সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৬ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।

হবিগঞ্জে উঠানামা করছে আলুর দাম

সিলেটের বার্তা ডেস্ক:: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গ্রামগঞ্জের বাজারে উঠানামা করছে আলুর দাম। ব্যবসায়ীরা আলু খেলছেন লুকোচুরি খেলা। দেশি আলুর বেজায় দাম। বিদেশির কম।

সরকার কর্তৃক বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না আলু। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।

বাজারে প্রশাসনের মনিটরিং করার সময় কম দামে আবার মনটরিং শেষ হলেই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। এরপরও সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে অন্তত কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দরে। নবীগঞ্জের প্রধান সবজির বাজার মধ্য বাজারে সোমবার গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বাজারে দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫০ টাকা, আর হল্যান্ড আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা ও হল্যান্ড আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি দরে।

আর একসাথে পাঁচ কেজি দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ২২৫ টাকা এবং হল্যান্ড আলু বিক্রি হয় ২০০ টাকা দরে। যদিও কয়েকদিন আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবজি বিক্রেতাদের সাথে সভা করে জানিয়ে দেওয়া হয় খুচরা বাজারে প্রতিকেজি আলু সর্বোচ্চ ৩৫টাকা আর পাইকারি সর্বোচ্চ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার জন্য। এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এরপরও বাজারে বেশি দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দাম বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে আলু সংকটকে কাজে লাগিয়ে অস্বাভাবিক হারে আলুর দাম বাড়িয়ে দেয় আলুর মজুদদাররা। অন্যান্য সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় খাবার টেবিলে ভোক্তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় আলু। কিন্তু সেই আলুর দামও অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পড়েন বিপাকে। এ অবস্থায় সরকার আলুর মূল্য নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজারে আলুর বিক্রি মূল্য বেঁধে দেয়। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবীগঞ্জে পূর্বের আলু মজুদ শেষে নতুন আলু আসলেও আলুর দাম কমছে না।

মধ্য বাজারের আলুর খুচরা বিক্রেতা ইসলাম উদ্দিন চৌধুরী জানান, প্রশাসন প্রতি কেজি আলু ৩৫ টাকা দরে বিক্রির জন্য বলছে। কিন্তু আমরা এ আলু পাইকারদের কাছ থেকেই কিনে এনেছি ৪০ টাকা কেজি দরে। এতে কীভাবে আমরা ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করব? সরকারের বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি করতে হলে আমাদের পুঁজি থাকবে না। এ পরিস্থিতিতে হয় এ দামে বিক্রি করতে হবে, আর না হয় আলু বিক্রি করা বাদ দিতে হবে।

আলুর পাইকারি ব্যবসায়ী সজীব রায় জানান, অন্যান্য সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় আলুর ওপর চাপ বেড়েছে। আর এ সুযোগে আলুর মজুদদাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদেরকে হবিগঞ্জ থেকে আলু আনতে হয়ে সেখানেই আলুর দাম বেশি, তাই বেশি দামে আলু কিনে আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি বিভাগের জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা ইকবাল আশরাফ খান জানান, আমরা জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছি। তারপর আলু ব্যবসায়ীদের অসহযোগিতার জন্য আলুর দাম নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। জেলার ১টি হিমাগারে বর্তমানে বীজ আলু ছাড়া কোন খাবার আলু মজুদ নেই।

এ ব্যপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন বলেন, আমরা সপ্তাহ খানেক আগেও সভা করে সবজি ব্যবসায়ীদের আলুর দাম ঠিক রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। তারপর তারা নির্দেশনা না মেনে আলুর দাম বেশি নিচ্ছে বলে খবর পাচ্ছি। অচিরেই বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে আলুর দাম নিয়ন্ত্রনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন
  •  
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত