মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২৪শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
পানি সঙ্কট তবুও গোয়াইনঘাটে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালো বোরোধানের ফলন

পানি সঙ্কট তবুও গোয়াইনঘাটে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালো বোরোধানের ফলন

সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা গোয়াইনঘাটে তীব্র হয়ে দাঁড়িয়েছে পানি সঙ্কট। কৃষান-কৃষানীরা প্রতিনিয়ত পানির হাহাকারের মাঝে বোরো মাঠেই ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

গোয়াইনঘাটে এবার বোরোধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮হাজার ১শত ২৫ হেক্টর। ইতোমধ্যে এই লক্ষমাত্রা অতিক্রম করে ৯হাজার ৫শত হেক্টর ছাড়িয়েছে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের সার্বিক তথ্যাবদানে সবকটি ইউনিয়নেই চলছে বোরো ধান রোপনের ব্যতিব্যস্ততা। বীজতলা থেকে চারা এনে তা রোপনে ব্যস্ত কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে গোয়াইনঘাটে এবারের বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা ছিলো ৮ হাজার ১শত ২৫ হেক্টর।

বীজতলার লক্ষমাত্রা ছিলো ৬শত ২৫ হেক্টর। কিন্তু বাস্তবে তা ছাড়িয়েছে ৯ হাজার ৫শত হেক্টরেরও বেশি। বোরো ব্রি ২৮,২৯,৮১,৮৯,৯২ ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের ধান রোপন হচ্ছে চলতি বোরো মৌসুমে। মামলার কারণে আইনী জটিলতায় উপজেলার সবকটি পাথর কোয়ারীর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রবিশষ্যের ন্যায় এবারের বোরো ধানের মৌসুমেও ব্যাপক চাষাবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গোয়াইনঘাটে বোরো চাষ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেলেও রোপায়িত ফসলের ফলন নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে কৃষকদের ঘরে ঘরে। উপজেলার সবকটি হাওর নি¤œাঞ্চলের খালবিল শুকিয়ে যাওয়ায় মারাত্মক পানি সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। সরজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায় উপজেলার বেশিরভাগ সমুহে খালবিলগুলো শুকিয়ে চৌচির।

অগণিত জলাশয়ে শ্যালো মেশিন লাগিয়ে ফিশিং করার কারণেও পানি শূন্যতার কারণ বলে জানান কৃষকরা। নাম না প্রকাশের শর্তে অনেক কৃষকরা জানান,মৎস্য আহরণকালে শ্যালো মেশিনসহ যান্ত্রিক পদ্ধতির ব্যবহার আইনত দন্ডনীয় হলেও কে শুনে কার কথা!। তারা অভিযোগ করেন মূলত এসব দেখার বা তদারকির জন্য যারা আছেন তাদের নিরবতার কারণেও হাওর,বিল জলাশয় সমুহের পানি শূন্যতার বড় কারণ। গোয়াইনঘাটে বোরো ও রবি মৌসুমে কৃষকের পানি সেচের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত স্ল্চুগেট সমুহের বেশিরভাগই পরিত্যাক্ত হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় স্থানে স্থাপন না করে অন্যত্র পরিকল্পনাহীনভাবে স্থাপন আবার কোথাও কোথাও খাল,নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বিলীন হতে চলেছে এসব স্লুইচগেট সমুহ।

সম্প্রতি গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের তারুখালের কৃষকদের রোপায়িত শাক সবজির মাঠ পরিদর্শনে যান। এ সময় স্থানীয় কৃষকরা চাষাবাদে সেচের পানি সরবরাহ নিশ্চিত কল্পে তারুখালে একটি স্লুইচগেট স্থাপনের অনুরোধ করলে তিনি তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন এবং তার প্রয়োজনীয়তাসহ স্থানীয় কৃষি বিপ্লবের অপার সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সুলতান আলী জানান,এবার উপজেলায় গোয়াইনঘাটে এবারের বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা ছিলো ৮ হাজার ১শত ২৫ হেক্টর ও বীজতলার লক্ষমাত্রা ছিলো ৬শত ২৫হেক্টর। কিন্তু বাস্তবে তা ছাড়িয়েছে ৯ হাজার ৫শত হেক্টরেরও বেশি। এখনো তা চলমান রয়েছে।

ব্রি ২৮,২৯,৮১,৮৯,৯২ ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের ধান রোপন হচ্ছে । ভালো ফলনের জন্য এখন পানির প্রয়োজন। বিভিন্ন স্থানে পানির সংকটে সেচ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বৃষ্টি বা পানি না পেলে রোপায়িত বোরো ধানের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন,সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় গিয়ে সেবা দিচ্ছে। সার,বীজ,প্রনোদনা এমনকি সহজ শর্তে কৃষি ঋণ দিয়ে কৃষকের পাশে আছে সরকার। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গোয়াইনঘাটের কৃষকরা সব সময় বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন।

পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের তারুখালে রবি ও বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধার্থে তারুখালে একটি স্লুইচগেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। উপজেলার কৃষকদের কল্যানে সেবার মানসিকতা নিয়ে সরকার ও প্রশাসন সব সময় পাশে থাকবে।

শেয়ার করুন
  •  
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত