মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ০৮:০০ অপরাহ্ন১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

৪ঠা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশঃ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
২৪ ঘন্টায় ৪৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৩২৪৩

২৪ ঘন্টায় ৪৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৩২৪৩

সিলেটের বার্তা ডেস্ক:: দেশে পাল্লা দিয়ে বাড়তেই আছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে সমান তালে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে মারা গেছেন আরও ৪৫ জন। এর মধ্যে ৩২ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। এ নিয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দাঁড়াল ১ হাজার ৩৮৮ জনে।

দেশে নতুন করে ৩ হাজার ২৪৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত হলেন ১ লাখ ৫ হাজার ৫৩৫ জন।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শনাক্ত হয় ৩ হাজার ৮০৩ ও মারা যায় ৩৮ জন।

গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করে। ৮ মার্চ দেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ প্রথম কোনও করোনা রোগী মারা যায়।

চলতি মাসের ১ জুন ২,৩৮১, ২ জুন ২,৯১১, ৩ জুন ২,৬৯৫, ৪ জুন ২,৪২৩, ৫ জুন ২,৮২৮, ৬ জুন ২,৬৩৫, ৭ জুন ২,৭৪৩, ৮ জুন ২,৭৩৫, ৯ জুন ৩,১৭১ জন, ১০ জুন ৩,১৯০, ১১ জুন ৩, ১৮৭, ১২ জুন ৩,৪৭১ ও ১৩ জুন ২,৮৫৬, ১৪ জুন ৩,১৪১, ১৫ জুন ৩,০৯৯, ১৬ জুন ৩,৮৬২, ১৭ জুন ৪,০০৮ ও ১৮ জুন ৩,৮০৩ জন শনাক্ত হয়।

ভারতের পরিস্থিতি

ভারতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার (১৯ জুন) তার ব্যতয় ঘটেনি।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৫৮৬ জন নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন। একদিনে এত মানুষ এর আগে শনাক্ত হননি। এতে দেশে মোট কভিড আক্রান্ত হলেন ৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৩২ জন। এ পর্যন্ত ভারতজুড়ে মোট ৬৪ লাখ ২৬ হাজার ৬৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার থাবায় দেশে মৃত্যু হয়েছে ৩৩৬ জনের। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু হল ১২ হাজার ৫৭৩ জনের। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রেই মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৭৫১ জনের। রাজধানী দিল্লিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৯৬৯ জনে। তৃতীয় স্থানে থাকা গুজরাটে মারা গেছেন ১ হাজার ৫৯১ জন। এর পর তালিকায় রয়েছে তামিলনাড়ু (৬২৫), পশ্চিমবঙ্গ (৫১৮), মধ্যপ্রদেশ (৪৮৬), উত্তরপ্রদেশ (৪৬৫) ও রাজস্থান (৩২৩)।

ভারতে আক্রান্তেরও শীর্ষে মহারাষ্ট্র রাজ্য। এ রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৭৫২ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজ্যটিতে মোট আক্রান্ত হলেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫০৪ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তামিলনাড়ুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫২ হাজার ৩৩৪ জন। তৃতীয় স্থানে থাকা দিল্লিতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৭৯ জন। চতুর্থ স্থানে থাকা গুজরাটে মোট করোনা আক্রান্ত ২৫ হাজার ৬০১ জন। এছাড়া উত্তরপ্রদেশে ১৫ হাজার ১৮১ জন, রাজস্থানে ১৩ হাজার ৮৫৭ জন, পশ্চিমবঙ্গে ১২ হাজার ৭৩৫ জন ও মধ্যপ্রদেশে ১১ হাজার ৪২৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আক্রান্তদের সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ৪ হাজার ৭১১ জন সুস্থ হয়েছেন।

দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাইসহ বেশি সংক্রমিত দেশের বড় শহরগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। দ্রুত অ্যান্টিজেন পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু করে কভিড-১৯ নির্ণয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে ওই শহরগুলোতে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল বা আইসিএমআর অনুমোদিত নতুন র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন মেথোডলজির মাধ্যমে কভিড-১৯ পরীক্ষা আরও ভালভাবে করা সম্ভব হবে। এটি পরীক্ষার রোগ নির্ণয় ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবে এবং এর ফলে প্রাথমিক স্তরেই রোগ নির্ণয় করা যাবে ও রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যাবে। এতে মৃত্যুহার এড়ানো যাবে আশানুরূপভাবে।

বিশ্ব পরিস্থিতি

করোনাভাইরাসে সারাবিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুসারে শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫৩৩ জন।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৬৮ জন। ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৮৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ প্রাণঘাতী ভাইরাস।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লাখ ৮৯ হাজার আর মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার মানুষের। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যে সময়ে লকডাউন শুরু করেছিল যদি সে সময়ের এক সপ্তাহ আগে লকডাউন জারি করত, তবে অন্তত ৩৬ হাজার লোকের প্রাণ বেঁচে যেত।

করোনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে ব্রাজিলে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ লাখ ৭৮ হাজার। মৃতের সংখ্যাতেও দ্বিতীয় ব্রাজিল। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মারা গেছেন ৪৭ হাজার ৭৪৮ জন মানুষ।

এরপরে তৃতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত রাশিয়ায়। সেখানে ৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত। তবে মৃতের সংখ্যা তুলনামূলক কম। দেশটিতে ৭ হাজার ৬৫০ জন করোনায় মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যায় ১৩ তম রাশিয়া।

চতুর্থ সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে ভারতে। দেশটিতে ৩ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত। মৃতের সংখ্যার দিক দিয়ে দেশটি অষ্টম। সেখানে ১২ হাজার ২৩৭ জন করোনায় মারা গেছেন।

শেয়ার করুন
  •  
  • 65
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত