বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন২১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৪ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

নোটিশঃ
★করোনাভাইরাস থেকে হেফাজত থাকতে পড়ুন-'লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা, ইন্নি কুনতু মিনায যোয়ালিমীন'।। ★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
মুজিববর্ষ ও এমপিও শিক্ষকদের প্রত্যাশা

মুজিববর্ষ ও এমপিও শিক্ষকদের প্রত্যাশা

আলমগীর কবির :পিতা-মাতা সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে থাকে। কবে তার উচ্চশিক্ষিত সন্তান পরিবারের হাল ধরবে। কবে অভাবের সংসারে সুখের আলোর দেখা মিলবে। স্ত্রীর চাহিদা, সন্তানের বায়না কোনোটিই নন-এমপিও শিক্ষকের দ্বারা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কী অসহায় নন-এমপিও শিক্ষকসমাজ। বছরের পর বছর শিক্ষার আলো জ্বালানোর পরও তাদের ঘরে সুখের আলো জ্বলছে না। তারা অভাব নামের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বেঁচে আছে জিন্দা লাশ হয়ে।

বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। মধ্যম আয়ের দেশ। সব সেক্টরে উন্নয়নের অভূতপূর্ব ছোঁয়া লেগেছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে আজ ১৯০৯ মার্কিন ডলার। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

কিন্তু আজও একশ্রেণির উচ্চশিক্ষিত মানুষ বিনা বেতনে, বিনা পারিশ্রমিকে বছরের পর বছর দেশে শিক্ষার আলো বিলিয়ে যাচ্ছেন। বিনিময়ে তারা কিছুই পাচ্ছেন না রাষ্ট্র থেকে। তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।

পড়ালেখার পাঠ শেষ করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে তারা আজ বিনা বেতনের কর্মচারী! জীবন ধারণের জন্য সামান্য সুযোগ-সুবিধাটুকু রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাচ্ছেন না তারা। উচ্চশিক্ষিত হয়েও তাদের পরিবারের বোঝা হয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। পরিবারের ন্যূনতম দায়িত্বটুকু তারা পালন করতে পারছেন না।

অভাবের যাতনায় পেটের ক্ষুধা, মনের অশান্তি, মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে এ শিক্ষকদের মেধা-বুদ্ধি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। ক্ষুধার্ত শিক্ষকসমাজ আজ জাতিকে কী উপহার দেবে? যাদের সবচেয়ে ভালো থাকার কথা, তারাই আজ সবচেয়ে বড় অসহায়।

বিজয়ের আনন্দ, ঈদ, পূজাসহ সব আচার-অনুষ্ঠান উদ্যাপন করার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে কী নিয়ে আনন্দ করবে নন-এমপিও শিক্ষকসমাজ? কীভাবে উদ্যাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। রাষ্ট্রের কাছে আজ তারা স্বীকৃতিহীন শিক্ষক। বিনা বেতনের শিক্ষার সেবক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ইতিমধ্যে ২৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। অল্পসংখ্যক শিক্ষকের মুখে হাসি ফোটানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। মুজিববর্ষের শুরুতেই যদি অবশিষ্ট নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হয় তাহলে সব শিক্ষকের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফুটবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি মানবতার মা, আপনি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা। বিশ্বব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নেয়ার পরও আপনার নেতৃত্বে দেশের নিজস্ব অর্থায়নে গৃহীত পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প আজ সমাপ্তির পথে। আপনি আপনার সততা, পরিশ্রম, মেধা ও বুদ্ধি দিয়ে বাংলাদেশকে আপনার পিতার মতো বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অবশিষ্ট নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করে মুজিববষের্র আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার সুযোগ করে দিন আমাদের। মুজিববর্ষে এটাই নন-এমপিও শিক্ষকদের প্রত্যাশা।

আলমগীর কবির : প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, কামালের পাড়া কলেজ, সাঘাটা, গাইবান্ধা

Last Updated on

শেয়ার করুন
  •  
  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

সিলেটের বার্তা পরিবারঃ

এম. এ কাদির-বালাগঞ্জ প্রতিনিধি

লিটন পাঠান-মাধবপুর প্রতিনিধি

 

©সিলেটের বার্তা ২৪ কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।