শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২১শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
গোয়াইনঘাটে নিখোঁজের দুই দিন পর শ্রমিকের লাশ উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

গোয়াইনঘাটে নিখোঁজের দুই দিন পর শ্রমিকের লাশ উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

গোয়াইনঘাট থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা:: সিলেটের গোয়াইনঘাটে নিখোঁজের দুই দিন পর রাসেল আহমদ (২০) নামের এক বালু শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত রাসেল সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বেতগড়া গ্রামের সবুর আলীর ছেলে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১২টায় জাফলং কান্দুবস্তির একটি পুকুরের পাশের ধানক্ষেত থেকে নিখোঁজ ওই শ্রমিকের অর্ধ্বগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত সন্ধেহে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের হাতে আটককৃতরা হলো, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর এলাকার মৃত শানুর মিয়ার পুত্র মেহেদী হাসান (২৫), একই উপজেলার আব্দুল জালাম মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম মিয়া (৩০), মো রইছ উদ্দিনের ছেলে সুলেমান মিয়া (৩৫), তরং এলাকার আব্দুস ছালামের ছেলে নজির হোসেন (২৮), এবং একই এলাকার মৃত জামাল মিয়ার ছেলে শাহিদুল ইসলাম (২৬)।

গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে কাজ শেষে রাসেল বাজারে এসে চা দোকানে টিভি দেখতে যায়। সেই সময় থেকে সে নিখোঁজ ছিলো। রে তার সাথের সুলেমান মিয়া নামের একজন তার বাবাকে মোবাইল ফোনে জানায় যে রাসেলকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ছেলের নিখোজের খবর পেয়ে রাসেলের বাবা সবুর মিয়া তাহিরপুর থেকে গোয়াইনঘাটে আসেন, এবং এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার তিনি বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানা একটি জিডি (নং৭৭১) করেন।

জাফলং থেকে বালু শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে মাঠে নামে টিম গোয়াইনঘাট থানা।

থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদসহ ব্যস্ত হয়ে উঠে পুলিশ বিভাগ। গোয়াইনঘাট থানার এস,আই মতিউর রহমানকে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। জিডি রেকর্ডের পর পরই মাঠে নামে থানা পুলিশ। উপজেলা পুলিশের সরাসরি অনুসন্ধানের পাশাপাশি চলে প্রযুক্তির মাধ্যমেও অনুসন্ধান।

শুক্রবার বেলা দুপুর ১২ টায় জিডির তদন্ত কর্মকর্তা থানার এস,আই মতিউর রহমান জাফলং মেলার মাঠের অদূরে লিটন মিয়ার কলোনিতে আসেন নিখোঁজ রাসেলের সাথের অপরাপরদের সাথে কথা বলতে। এসময় খবর বেরোয় কান্দুবস্তির একটি পুকুরের কাছাকাছি ধান ক্ষেতে একটি লাশ পড়ে আছে। তদন্ত কর্মকর্তা এস,আই মতিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে নিখোঁজ রাসেলের সাথের লোকজনকে লাশ শনাক্ত করেন।

পরে থানার সেকেন্ড অফিসার এস,আই জিশু দত্ত,এস,আই আতিকুজ্জামান জুনেল,এ,এসআই রুহুল আমিনসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। নিখোঁজ ব্যক্তিটির লাশ উদ্ধারের খবরের ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল আহাদও।

এসময় তার উপস্হিতিতে থানা পুলিশ নিহত রাসেলের লাশের প্রাথমিক সুরতাহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশটি ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. আব্দুল আহাদসহ পুলিশের একটি টিম এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে সাথের একজনকে সন্দেহ করলে তাকে আটক করেন। এরপর তার দেয়া জবানবন্দিতে তাকেসহ এই হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ মোট ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঠিক কি কারণে এ হত্যাকান্ড এমন সঠিক তাৎক্ষনিক পাওয়া না গেলেও পূর্ব বিরোধ ও আর্থিক লেনদেনর কারণে বালু শ্রমিক রাসেলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারনা করছে থানা পুলিশ।

গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদ এই ঘটনায় ৫ জনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,জাফলং থেকে বালুর শ্রমিক রাসেল নিখোজ হয় ও বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় একটি জিডি করেন তার বাবা সবুর মিয়া। এই জিডির পরিপ্রেক্ষিতে সাথে সাথে তদন্তে নামে পুলিশ। অবশেষে জাফলং মেলার মাঠের অদূরে সন্ধানকালে শুক্রবার জাফলংয়ের কান্দুবস্তির সন্নিকের একটি ধান ক্ষেত থেকে রাসেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের চোখ বিবর্ণ,বুকে আঘাতের চিহ্ন ও মাথা থেতলানোর আঘাত পরিলক্ষিত ছিলো। লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতাহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ,এবং তারা প্রাথমিকভাবে এ হত্যা কান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছে।

শেয়ার করুন
  •  
  • 43
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত