বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

২৫শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
চেয়ারম্যান আফছর: মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত

চেয়ারম্যান আফছর: মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত

জুনেদ আহমদ:: করোনা ভাইরাসে এই কঠিন থাবা থেকে দেশ ও দেশের জনগনকে রক্ষা করতে সরকার যখন আদেশ ও অনুরোধ করছেন খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে ঘরের বাহিরে না যেতে। সকল সরকারি অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সকল শিল্প কল কারখানা, মার্কেট, বিপনি বিতান যখন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকার, ঠিক তখনই আরেক আতংক আমাদের দেশের সাধারণ জনমনে।

করোনা যুদ্ধের সাথে খাদ্য ও আহার সংকটে সংকিত দেশের সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ। এমনি কঠিন পরিস্থিতিতে সকল ভয়কে উপেক্ষা করে সংকট মোকাবেলায় দেশ ও সাধারণ জনগনের পাশে নড়ে চড়ে দাড়ালেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউনিয়ন সিলেট সদরের ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এড. আফছর আহমদ। প্রায় দুই লক্ষাধিক জনগনের বসতি রয়েছে এই ইউনিয়নে। রয়েছে বিশাল বিশাল বেশ কয়েকটি কলোনি। বলতে গেলে বেশির ভাগই নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের বসতি এই ইউনিয়নে। এতো বিশাল জনগোষ্ঠীর পাশে একা হাতে দাড়ানো কম সাহসের বা সহজখানি কথা নয়। সবকিছুকে উপেক্ষা করে জনগনের দেওয়া দায়িত্বের প্রতি সম্মান রেখে তিনি একাই শুরু করলেন তাঁর মানবতার অগ্রযাত্রা ।

প্রথমেই নিজ পাড়া (মুগির পাড়া) লক ডাউন করে দিয়ে কিছু সেচ্ছাসেবি কর্মিদের নিয়ে পাড়ার মানুষের সকল প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র নিজ উদ্যোগে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে শুরু করলেন। মানুষের যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয় সেদিকে কঠোর নজরদারিও রাখলেন। পরবর্তীতে পুরো ইউনিয়নের তরুন সমাজকে নিয়ে মিটিং করে তাদেরকেও উজ্জিবিত করলেন। গঠন করলেন ইউনিয়ন ব্যাপি বিশাল সেচ্ছাসেবী টিম। তাদের নিয়ে বেশ কটি জনবহুল এলাকা লকডাউন করে নিজ খরছে বিশাল অংকের ত্রান সামগ্রি কিনে আলাদা প্যাকেট করে তাদের দিয়ে ঘরে ঘরে পৌছে দিতে শুরু করলেন। চালু করলেন ৩/৪ টি হটলাইন নাম্বার ও। যাতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ যারা লজ্জায় ত্রান নিতে পারেননা আবার পরিবার পরিজন নিয়ে আছেন বিপাকে সেই শ্রেনীর মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। এরকম উদ্যোগ আমার জানামতে বাংলাদেশে এর আগে আর কেউ গ্রহন করেননি। এমনকি সরকার ও না।

এভাবেই সেবা দিতে শুরু করলেন পুরো ইউনিয়ন ব্যাপি। আজ প্রায় ১৫ দিন বেশ কিছু সেচ্ছাসেবী কর্মি নিয়ে গুটা ইউনিয়নে তিনি একাই নড়ে যাচ্ছেন জনগনের সংকট যুদ্ধে। প্রতিদিন প্রায় দুই শত থেকে দুইশত পঞ্চাশ পরিবারে দিয়ে যাচ্ছেন খাদ্য সামগ্রি। কখনো হটলাইন সার্ভিসে, কখনো সেচ্ছাসেবিদের বিভিন্ন এলাকায় কখনো আবার নিজে গাড়ি দিয়ে নিয়ে ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রি। সাথে রয়েছে সাবান সেনিটেশন সামগ্রিও। ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ায়, বাজারে ব্যাবস্থা করেছেন হাত ধুওয়ার ব্যাবস্থাও। চালিয়ে যাচ্ছেন জীবানুনাশক স্প্রে বা ঔষধ ছিটানোর কর্মসুচি। তার সাথে প্রশাসনের সাথে পাল্লাদিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন জনসচেতনতা মুলক প্রচারনাও।

আজ উনার সাথে ফোনে আলাপ কালে তিনি জানান একমাত্র আল্লাহকে স্মরন করে জনগনের এই সেবাকে শুধুমাত্র এবাদত হিসেবে মনে করে আমি এই কাজ করে যাচ্ছি। তার পাশাপাশি তিনি আরেকটি সুখবর জানান যে তাঁর সহধর্মিণী কলেজের প্রভাষক লিপি আক্তার তিনিও তাঁর গত মাসের বেতনের টাকাটাও তার এই সেবামুলক কাজে দান করেছেন। স্ত্রীর এই উৎসাহ মুলক দান পেয়ে তিনি আরো উজ্জিবিত হয়েছেন। সংকটময় পুরো সময়টাতেই এইভাবে জনগনের পাশে থাকতে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

রাত দিন নির্ঘুম তার এই পরিশ্রম, মানবিক, ও দানশিল ভুমিকায় মুগ্ধ ইউনিয়ন বাসি। সকল জনসাধারণ মেনে চলছেন তাঁর নির্দেশনাও। জনগন যেনো দেখতে পেলেন তাঁদের আসল জনপ্রতিনিধি। প্রসংশা কুড়িয়েছেন তিনি সরকার, প্রশাসন, সাংবাদিক সহ সর্বমহলে। এভাবেই এগিয়ে যাক মানবতা। মুক্তি পাক জনগন সকল সন্ত্রাস, মাদক, অশ্লিলতা ও সংকট থেকে। আরো জন্মাক এই পৃথিবীতে এরকম মহানুভবতার মহামানব।

এড. আফছরের পাশাপাশি সিলেটে চেয়ারম্যানদের মধ্যে আরো যারা এই সংকটে জনগনের পাশে থেকে প্রশংসনীয় ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন যাদের নাম না বল্লেই নয়। তাদের মধ্যে অন্যতম সদর উপজেলার মুগলগাও ইউপি চেয়ারম্যান হিরন মিয়া। কানাইঘাটের তিন নং দিঘির পাড় ইউপি চেয়ারম্যান আলি হুসেন কাজল, বিশ্বনাথের রামপাশা ইউপি চেয়ারম্যান এড. আলমগির হুসেন, সদর উপজেলার টুলিটিকর ইউপি চেয়ারম্যান আলি হুসেন ও জকিগঞ্জের মানিকপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবু জাফর রায়হান।

রাজনৈতিক অংগন থেকে যাদেরকে সংকটে জনগনের পাশে থাকতে দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি জনাব মাশুক উদ্দিন আহমদ। সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। উনারা বিশাল ত্রান সামগ্রি নিজ উদ্যোগে কিনে প্রায় ১০০০ পরিবারকে বিতরন করেছেন। সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব শফিকুর রহমান চৌধুরীও পিছিয়ে নেই। প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ নগদ টাকা সহ ত্রান সামগ্রি বিতরন করে যাচ্ছেন।

ধন্যবাদ আপনাদেরকে
অভিনন্দন আপনাদেরকে।।

লেখকঃ সদস্য: জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন
  •  
  • 390
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত