মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

৪ঠা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।

সিলেটে শবে কদর পালিত

‘করোনা থেকে মুক্তি দাও মাবুদ’

সিলেটে শবে কদর পালিত

‘করোনা থেকে মুক্তি দাও মাবুদ’

“হে আল্লাহ আমাদেরকে মহামারী করোনা থেকে মুক্তি দাও মাবুদ।”

“আমাদের গোনাহ-খাতা মাফ করুন”। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস থেকে সবাইকে হেফাজত করুন আল্লাহ।”

এভাবেই মহান আল্লাহর দরবারে রোনাজারির মধ্যদিয়ে শবে কদরের আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় সিলেটের মসজিদগুলোতে।

২৭ নম্বর তারাবিতে কুরআন খতম হয়। তারাবির পর বিশেষ মোনাজাত করা হলেও ফজর এর নামাজের পর অনেক মসজিদে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে সিলেটের হযরত শাহজালাল-শাহপরাণ রহ. মাজার মসজিদ, বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, শাহ আবু তুরাব জামে মসজিদ, সিলেট কোর্ট মসজিদ, কালেক্টরেট জামে মসজিদ, নাইওরপুল জামে মসজিদ, আম্বরখানা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, টিলাগড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, শিবগঞ্জ বাজার জামে মসজিদসহ নগরীর পাড়া-মহল্লার মসজিদগুলোতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মুস্ললিরা এই গুরুত্বপূর্ণ রজনী কাটান।

রোববার (০৯ মে) রাতে সারাদেশের ন্যায় সিলেটের মসজিদে মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লির ঢল নামে। সরকারি নির্দেশনা থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনেক মুসল্লি বাসা-বাড়িতে একাকি নামাজ, এবাদত বন্দেগির মাধ্যমে শবে কদর পালন করেন।

মহিমান্বিত এই রজনীতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পবিত্র এশার নামাজ, তারাবি শেষে মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তুষ্টির্জনের জন্য নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির আজকার, কবর জেয়ারত, দান-সদকা ও এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

এর আগে পবিত্র এশা, তারাবি ও লাইলাতুল কদরের নফল নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাতে করোনাভাইরাসসহ বালা-মুসিবত থেকে মুক্তি এবং দেশ ও জাতির সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।

মোনাজাতে করোনাভাইরাস মহামারি থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করে ইমাম সাহেবানরা বলেন, হে আল্লাহ, পবিত্র রমজানের উসিলায় এই মহিমান্বিত রজনীতে তুমি আমাদের এই মহামারি থেকে মুক্তি দাও। যারা করোনায় মারা গেছেন তাদের জান্নাত নসীব করো। যারা অসুস্থ্য তাদের সুস্থ্য করে দাও। করোনা মহামারিসহ সব ধরণের বালা মুসিবত থেকে তুমি দেশ জাতি ও সারাবিশ্বকে পরিত্রাণ দাও। তুমি ছাড়া আমাদের রক্ষা করার আর কেউ নাই, তুমি একমাত্র রক্ষাকারী। আজকের এই পবিত্র রাতে তুমি আমাদের দোয়া কবুল করো। আজ রাতে দোয়া কবুল হওয়ার রাত।

মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে তাাারর বলেন, হে আল্লাহ, তুমি আমাদের রোজা, এবাদত বন্দেগি কবুল করো। আমাদের মা-বাবাসহ সকলের গুনাহ ক্ষমা করো। আমরা তওবা করছি আল্লাহ, তুমি আমাদের মাফ করো। রমজানের পর গুনাহমুক্ত জীবন-যাপনের তওফিক দাও। বাংলাদেশকে সব ধরণের অশান্তি ও ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করো।

লাইলাতুল কদর উপলক্ষে সারারাত জেগে এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তাহাজ্জুদ নামাজ, জিকির আজকার, সেহেরি-ফজরের নামাজ ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পবিত্র লাইলাতুল কদর।

শবে কদর’ হলো একটি ফারসি শব্দ। যার অর্থ মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের যে কোনও বেজোড় রাতে হতে পারে শবে কদর। এ রাতকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর সন্ধান করো। (মুসলিম)।

মাহে রমজানের এ রাতেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। তাই এ রাত সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কাছে এক পূণ্যময় ও মহিমান্বিত রাত হিসেবে বিবেচিত। ইসলাম ধর্মে এ রাতের ইবাদতকে বিশেষ তাৎপর্যময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কদরের রাতে মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই লাইলাতুল কদরের রাতটি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে অনেক ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময়। পবিত্র কোরআনে এ রাতকে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত ঘোষণা করেছেন মহান আল্লাহ। এই রাতকে কেন্দ্র করে ‘কদর’ নামে একটি সুরাও নাজিল হয়।

নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দরুদ পাঠের মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত বন্দেগি করছেন। নিজেদের গুনাহ মাফ, বরকত কামনাসহ দেশ ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনায় চোখের পানি ফেলছেন মোমিন বান্দারা।

শেয়ার করুন
  •  
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত