মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

৪ঠা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
সিলেটে সরকারি জলমহাল থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ লুট

সিলেটে সরকারি জলমহাল থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ লুট

সিলেটের বার্তা ডেস্ক:: সিলেটে সরকারি জলমহাল থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ লুটের ঘটনা ঘটেছে। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নে এ ঘটনাটি ঘটে।

সরকারি ইজারাকৃত পাতনীখাল জলমহাল থেকে মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীরা।

এক ঘটনায় ২টি গ্রুপ মুখোমুখি রয়েছে। বৈধভাবে ইজারা নিয়েও উক্ত পাতনীখালের মৎস্য মহলের ফিশিং করতে না পারায় বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে পাতনীখালের ইজারাদার বিলাল উদ্দিন ও অপরাপর অংশীদার ব্যবসারী।

ইতিপূর্বে কয়েক দফা ফিশিং করে উক্ত জল মহাল থেকে অর্ন্তত ১০লক্ষ টাকার বেশি মাছ লুট করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। বৈধ ইজারাদাররা মাছ ফিশিং করতে গেলে বাঁধা দেয় কাঠালকান্দি গ্রামের সঙ্গোবদ্ধ একটি সন্ত্রাসী চক্র।

চক্রটি মাছ লুটের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসাবে গত ২১ শে মার্চ ইজারাদারদের উপর আক্রমণ করে প্রকাশ্য জোর পূর্বকভাবে জাল ফেলে ১০লক্ষ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসী ঐ চক্রটি।

এ ঘটনায় ইজারাদার বিলাল উদ্দিন গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের সহযোগিতা চাইলে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৎস্য লুটে নিয়োজিত ২টি জাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের পাতনীখালের ইজারাদার পাতনী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতিসহ সকল সদস্যবৃন্দ বিগত ০৭ জানুয়ারী দুপুরে তাদের ইজারাকৃত পাতনীখালের মাছ আহরণের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও জাল নিয়ে অবস্থান করেন।

যাবতীয় প্রস্তুতি শেষে মাছ আহরণের জন্য পাতনীখালের পানিতে জাল ফেললে পার্শ্ববর্তী কাঠালকান্দি গ্রামের সন্ত্রাসী শফিক মিয়ার ছেলে আছরব আলী (৩০),আব্দুল আলীর ছেলে মনির উদ্দিন (২২), ইউনুছ আলীর ছেলে আম্বর আলী (২২), মৃত মনেহর আলীর ছেলে ইন্তাজ আলী (৫০), মজম্মিল আলী (৫০), পিতা- অজ্ঞাত, মজু মিয়র ছেলে আঙ্গুর মিয়া (৪৫), হায়দর আলী (৩২), হাসন আলী (৩৫), আজর আলী, সৈয়দ আলীর ছেলে আরমান (৪৫) এবং গুজারকান্দি গ্রামের মনাফ মিয়ার ছেলে রাজ্জাক (৪০) সহ কয়েক শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হইয়া ইজারাদার ও তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের উপর অতর্কিত হামলা করে ইজারদারসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বর আহত করে। এমন খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুস সাকিব ও থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদসহ অর্ধ শতাধিক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল পরির্দশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনায় ইজারা পক্ষ গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করলে আসামী পক্ষ জামিনে বের হয়ে গত ২১ শে মার্চ-২০২০ শনিবার দিনের বেলায় ইজারাকৃত নদীতে জাল ফেলে জোর পূর্বকভাবে আনুমানিক ১০লক্ষ টাকার মাছ আহরণ করে নিয়ে যায়। জোর পূর্বক মাছ আহরণের বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করিলে পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে পাতনীখাল থেকে ৬০/৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২টি জাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে ইজারাদার বিলাল উদ্দিন জানান, সাবেক গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার পাল সরকারি বিধি মোতাবেক ২৭ মার্চ ১লক্ষ ৩৭হাজার টাকা মূল্য পাতনী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ বিলাল উদ্দিনের অনুকুলে পাতনীখাল জলমহাল ইজারা প্রদান করেন।

আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, গোয়াইনঘাট থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বৈধভাবে পাতনীখালের ইজারা গ্রহণ করেছি। এরপর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা পাতনীখাল জলমহালটি সমিতিকে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু আমরা বৈধ উপায়ে ইজারা গ্রহণ করেও কাঠালকান্দির একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে মাছ আহরণ করতে পারছি না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও গোয়াইনঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ দ্বয়কে আমরা একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তারপরেও আমাদের বৈধ ইজারাকৃত পাতনীখালে গোপনে এবং প্রকাশেও মাছ লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে মহলটি।

এতে বাঁধা দিলে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদ বলেন,পাতনীখালের ইজারাদারদের উপর মৎস্য লোটরা একাধিকবার আক্রমণ করেছে।

সেই সাথে রাত এবং দিনের বেলায় মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ২১ মার্চ ২০২০ শনিবার মাছ লুটের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২টি জাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুস সাকিব বলেন, সরকারের নিয়মনীতি যথাযথভাবে পালনের মধ্য দিয়ে পাতনী খালের ইজারা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু একটি পক্ষ বৈধ ইজারাদারকে মাছ আহরণে বাঁধা দিচ্ছে।

এমন ঘটনায় থানা পুলিশকে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাহাব উদ্দিন শিহাব প্রতিবেদককে জানান,সরকারি নিয়মনীতি অবলম্বন করে দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা প্রশাসন পাতনীখাল জল মহালটি ইজারা দিয়ে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও ইজারা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু একটি জলমহল বৈধ ইজারাদারদের একাধিকবার বাঁধা দিচ্ছেই সাথে প্রকাশ্যে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে এমন খবর আমিও একাধিকবার শুনেছি।

শেয়ার করুন
  •  
  • 141
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত