মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

৪ঠা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
নাব্যতা সংকট: এবার নদীপথে তীব্র নৌ-জটের সৃষ্টি

নাব্যতা সংকট: এবার নদীপথে তীব্র নৌ-জটের সৃষ্টি

নাব্যতা সংকট: এবার নদীপথে তীব্র নৌ-জটের সৃষ্টি

সিলেটের বার্তা ডেস্ক:: নাব্যতা নেই। পানি শুকিয়ে মরা গাঙে পরিণত হয়েছে নদী। জাহাজ যেখানে চলতো সেখানে নৌকাও চলছে না। ফলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র নৌ-জটের।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীর দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সুলেমানপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা থেকে কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই করে নিয়ে আসা কয়েক শ নৌযান ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। পাটলাই নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে এ নৌজটের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের পাটলাই নদীর সুলেমানপুর বাঁশচাতল থেকে বোয়ালমারা পর্যন্ত কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই পাঁচ শতাধিক নৌযান আটকে আছে। এসব কয়লা ও চুনাপাথর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়ছড়া ও বাগলী শুল্কস্টেশন দিয়ে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে আমদানি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করছেন।

কয়লাবাহী নৌযান ‘রানী-১’-এর চালক মনির হোসেন বলেন, ‘নৌজটে ১৫ মিনিটের পথ ১৫ দিন ধরে আটকে আছি। আজ (গত সোমবার) হয়তো যেতে পারব।’ ‘মা-বাবার দোয়া’ নৌযানের চালক শের আলী বলেন, ‘১৫ মিনিটের রাস্তা ১২ দিন ধরে সুলেমানপুর এলাকায় আটকে আছি।’

তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা ও জেলা পরিষদের সদস্য সেলিনা আবেদীন জানান, আটকেপড়া নৌযানের সংখ্যা চার শতেরও বেশি। প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাটলাই নদীর কয়েক কিলোমিটার স্থানজুড়ে এ নৌজট সৃষ্টি হয়। ১৫ বছর ধরে নাব্যতা সংকট চললেও খননকাজ শুরু হচ্ছে না। দিন দিন নদীটির নাব্যতা কমছে। এতে দীর্ঘ হচ্ছে নৌজট। নৌজট চলাকালে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে। এ কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ে অনেক শ্রমিক।

স্থানীয় ব্যবসায়ী উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের নবাবপুর গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘নাব্যতা সংকটের কারণে সময়মতো মাল পরিবহন করা যায় না। এতে পরিবহন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পরিবহনে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে বিরক্ত হয়ে ক্রেতাদের অনেকেই তাদের অর্ডার বাতিল করে দেয়।’তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া শুল্কস্টেশন সূত্র জানায়, ব্যবসা স্বাভাবিক থাকলে এ স্টেশন থেকে প্রতিবছর শত কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। এ শুল্কস্টেশন দিয়ে ব্যবসায়ীদের আমদানি করা কয়লা ও চুনাপাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের একমাত্র পথ পাটলাই নদী। কিন্তু নাব্যতা সংকটের কারণে বছরের যে সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধির কথা তখন পরিবহনের সংকটে ব্যবসায় স্থবিরতা নেমে আসে।

স্থানীয় জন প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, নৌযান চালকরা জানান, পাটলাই নদীটির দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সুলেমানপুর বাজারসংলগ্ন বাঁশচাতল থেকে কানামুইয়া বিল পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকা। উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের টেকেরঘাট থেকে মন্দিয়াতা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলাকা খনন করলে নাব্যতা সংকট কেটে যাবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে। সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে। আর কৃষিকাজসহ নদী তীরবর্তী মানুষের জীবনমানেরও উন্নয়ন ঘটবে।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ‘প্রায় পাঁচ শতাধিক নৌযান আটকে আছে।’ তাহিরপুর থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা নৌজট কমাতে সব ধরনের চেষ্টা করছি। এরই মধ্যেই তা অনেকটাই কমেছে।’

তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব করুনা সিন্ধু রায় বাবুল বলেন প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগেই হাওরাঞ্চলে এসব নদী খনন চলছে আশা করি খনন ক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং আগামীতে এ যানজটের অবসান হবে।

আরো পড়ুন-মরা গাঙে রূপ নিয়েছে সুরমা নদী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত