মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১০:১৭ অপরাহ্ন১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৭ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
নৌকা-ধানের শীষের প্রার্থী নিয়ে কৌতুহল

নৌকা-ধানের শীষের প্রার্থী নিয়ে কৌতুহল

হবিগঞ্জ পৌরসভা দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি পৌরসভা। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এস এম কিবরিয়াসহ নানা গুণিজনের তীর্থভূমি এই হবিগঞ্জ।

আওয়ামী লীগ, বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের অভাব নেই এই এলাকায়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এই পৌরসভার নির্বাচন। এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী কানাঘোষা।

নৌকা আর ধানের শীষের প্রার্থী কে হচ্ছেন। এ নিয়ে রীতিমতো চলছে আলোচনা। ১০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

তফসীল অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২ ফেব্রুয়ারি, যাচাই-বাছাই ৪ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়ন প্রত্যাহার ১১ ফেব্রুয়ারি আর প্রতীক বরাদ্দ ১২ ফেব্রুয়ারি।

এ দিকে নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পর পরই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থীদের নিয়ে আলোচনামুখর হবিগঞ্জ পৌর শহরে। কার হাতে উঠছে নৌকা আর ধানের শীষ প্রতীক-এমন কৌতুহলি দৃষ্টি এখন পৌরবাসীর।

যদিও আলোচনায় আছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান, জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজ আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সৈয়দ কামরুল হাসান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইংল্যান্ড প্রবাসী নুর উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও পূজা উদযাপন পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শংঙ্খ শুভ্র রায়।

অপরদিকে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সমবায় বিষয়ক সম্পাদক টানা ৩ বারের নির্বাচিত সাবেক মেয়র জি কে গউছ। যদিও তিনি নির্বাচন করবেন কি-না বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট।

জি কে গউছ ছাড়া বিএনপি থেকে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়ক এম ইসলাম তরফদার তনু।
তিনি স্বতন্ত্রভাবে মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে বিগত উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন।

ওই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না পেলেও নির্বাচনের শেষদিকে জেলা বিএনপি’র সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি।
এছাড়াও বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা বিএনপি’র অপর যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক সেলিম।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামি আন্দোলনসহ ছোট-বড় বিভিন্ন দল পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারে।

এদের মধ্যে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি (ব্যকস)
এর দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি শামছুল হুদা।

এছাড়াও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন জেলা জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক ও জাপা নেতা অ্যাডভোকেট শিবলী খায়ের।
তবে মূল আলোচনা-সমালোচনা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থীকে ঘিরেই। সর্বত্র এখন একই প্রশ্ন- কে হচ্ছেন ধান-নৌকার কান্ডারী?
সচেতন মহলের ধারণা, মূলত এবার তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই মেয়র বাছাই করবেন পৌরবাসী।
এগুলো হল, ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং স্পট, জলাবদ্ধতা ও যানজট।

বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান জলাবদ্ধতা নিয়ে কিছু কাজ করলেও ডাম্পিং স্পট স্থাপন ও যানজট নিরসনের বিষয়টি ঝুলেই আছে।
উপ-নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর স্বল্প সময়ে মেয়র মিজান শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ন বিভিন্ন ড্রেন সংস্কারসহ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহন করেন। এর ফলে স্থায়ী সমাধান না হলেও গেল বর্ষায় জলাবদ্ধতা কিছুটা হলেও হ্রাস পায়। তবে যানজট নিরসনে ফলপ্রসু কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।

আগে থেকেই হবিগঞ্জ শহরে ধারণ ক্ষমতার বেশি টমটম চলাচল করছিল। যে কারণে শহরে যানজটের সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করে।
বর্তমানে নতুন করে শতাধিক টমটমের লাইসেন্স দেয়ায় হবিগঞ্জ এখন টমটমের শহরে পরিণত হয়েছে। তবে অনেকেই আবার এমনও বলছেন স্বল্প সময়ে জটিল বিষয়ে মাষ্টার প্ল্যান তৈরি অনেকটাই দুরুহ ব্যাপার।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনিত প্রার্থী জি কে গউছ কারাগার থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে
১০ হাজার ৭শত ৯৭ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (বর্তমান মেয়র) মিজানুর রহমান মিজান নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৯হাজার ২শ’ ৬৪ ভোট পেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।

হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে জি কে গউছ পদত্যাগ করলে মেয়র পদটি শূণ্য হয়।
২০১৯ সালের ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। ওই নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১৩ হাজার ২শত ৮।

নিকটতম প্রার্থী হিসেবে (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু নারিকেল গাছ প্রতীকে পান ৫ হাজার ৫শত ৮৭ ভোট। এছাড়াও ওই নির্বাচনে জেলা বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এম ইসলাম তরফদার তনু মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে পান ১ হাজার ৪৭ ভোট।

১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের হবিগঞ্জ পৌরসভা বর্তমানে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদায় উন্নীত। লক্ষাধিক জনসংখ্যার এ পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার।

শেয়ার করুন
  •  
  • 56
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত