শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২রা জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★করোনাভাইরাস থেকে হেফাজত থাকতে পড়ুন-'লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা, ইন্নি কুনতু মিনায যোয়ালিমীন'।। ★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
রাতের সিলেটে দানব: জোরালো হচ্ছে ট্রাক চলাচল নিষেধের দাবি

রাতের সিলেটে দানব: জোরালো হচ্ছে ট্রাক চলাচল নিষেধের দাবি

সিলেটে নগরীতে ট্রাক চলাচল নিষেধের দাবিটি জোরালো হতে চলেছে। সেই দাবিটি রাজপথের আন্দোলনে রূপ নিতেই পাতে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) রাতে পাথরবোঝাই দানবরূপী ট্রাক কেড়ে নিয়েছে তরতাজা দুই যুবকের প্রাণ। এই ঘটনায় স্থানীয় জনতা সড়ক অবরোধ করে দেয়। অগ্নিসংযোগ করে ৩টি ট্রাকে।

তাৎক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু বিশিষ্টজনেরা।

এই রাতই শুধু নয় এর এক দিন আগে শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় নগরীর খাসবদির এলাকায় কুটি মিয়া নামের এক যুবককে চাপা দেয় বেপরোয়া একটি ট্রাক।

ওইদিন আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন স্থানীয় জনতা।

এনিয়ে একদিনের ব্যবধানে মোট ৩জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশী শক্তিশালী প্লাটফর্ম। যেখান থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন, মত প্রকাশ সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কর্ণকুহরে পৌঁছে আর আসে সুন্দর সমাধান।

পাঠকদের জন্য ফেসবুকে পোস্ট করা বিশিষ্টজনদের লেখা হু-বহু তুলে ধরা হল।

★সিলেটের ডাকের বিভাগীয় সম্পাদক ফায়যুর রহমান লিখেছেন-সিলেট নগরীতে পাথরবাহী ট্রাক ঢোকা নিষিদ্ধ হোক। মানুষের প্রাণের নিরাপত্তা ও নগরের যানজট লাঘবে ট্রাকের জন্য বাইপাস সড়ক হোক।

ফ্যাক্ট : নগরে ট্রাকের চাপায় আবারও দুজনের মৃত্যু…

★পরিবেশবাদি নেতা আব্দুল করিম কীম লিখেন-ট্রাকে করে সিলেট থেকে পাথর যাবে দেশের সব প্রান্তে। সড়ক-মহাসড়ক হবে কিন্তু সিলেট নগরীর জন্য বাইপাস হবে না। একপাল মন্ত্রী শুধু নামেই আছে।

ট্রাকের নিচে আবার মৃত্যু…

★সাংবাদিক সালমান ফরিদ লিখেছেন-
সিলেট শহরে রাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখুন
——————————————————————————

কোম্পানীগঞ্জ থেকে বালু ও পাথর নিয়ে ট্রাকগুলো সিলেট মহানগরীর খাসদবীর, আম্বরখানা, সুবিদবাজার, মদিনা মার্কেট হয়ে হাইওয়েতে গিয়ে ওঠে। সারাদিন ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলেও সেগুলো রাত ৮টা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

সারাদিন অপেক্ষার পর ছাড়া পেয়ে ট্রাকচালকরা হয়ে উঠেন বেপরোয়া। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্থতম এই পথগুলো দিয়ে যাবার সময় তারা প্রায়সই চাপা দেয় কার, মটর সাইকেল বা রিক্সাযাত্রী ও পথচারীদের। গতকালও সুবিদবাজার এলাকায় এমন ঘটনায় মারা গেছেন ২ যুবক। এর কয়েকদিন আগে খাসদবীরে মারা যান আরও একজন। নিকট অতীতের বাইরে আরও ঘটনা আছে এমন!

ফলে রীতিমতো এ সড়ক পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। এর কারণ ট্রাক। রাত ৮টায় ট্রাক চলাচল উন্মুক্ত করে দেবার পরই ঘটে দুর্ঘটনা। এটি রোধ করা দরকার এবং বিশ্বাস করুন, তা সম্ভব।

প্রথমত এর জন্য শহরের ভেতর দিয়ে ট্রাক চলাচল বেশিরভাগ সময়ের জন্য বন্ধ করে দিতে হবে। যেহেতু এখন বিকল্প পথ নেই তাই ট্রাক চলাচল আরও সীমিত করে আনতে হবে। সিলেট শহরে রাত ৮-৯টার পর থেকে মানুষ অফিস-ব্যবসা শেষে বাসায় ফেরেন। তাই এসময় কিউ হয় বেশি। অথচ এসময়ই ট্রাক ছেড়ে দেয়া হয়। দুর্ঘটনা রোধ করতে চাইলে এই সময় কোনোভাবেই শহরে ট্রাক প্রবেশ করতে পারবে না। মানুষের চলাচল রাত ১২টার মধ্যে প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসে৷ তাই রাত ১২টার আগে যাতে ট্রাক শহরে প্রবেশ না করে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। রাত ১২ টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত শহরে ট্রাক চলাচলের সুযোগ দেয়া যেতে পারে। এতে ট্রাকের কারণে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে। চাঁদার লোভে যেন তা ব্যহত না হয়!

দ্বিতীয়ত শহরের ভেতরে প্রবেশ না করে যাতে কোম্পানিগঞ্জের বালু-পাথর বোঝাই ট্রাকগুলো হাইওয়েতে গিয়ে উঠতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য বিমানবন্দর-বাদাঘাট-তেমুখী হয়ে বাইপাস দিয়ে হাইওয়েতে চলে যাবার জন্য যে প্লান করা হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু সেই রাস্তাও যেন মরণফাঁদ না হয়, সেজন্য চার বা ছয় লেনের সড়ক করতে হবে।

আশা করছি, সরকারের সড়ক বিভাগ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিবে। জনস্বার্থে বিষয়টি ভাবা যেতেই পারে।

★সাংবাদিক জিকরুল ইসলাম লিখেছেন-আর কত প্রাণ গেলে ট্রাক চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা নির্মাণ হবে।

আধ্যাত্মিক নগরীর সড়কগুলো নিরাপদ নয়।

শেয়ার করুন
  •  
  • 142
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত