বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৯শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
‘সিলেটে সিরিজ বোমা হামলায় কেঁপে ওঠলো ২৯ এলাকা’

‘সিলেটে সিরিজ বোমা হামলায় কেঁপে ওঠলো ২৯ এলাকা’

সিলেটের বার্তা প্রতিবেদন:: সিরিজ বোমা হামলায় মুহুর্তেই কেঁপে ওঠলো সিলেটের ২৯টি এলাকা। চোখের পলকের সাথে বদলে যায় পুরো সিলেট বিভাগের দৃশ্য। ওইদিন আধ্যত্মিক রাজধানী সিলেটে কেউ প্রাণ না হারালেও আহত হয়েছিলেন ১৫ জন।

আজ সেই সিরিজ বোমা হামলার ১৫ বছর। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, এই দিনে জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামের একটি জঙ্গী সংগঠন পরিকল্পিতভাবে একই সময়ে সেদিন একযোগে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠেছিলো সিলেট বিভাগের ২৯টি স্থান। সারাদেশের মতো সিলেটের চার জেলাকেও জঙ্গিরা টার্গেট করেছিলো সেদিন। তবে দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেটে ওইদিন কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। আহত হয়েছিলেন ১৫ জন।

ওই দিন বেলা সোয়া ১১টায় সিলেটের ৪টিসহ দেশের ৬৩ জেলার গুরুত্বপূর্ণ ৪৫০টি স্থানে প্রায় পাঁচশ বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এই হামলায় নিহত হন দুজন এবং আহত হন শতাধিক ব্যক্তি। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় ১৬১টি মামলা দায়ের করা হয়।

আদালত ও সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জেএমরি জঙ্গিরা সারাদেশের মতো সিলেটে ১৩টি, সুনামগঞ্জে পাঁচটি, হবিগঞ্জে পাঁচটি ও মৌলভীবাজারে পাঁচটিসহ মোট ২৯টি স্থানে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বোমা বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে সিলেটের আদালতপাড়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ জণগুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
সেদিন সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে সিলেট নগরীর আদালতপাড়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিঁড়ির নিচ, শাহী ঈদগাহ, নয়াসড়ক, কদমতলী বাস টার্মিনাল, লামাবাজারের একটি নার্সারিসহ ১৩টি এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা।

এ সকল স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও ওইদিনের বোমা হামলায় সিলেটে কেউ মারা যাননি। তবে পথচারি, নার্সারি মালিক ও আদালতে আগত ও হকারসহ ১৫ জন লোক আহত হয়েছিলেন।

পরবর্তীতে প্রতিটি বোমা হামলার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতায় বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা করে পুলিশ। সিলেট বিভাগের চার জেলায় দায়ের করা হয় ২৯টি মামলা। এর মধ্যে বেশিরভাগ মামলারই বিচার কাজ শেষ হয়নি দীর্ঘ ১৫ বছরেও। অধিকাংশ মামলাই বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

সবগুলো মামলার চার্জশিট পুলিশ আদালতে দাখিল করলেও বেশ কয়েকটি মামলার এখনো অভিযোগ গঠন হয়নি। আবার বেশিরভাগ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জে দায়ের করা ছয় মামলার মধ্যে একটি মামলার রায়ে আদালত জেএমবির দুই জঙ্গিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।
সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলার চার্জগঠন হয় ২০১৪ সালের ২৭ মে।

হবিগঞ্জের পাঁচটি স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিচারাধীন আছে। ২০১৪ সালের ৩ জুন থেকে মামলাগুলোর বিচারকাজ শুরু হয়।
মৌলভীবাজার জেলায়ও পাঁচটি স্থানে বোমা হামলার ঘটনায় পৃথকভাবে দায়ের করা মামলাগুলো এখন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। ২০১৪ সালের ৩ জুলাই থেকে বিচার কাজ শুরু হয়।

আতঙ্ক ছড়ানো এই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সিলেটে দায়েকৃত মামলার অন্যতম আসামিরা হলেন- জেএমবির সদস্য আবদুল আজিজ ওরফে হানিফ ও সায়েদুল ইসলাম ওরফে হৃদয়।

হবিগঞ্জের পাঁচ মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- জেএমবির শীর্ষ জঙ্গি সাইদুর রহমান, সদস্য আবদুল আজিজ হানিফ ওরফে আজিজুল ইসলাম, সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন, এএইচএম শামীম, বেলাল হোসেন তানিম, ওবায়দুল্লাহ ওরফে সুমন ওরফে হাফেজ হুজাইফা এবং মৌলভীবাজারে পাঁচ মামলায় অন্যতম দুই আসামি জেএমবি সদস্য আবদুল্লাহ আল মুরাদ ও কামাল উদ্দিন।

শেয়ার করুন
  •  
  • 36
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত