রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৭:১৩ অপরাহ্ন২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২৮শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
নাবালকের রোজা রাখার উপকারিতা ও সোয়াব

নাবালকের রোজা রাখার উপকারিতা ও সোয়াব

ইফতার নিয়ে অপেক্ষমান কিছু শিশুরা। ছবি: সংগৃহীত

ধর্মবার্তা:: রমজান মাস আসলে সেহরির সময় নাবালক শিশুরা বায়না ধরে রোজা রাখার জন্য। পরিবারের সবার সাথে সেহরি খেতে সে সারারাত অবদি জেগে থাকে। সেহরি তাকে খেতেই হবে। সবার সাথে সেও রোজা রাখবে।

সিয়াম-সাধনার মাস আসলে শিশু-কিশোরদের মাঝে দেখা যায় অন্যরকম উৎসাহ-উদ্দীপনা। যদিও ছোটদের উপর রোজা রাখা ফরজ নয়। তবে নাবালক ছোট ছোট শিশুরা আনন্দ-উৎসাহের মাধ্যমে ভোর রাতে সাহরি খায়। সারাদিন উপোস থেকে রোজা রাখে। আর এতে শিশুদের জন্য রয়েছে উপকারিতা ও সাওয়াব।

অনেক ছোট ছোট শিশুকে জোর করে দিনের বেলা খাওয়াতে হয়। শিশুরা রোজা রাখলে রয়েছে উপকারিতা ও সাওয়াব আবার রোজা রাখতে না পারলেও রয়েছে রোজা রাখায় অভ্যাস্ত হওয়ার উপকারিতা।

নাবালক শিশুর অল্প বয়স থেকে রোজার চেষ্টা করার মধ্যমে অভ্যাস গঠন অনেক বড় উপকার। আর যে কোনো ভালো কাজর চেষ্টায় রয়েছে জন্য উপকারিতা। এতে অভ্যাস গঠন হয়। বড় হলে রোজা পালনে কোনো প্রতিবন্ধতার মুখোমুখি হতে হয় না।

তবে শিশুদের মধ্যে যারা জ্ঞানবান কিন্তু রোজা রাখা ফরজ নয়, তারা যদি রোজা রাখে তবে তাদের রোজা শুদ্ধ হবে এবং তারা রোজার ঘোষিত সব ফজিলত ও সাওয়াব পাবে। রোজা রাখা নাবালক শিশুরাই সাওয়াব পাবে না বরং ভালো কাজের অভ্যাস গঠনে নির্দেশ ও সহযোগিতা করার কারণে শিশুদের বাবা-মাদের জন্যও রয়েছে সাওয়াব।

সুতরাং প্রত্যেক শিশুর অভিভাবকদের উচিত, ছোট ছোট শিশুদের মধ্যে যারা রোজা রাখতে সক্ষম কিন্তু ফরজ হয়নি তাদের রোজা রাখার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে উৎসাহ দেয় এবং রোজার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবাগণ নিজেদের নাবালক ছোট বাচ্চাদের রোজা রাখতে উদ্বুদ্ধ করতেন। উৎসাহ দিতেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত রুবাইয়ি বিনতে মুআওবিয রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার দিন সকালে মদিনার উপকন্ঠে বসবাসরত আনসারদের কাছে এ খবর পাঠালেন, যারা ফজরের আগে থেকে রোজা রেখেছে, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। আর যারা রোজা না রাখা সত্বেও ফজর অতিক্রম করেছে, সেও যেন বাকি দিন রোজা পালন করে।

সুতরাং আমরা তার পর থেকে রোজা রাখতাম এবং আমাদের ছোট ছোট শিশুদের রোজা রাখাতাম এবং তাদেরকে নিয়ে মসজিদে যেতাম। তাদের জন্য তুলা দ্বারা পুতুল বানাতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কান্না করলে তাদেরকে সেই পুতুল দিতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত।

শিশুদের ক্ষুধার কষ্ট দূর করা সম্পর্কে অন্য বর্ণনায় এসেছে- আমরা তাদেরকে সে খেলনা দিতাম, যাতে তারা (খাবারের কথা) ভুলে থাকে এবং খেলার মাঝে তাদের রোজা পূর্ণ করতে পারে।’ (মুসলিম)

সুতরাং ছোট বয়স থেকে রোজায় বাচ্ছাদের উদ্বুদ্ধ করা ইসলামে নীতি। আর তাতে যেমন রয়েছে শিশুদের উপকারিতা ও সাওয়াব। তেমনি যারা তাদের রোজার প্রতি উৎসাহ যোগায় তাদের জন্যও রয়েছে সাওয়াব।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তিকে তাদের ছোট ছোট নাবালক কিংবা জ্ঞানবান শিশুদের রোজার প্রতি আগ্রহী করে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। রোজার প্রতি আগ্রহী করে গড়ে তোলার জন্য যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত, প্রতিদান ও মর্যাদা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

শেয়ার করুন
  •  
  • 70
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত