা, নযরদারীমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ঈদের আর বাকী ক ‘টা দিন।অন্যান্য বছর এ সময়টাতে কোরবানীর পশু কেনার জন্য কোরবানীদাতাদের পরস্পরের মধ্যে আলোচনা তুঙ্গে থাকত।এবার করোনার প্রভাবে এখনো পর্যন্ত সে-রকমটা লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা।করোনা যেন ক্রেতা-বিক্রেতা সবার মধ্য থেকেই

আনন্দের আমেজটা পুরোপুরি কেড়ে নিয়েছে।এবার অনেকেই কোরবানী দেবে কি না দেবে – এ রকম একটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।আর, কোরবানী দিলেও এবার অনেকেই অন্যান্যবারের মত নিজের ইচ্ছা সখ অনুুযায়ী হয়তো কোরবানী দিতে পারবেনা , কিংবা একেবারেই দিতে পারবেনা- এমন হতাশা বা নিরাশার কথাও বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে।আসলেই – এই করোনাকালে অনেকের পকেটই ইতোমধ্যে ফাঁকা হয়ে গেছে।এমতাবস্হায়, ধর্মীয় বিধান পালনের বাধ্যবাধকতায় কোরবানী দিতে চাইলেও অনেকেই তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ কিংবা বিধান পালনে ব্যর্থ হবে করোনার প্রভাবে আর্থিক টানাপোড়েন / দৈন্যতার কারণে।সেজন্যে – এবার কোরবানীদাতার সংখ্যা যেমন কমবে, তেমনি যাঁরা কোরবানীতে অংশগ্রহণ করবে, তাঁদের কোরবানীর গরুর সাইজের মধ্যেও গতবারের তুলনায় অনেকটাই তারতম্য থাকতে পারে- এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

শেষমেশ এ তারতম্যের নেতিবাচক প্রভাবটা বেশি পড়বে করোনাকালের ঈদুল আজহায় গরীবদের উপরই।গতবার যে গরীব শিশুটিকে কোরবানীদাতা ধনী লোকটির গেইটের সামনে পলিথিনের ব্যাগ হাতে নিয়ে মাংস কাটা শেষ হবার ১ ঘন্টা আগে থেকেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, এবার সে হয়তো সেখানে এসে দেখবে- গতবারের সেই কোরবানীদাতা এবার করোনার বিরূপ প্রভাবের কারণে বাড়িওয়ালার দুই মাসের বাড়িভাড়া বকেয়া রেখেই তল্পিতল্পা সহ গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে, কোরবানী দিবে থাক দূরের কথা। পাঁচ সন্তানের জনক গরীব হালিম মিয়া তাঁর অপর প্রতিবেশি ফজল মিয়ার কোরবানীর গরুর মাংস প্রসেসিং করে দিন শেষে দু ‘তিন কেজি মাংস বাসায় নিয়ে স্ত্রী- সন্তানদের হাতে তুলে হালিম মিয়া যে পরিতৃপ্তির হাসিটুকু গতবার হাসতে পেরেছিল, করোনার প্রভাবে এবার ফজল মিয়া কোরবানী দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ফজল মিয়ারই মনে শান্তি নেই, হালিম মিয়ার স্ত্রী- সন্তাদের মুখে হাসি ফুটা তো দূরের কথা।

