রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৫ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
ফেঞ্চুগঞ্জে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি এখনো

ফেঞ্চুগঞ্জে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি এখনো

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার ২০ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি এখনো।

সিলেট-আখাউড়া রুটে আজ শুক্রবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা পর্যন্ত এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারী) ভোরে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে যাওয়া ১০টি বগির মধ্যে ১টি বগি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও ছিটকে পড়া ৯টি বগি উদ্ধারে কাজ করছে ৬টি সংস্থা।

তবে শুক্রবার রাতের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিলেন বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) সাদেকুর রহমান। এ দুর্ঘটনায় মাটি ও পানিতে ভেসে গেল দু’লক্ষাধিক লিটার জ্বালানি তল। তবে দুর্ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি।

জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ৯৫১ নং তেলবাহী ট্রেন ১০টি বগি নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে আসছিল। বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারী) রাত পৌনে ১২টার দিকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণে কায়স্থগ্রাম এলাকার গুতিগাঁওয়ে ১০টি তেলের বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে যায়। এ ঘটনায় মাইজগাঁও স্টেশনে আটকা পড়ে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সমসু মিয়া জানান, বিকট শব্দে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখেন তেলবাহী ট্রেন পড়ে আছে। তখন তিনি পরিচিত একজনকে ফোনে মাইজগাঁও স্টেশন মাস্টারকে বিষয়টি জানাতে বলেন। এ সময় ৫টি বগি থেকে তেল মাটিতে পড়তে থাকে, এমনকি পার্শ্ববর্তী ডোবা নালায় ভাসতে থাকে তেল। এ ঘটনায় এলাকায় আতংক দেখা দেয় অগ্নীকান্ডের। অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ড ঠেকাতে মানুষের নিরাপত্তার জন্য এলাকার মসজিদে মাইকিং করান স্থানীয়রা।

তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার পুলিশ ও ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় এক প্রতিক্রিয়ায় মাইজগাঁও স্টেশনের কর্তব্যরত মাস্টার পার্থ তালুকদার জানন, মাইজগাঁও স্টেশনে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ায় জনরোষে পড়েতে হয় তাকে। পরে ট্রেনটি পুণরায় সিলেটে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

এদিকে লাইনচ্যুত হওয়া বগিগুলোর মধ্যে ৫টি থেকে পড়ে যাওয়া তেল সংগ্রহে হুমড়ি খেয়ে পড়েন স্থানীয়রা। দুর্ঘটনার পর থেকে শুক্রবার সারাদিন তেল সংগ্রহ ব্যাস্থ থাকতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

জানা যায়, এ দুর্ঘটনার প্রায় ৭’শ মিটার রেললাইন এবং দু’লক্ষাধিক লিটার জ্বালানি তেলের ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
এদিকে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ জানতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তা মোঃ খাইরুল কবিরকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি কমিটি গঠন করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করে ডিআরএম সাদেকুর রহমান জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে তবে লাইনচ্যুতকৃত বগি উদ্ধারকাজ শেষ হলেই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করবে বলে জানান তিনি।

৬ টি টিমে প্রায় ২ শতাধিক শ্রমিক মাঠে কাজ করছে এবং শুক্রবার রাতের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে বলে জানালেন রেলওয়ের এই বিভাগীয় কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন
  •  
  • 22
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত