বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ০২:০০ পূর্বাহ্ন২১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৪ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

নোটিশঃ
★করোনাভাইরাস থেকে হেফাজত থাকতে পড়ুন-'লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা, ইন্নি কুনতু মিনায যোয়ালিমীন'।। ★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
স্বল্প সময়ে দুই মামলার রায়: সব অপরাধেরই দ্রুত বিচার দরকার

স্বল্প সময়ে দুই মামলার রায়: সব অপরাধেরই দ্রুত বিচার দরকার

বৃহস্পতিবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় বেরিয়েছে। একটি ছিল আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলা, অন্যটি ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা।
প্রথমটিতে লিটন হত্যার দায়ে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ৮ আসামির ৭ জনের বিরুদ্ধেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন, বাকি একজন ইতিমধ্যেই মারা গেছেন। দ্বিতীয় মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ৮ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার চাঞ্চল্যকর হলি আর্টিজানের মর্মান্তিক জঙ্গি হামলার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলারও রায় বেরিয়েছে। এই রায়ে ৮ আসামির মধ্যে ৭ জনকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়েছে, খালাস পেয়েছেন একজন। বলা বাহুল্য, এই তিন মামলারই কার্যক্রম অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার রায়ও দ্রুততার সঙ্গে দেয়া হয়েছিল।
এটা অত্যন্ত আশার কথা যে, চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া অতি দ্রুতই সম্পন্ন হচ্ছে। বিচারহীনতা অথবা বিলম্বিত বিচারের যে সংস্কৃতি চালু রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বিচারব্যবস্থা।
ইংরেজিতে একটি কথা চালু আছে- জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড, অর্থাৎ বিচার প্রক্রিয়া যখন প্রলম্বিত হয়, তখন বিচারকে অস্বীকার করা হয়। অতঃপর প্রতিটি মামলারই দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়।
কিন্তু পরিতাপের বিষয়, দেশে মামলাজটসহ নানা কারণে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে একদিকে যেমন হতাশার সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে তাদেরকে পোহাতে হয় নানা ধরনের ভোগান্তি। আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তো রয়েছেই।
বিচার বিলম্বিত হলে ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। আমরা তাই বলব, উপরের মামলাগুলোর মতো বিশেষত চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া যাতে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে।
দেশে একের পর এক হত্যাসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এটা ঠিক, অপরাধের সংখ্যা বিচারে প্রতিটি অপরাধের বিচার দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা সহজ নয়। কাজটি কীভাবে সহজ করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনার অবকাশ রয়েছে। বিচারকের সংখ্যা এ ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা নিঃসন্দেহে।
মামলার সংখ্যার অনুপাতে বিচারকের সংখ্যা কম; ফলে মামলাজট অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। আমরা তাই আদালত ও বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলব। দ্রুত বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। অপরাধের দ্রুত তদন্ত না হলে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব হবে, এটাই স্বাভাবিক।
আমরা চাইব, প্রতিটি অপরাধের দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র তৈরি করার চেষ্টা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ ক্ষেত্রে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রশ্ন তোলা যায়। দীর্ঘ সময় পরও এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সুরাহা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন থেকে সংঘটিত অপরাধসমূহের দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে- এটাই প্রত্যাশা।

Last Updated on

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

সিলেটের বার্তা পরিবারঃ

এম. এ কাদির-বালাগঞ্জ প্রতিনিধি

লিটন পাঠান-মাধবপুর প্রতিনিধি

 

©সিলেটের বার্তা ২৪ কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।