বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

৫ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

নোটিশঃ
★করোনাভাইরাস থেকে হেফাজত থাকতে পড়ুন-'লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা, ইন্নি কুনতু মিনায যোয়ালিমীন'।। ★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
সংসারের গ্লানি মুছতে সুকন্তের জীবন যুদ্ধ, উপহার পেলেন বাইসাইকেল

সংসারের গ্লানি মুছতে সুকন্তের জীবন যুদ্ধ, উপহার পেলেন বাইসাইকেল

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ থেকে:: মা-বাবা নেই। সংসারের বড় মেয়ে। অভাব-অনটনের সংসার। সংসারের গ্লানি মুছনে করে যাচ্ছেন জীবন যুদ্ধ। জীবনযুদ্ধে কিছুটা লাঘব করতে এক হৃদয়বান ব্যক্তি এগিয়ে এসেছেন তার পাশে।

সম্প্রতি এক মধ্যবয়সী কুমারী নারীকে নিয়ে সুকন্তর জীবন সংগ্রাম শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর এক হৃদয়বান ব্যক্তি সুকন্ত তন্তবায়ের হাতে একটি নতুন বাইসাইকেল তুলে দিয়েছেন। সোমবার (২৪-আগস্ট) বিকালে ঢাকা দক্ষিন কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ এলাকার বাসিন্দা, বর্তমানে কুমিল্লা ক্যান্টমেন্টে বসবাসকারী আলমগীর হোসেন নামে ওই ব্যক্তি সাংবাদিক মোহা. অলিদ মিয়াকে সাথে নিয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুরে সুরমা চা বাগানের ১০নং সেকশনে সুকন্তের বাড়ীতে যান।

সুকন্তের জন্য নিয়ে আসা নতুন হিরো সাইকেল ও তার হাতে নগদ কিছু টাকা তুলে দেন। এসময় সুকন্তের ছোটভাই নয়ন তন্তবায়, বাগান পঞ্চায়েত নেতা স্বপন তন্তবায় ও সুধাম তন্তবায় সাইকেল দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নতুন সাইকেল পেয়ে সুকন্ত ও ছোটভাই বোন মহা খুশি। সুকন্ত তন্তবায় মাধবপুরের সুরমা চা বাগানের ১০নং সেকশনের বাসিন্দা। আরো দশটা নারীর মত গৃহ কিংবা অন্যসব মেয়েলি কাজে নিয়োজিত হতে না পেরে নারীত্বের শৃঙ্খল ভেঙ্গে সাইকেলের হাতল ও প্যাডেল চেপে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন।

বাবা মনিন্দ্র তন্তবায় ও মা লক্ষী তন্তবায় এর সংসারের বড় মেয়ে সুকান্ত তন্তবায়। জ্যোশ্না তন্তবায় ও সুমিত্রা তন্তবায় নামে ছোট দুটি বোন রয়েছে তার। একমাত্র ভাই নয়ন তন্তবায়সহ পরিবারের সদস্য ৪জন। প্রায় ৬ বৎসর আগে কিছু দিন ব্যবধানে পিতা মাতা উভয় মারা যায় সুকন্তের। ছোট বোন জ্যোশ্নাকে বিয়ে দিলেও সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে নিজেকে কারো ঘরের ঘরনি ভাবার স্বপ্ন দেখার সময় পাননি ২১ বছরের সুকন্ত।

জীবন ও জীবিকার তাগিদে পুরুষ-মহিলা কোন অনুভূতিই মাথায় আসেনা তার। ছোট ভাই বোন নিয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাটাই একমাত্র উপলব্ধি। একমাত্র ভাই নয়ন তন্ত বায় এর চা বাগানে দৈনিক ১০২টাকা বেতনের কাজে পরিবারের ভরনপোষন সম্ভব হয়না বলেই জীবন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ছোট বেলায় শখের বসে লব্দ করা দ্বিচক্রযান চালানো জীবনের মাঝপথে জীবন বাচানোর।

সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ন অংশে পরিনত হয়েছে। লাকড়ি কাটার দা’টি নিজের থাকলেও সুকান্ত ও তার কুড়ায়িত লাকড়ি বহনের দুই চাকার সাইকেলটি নিজের না। জেঠা (বাবার বড় ভাই) স্বরবিন্দু তন্তবায় এর সাইকেটি চেয়ে নিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭কি.মি. প্যাডেল মেরে মাহঝিল এলাকায় গিয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লাকড়ি কুড়িয়ে সাইকেলের পিছনে বেধে সাইকেল চালিয়ে বাজারে এনে বিক্রি করত। সংগ্রহীত লাকড়ি ১শ থেকে সর্বোচ্চ ১২০টাকা বিক্রি করতে পারে।

Last Updated on

শেয়ার করুন
  •  
  • 61
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

সিলেটের বার্তা পরিবারঃ

এম. এ কাদির-বালাগঞ্জ প্রতিনিধি

লিটন পাঠান-মাধবপুর প্রতিনিধি

 

©সিলেটের বার্তা ২৪ কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।