বিধবা শরিফা বানু প্রতিবারই নিয়ম করে শওকত সাহেবের বাড়ি থেকে কোরবানীর মাংস পেয়ে একরাশ হাসি মুখে নিয়ে রাতে তাঁর মত করে রান্না ক ‘রে তাঁর এতিম দু ‘টি বাচ্চাকে খাইয়ে তাদের মুখে আনন্দভরা-তৃপ্তির- হাসি দেখেরাতে সুখ-নিদ্রা যেতো।এবার হয়তো শরিফা বানু শওকত সাহেবের বাসায় এসে দেখবে/ জানতে পারবে- ‘ক ‘দিন আগেই শওকত সাহেব ফ্লাট ছেড়ে কোথায় যেন চলে গেছে, অাশপাশের কেউ সঠিক তথ্য জানেনা ‘।
পিতৃহারা এতিম শিশু মজনু গতবার কোরবানীর ঈদে দিনভর শহরময় ঘুরে ৩/৪ কেজি মাংস সংগ্রহ করে সন্ধ্যায় মায়ের হাতে তু্লে দিয়ে বলেছিল- ” মা, এই ধর, দেখ কত সুন্দর মাংস আনছি।মজা কইরা পাক কর।কত বেটার বকা খাইছি! অনেক পরিশ্রম করছি, নাক ছিটকানো দেখছি! তোমার হাতের পাক করা মজার মাংস না খাওয়া পর্যন্ত মনটাতে শান্তি পামুনা “।এবার এ করোনাকালেও হয়তো মজনুরা সারা শহরময় ঘুরবে, কিন্তু-গতবারের মত সেই পরিমাণ ‘সুন্দর ‘মাংস পাবেতো?!

তাছাড়া, যে-কোন কোরবানীর ঈদের গ্রাম -শহরের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত, নিম্ম মধ্যবিত্ত কোরবানী দেবার সামর্থ থাকেনা বিধায় কোরবানী দিতে পারেনা, আবার চক্ষুলজ্জায় অন্য গরীবদের মত ঘরের বের হয়ে মাংস চেয়ে নিতে পারেনা। কোরবানীর ঈদে গরীবেরা তাঁদের সংগৃহিত প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাংস ঐ-সমস্ত মধ্যবিত্তদের কাছে বিক্রি করে কিছু বাড়তি টাকা রোজগার করতে পারে, নিরুপায় – মধ্যবিত্তরাও যেন ‘দইয়ের স্বাদ ঘুলে মিটায় ‘।এবার করোনাকালের এ ঈদে গরীব, আধা-গরীবদের সেই রসনা বিলাস আদৌ কি কোন ব্যবস্হা হবে?!

কোরবানীর পশুর চামড়া সচরাচর বিভিন্ন এতিমখানায় দেয়া হয়ে থাকে। এ চামড়ার বিক্রিত অর্থে গরীব এতিমদের সারা বছরের খাবার-দাবারের সংস্হান হয়, ব্যবস্হাপনায় অনেকটা সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।কিন্তু, করোনাকালের এবারের কোরবানীতে অনিবার্য কারণেই গরীব এতিমদের সহায়তার ক্ষেত্রে হতাশাব্যঞ্জক প্রভাব পড়ার আশঙ্কার বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায়না।

বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পথে- এমন অসমর্থ কোন যুবককে যদি এমন প্রশ্ন করা হয়- “কী রে, বুড়ো হয়ে যাচ্ছিস, বিয়ে টা করছিসনা কেন”? সেই যুবকের হতাশাভরা কন্ঠে হয়তো এমন উত্তরই বেরোবে- “গরীবের আবার বিয়া “?!
ঠিক তেমনি, করোনাকালের এ ঈদে কোন গরীবকে যদি প্রশ্ন করা হয় – ” কী রে, এবারের ঈদ কোথায়, কেমনে কাটাবি “?এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো এটা-ই আসবে- “গরীবের আবার ঈদ “?!

লেখক:: মো. নুরুল হক: অবসরপ্রাপ্ত সহকারি পোস্ট মাস্টার জেনারেল বাংলাদেশ ডাক বিভাগ

Last Updated on

শেয়ার করুন
  •  
  • 135
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

সিলেটের বার্তা পরিবারঃ

এম. এ কাদির-বালাগঞ্জ প্রতিনিধি

লিটন পাঠান-মাধবপুর প্রতিনিধি

 

©সিলেটের বার্তা ২৪ কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।