বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

২৫শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
উৎকোচের বিনিময়ে মাদরাসায় সুপার নিয়োগ! এলাকাজুড়ে উত্তেজনা

উৎকোচের বিনিময়ে মাদরাসায় সুপার নিয়োগ! এলাকাজুড়ে উত্তেজনা

শিক্ষাঙ্গন বার্তা:: উৎকোচ গ্রহণের বিনিময়ে মাদরাসায় সুপার নিয়োগের চেষ্ঠায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে।

এঘটনায় আজ শনিবার দুপুরে বিক্ষোভ সভা ও মানববন্ধন করেছে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।

ঘটনাটি সিলেটের বালাগঞ্জের মুসলিমাবাদ ইসলামিয়া হাফিজিয়া আলিম মাদরাসায় ঘটেছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মাদরাসার সুপার নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এতে ৪ জন সুপার পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন।

মাদরাসার সহকারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাওলানা আব্দুস সোবহান ও শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, সুপার পদে (প্রার্থী) ও পরিক্ষার্থী মাওলানা আব্দুল মুমিতের কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দানের চুক্তি করেন এবং এ চুক্তির সাথে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জড়িত রয়েছেন-এমন অভিযোগ এনে মাদরাসায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এনে শনিবার সকালে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে।  এ সময় শিক্ষার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে সচ্ছভাবে পুঃননিয়োগের দাবীসহ মাদাসার সহ সুপার মাওলানা আব্দুস সোবহান ও জুনিয়র শিক্ষক সাইফুল ইসলামেরও অপসারন দাবী জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্তের সংবাদ পেলে বালাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

সুপার পদে পরীক্ষার্থী মাওলানা সৈয়দ বদরুল আলম বলেন, গতকাল কলংকময় নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে। শিক্ষক সাইফুল ইসলাম এবং সহ সুপার আমাকে নিয়োগ পাইয়ে দেয়ার জন্য তিন লক্ষ টাকা দাবী করেন। আমি টাকা দিতে অসম্মতি জানিয়ে পরীক্ষা দিয়েছি।
আমার পরীক্ষা ভালো হলেও আমাকে নিয়োগ বোর্ড থেকে কোন কিছু না জানিয়ে উনারা তড়িঘড়ি করে গাড়িতে উঠে পালিয়ে যান। আমি জানিনা আমার নিয়োগ সুপারিশ হবে কিনা।

এদিকে অপর পরিক্ষার্থী মাওলানা আব্দুল হান্নান জানান, পরীক্ষায় তিনি প্রথম হয়েছেন। তবুও তাকে নিয়োগের বিষয়ে কোন ফলাফল জানানো হয়নি। পরবর্তিতে মাদরাসার বর্তমান সহ সুপারকে ফোন দিলে তিনি জানান, আমি দ্বিতীয় হয়েছি।

অথচ নিয়োগ কমিটি ফলাফলই ঘোষনা করেনি। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অসচ্ছ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অপর প্রার্থী মাওলানা লুৎফুর রহমান সিরাজী বলেন, পরীক্ষা দিয়েছি ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। নিয়োগের সচ্ছতা নিয়ে আমি সন্দিহান।

ঘুষদাতায় অভিযুক্ত মাওলানা মো. আব্দুল মুমিতের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি নিয়োগের সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছি। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই পরীক্ষা হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক কোন ধরণের আর্থিক লেনদেন হয়নি।

এব্যপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মির্জা আবু নাসের এম রাহেল জানান, গত শুক্রবার অনুষ্টিত মাদরাসার সুপার নিয়োগ নিয়ে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হই।
তাদের দাবী দাওয়া শুনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এব্যাপারে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবুল বাশার বলেন, অনিয়মের কিছু জানি না। তবে পীক্ষআর ফলাফল সকলের সামনে ঘোষণা করা হয়নি। এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষাটি শতভাগ স্বচ্ছ হয়েছে। এখানে চুল পরিমান অনিয়ম হয়নি।

বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাংশু কুমান সিংহ বলেন, এ নিয়ে শনিবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং পরিবেশ শান্ত আছে। নিয়োগে অনিয়ম হয়েছিল কি না জানি না। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া
হবে।

 

শেয়ার করুন
  •  
  • 50
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত