বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

২৫শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।

খেলা

‘খেলা’ বিশেষ্য পদ, ক্রীড়া, নৈপুণ্য প্রদর্শন। পৃথিবীজুড়ে কত রকমের খেলা যে আছে তার হিসেব কষা একজন সবজান্তা (?) লোকের পক্ষেও সম্ভব নয়। সেই আদিকাল থেকে চলে আসা হরেক রকমের খেলাধুলার সাথে খেলাধুলার কত নতুন-নতুন, আধুনিক সংস্করণও সংযোজন হতে আমরা দেখে আসছি।

বিশেষভাবে-প্রচলিত খেলা ব্যতীতও প্রত্যেক জাতি-গোষ্ঠির মধ্যেও অনেক আকর্ষণীয়( সামগ্রিকভাবে অপ্রচলিত) খেলার প্রচলনও রয়েছে।অপ্রচলিত হাজার রকমের খেলার মধ্যে কোনও-কোনও খেলা তো প্রতিটি জাতি, রাস্ট্রসমূহের ‘জাতীয় খেলা ‘ হিসেবে স্বীকৃত।যেমনঃ আমাদের দেশের জাতীয় খেলা হা- ডু- ডু।

খেলাধুলা শরীর-স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার একটা প্রধানতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।তবে, সব খেলা নয়।তেমনি- সাধারণতঃ প্রচলিত যে-কোনও খেলার/ খেলাধুলার একটা ধরণ বা নমুনা আমরা প্রত্যক্ষ করে থাকি।তবে, সব খেলার নয়।যেমনঃ ‘ছিনিমিনি খেলা ‘।

এ খেলা যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বুঝতেই পারা যাবেনা – এটাও এক ধরণের ‘খেলা ‘ ছিল।এ খেলা ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র কোনওটার স্বাস্হ্যের জন্যই ভালো নহে।বরং, এটা সবার মাঝেই এক ধরণের অশান্তি, অস্হিতিশীলতা, অস্থিরতা সৃষ্টি করে।এ খেলা যাঁকে বি যাঁদেরকে নিয়ে যাঁদের সাথে করা হয়, তাঁর বা তাঁদের দুঃখ-যন্ত্রণা, লাঞ্চনা-বঞ্চনার সীমা-পরিসীমা থাকেনা।তাঁদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার মাধমে যিনি বা যাঁরা এ খেলা খেলে থাকেন, তাঁদের শরীর-স্বাস্হ্য, আর্থিক-স্বাস্হ্য ভালো থাকা ছাড়া খারাপ হতে দেখা যায়না।

সাধারনতঃ একটি বিড়াল একটি ইঁদুরকে শিকারে পরিণত করতে যেয়ে যে কৌশল বা খেলা প্রদর্শন করে (এই ধরে তো এই ছাড়ে, এই মারে) তাকে ‘ছিনিমিনি ‘খেলা বলা হয়ে থাকে।

মানুষের মধ্যে এই ‘ছিনিমিনি খেলাটার কথা যিনি বা যাঁরাই বলেন, কিংবা যিনি বা যাঁরাই এই খেলাটা খেলেন তাঁরাও বিড়ালের মতো পাক্কা শিকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।যাঁদেরকে নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলাটা অনুষ্ঠিত হয়, শেষ পর্যন্ত তাঁদের ভাগ্য বা অধিকারগুলো সেই ইঁদুরের মতই মৃত্যুবরণ করে।যিনি বা যাঁরা এই খেলাটা খেলে থাকেন – ধরে নিতে হবে তিনি বা তাঁরা সমাজে অত্যন্ত ক্ষমতাবান, প্রভাবশালী, শক্তিশালী, ক্ষমতার চূড়ান্ত শিখরে তাঁর বা তাঁদের অবস্হান।একমাত্র দ্রোহ-ক্ষোভের ভূমিকম্প ছাড়া এই খেলার অবসান ঘটানোর জো কারোও নেই।

আশ্চর্যজনক ঠেকে এটা ভেবে যে, এই সমাজে যিনি বা যাঁরা বলে থাকেন- ‘জনগনের অধিকার / ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবেনা ‘- সেই তিনি বা তাঁরাই যদি দিনের বেলায় প্রয়োগযোগ্য জনগনের অধিকার আগের দিন রাতেই ছিনিয়ে নেন – তাহলে সেটাকেই প্রকৃত অর্থে জনগনের সাথে তামাশাপূর্ণ -প্রতারণামূলক-ছিনিমিনি খেলা ‘ বলা ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়! জনগনও এটাকে তাঁদের সাথে ‘ছিনিমিনি খেলা ‘ বলার অধিকার রাখে।

এসব তুখোড় ছিনিমিনি খেলোয়ারদের কাউকে-কাউকে আজকাল বিরোধিপক্ষ বা ভিন্নমতপোষণকারীকে ‘আস, খেলা হবে- ‘এই বলে আহবান করতে দেখা যায়। এদের কারোও-কারোও উত্থান ‘সন্ত্রাস-সন্ত্রাস ‘ খেলার মধ্য দিয়েই।এবং বেড়ে উঠা, টিকে থাকা, দাপটে সমাজে বিচরণ করা – সবকিছুতেই এই সন্ত্রাস-সন্ত্রাস-খেলা চলে।এদের কারোও- কারোও খেলার ক্যারিসমায় সেই জনপদের মানুষ সবসময়ই ভয়ে তটস্থ থাকে।কেউ কোনওরূপ মুখ খুলছে তো অমনি ‘কল্লা ফতে ‘! যখন বলে- ‘আস, খেলা হবে ‘- তখন গঞ্জবাসী সাধারণ, শান্তিপ্রিয় মানুষের ভয়ে, আতঙ্কে দিন কাটে, রাতেরর আরামের ঘুম হারাম হয়ে যায়।

অন্যদিকে পুরবাসী কেউ একজন যখন তাঁর প্রতিপক্ষ বা অন্য আরেক গঞ্জবাসীকে বলেন- ‘ আস, খেলা হবে ‘,তখন আমজনতা স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেয় যে, তিনি ‘খুঁটির জোরে বকরি কুঁদে ‘- এই আপ্তবিক্যটিকে বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করে নিয়েছেন।অর্থাৎ, তাঁর পেছনের খুঁটি বেশ শক্ত, শক্তিশালী। আর, আত্মীয়তার কোনও সুত্র থাকলেতো কোনও কথাই নেই।তাঁর জন্য ‘সাত খুন মাফ ‘। তাঁরা সবসময় ঐ শক্তিকে ভক্তি(?) করে সকল প্রকার অন্যায়-অপকর্মের শাস্তি থেকে মুক্তি পায়।শক্তির আঁচলে মাথা লুকিয়ে রাখায় ঠাঁই, আশ্রয়-প্রশ্রয় পায়।’খেলা ‘কাকে বলে!

অতএব, ‘খেলারাম খেলে যা ‘! যে সমাজে গনতন্ত্রচর্চার খেলা হয়না , সুস্থ্য মত প্রকাশের খেলা বাঁধাগ্রস্তহয়- সেখানে সরকারিদল আর বিরোধিদল এর মধ্যে চলে ‘শত্রু-শত্রু-খেলা ‘। সব কথার শেষ কথা হলো- সব খেলা খেলা নয়।সব খেলা ব্যক্তিস্বাস্থ্য, সমাজস্বাস্থ্য, রাস্ট্রস্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।

অবশেষে কোনও একদিন সকল অন্যায় ও ‘ছিনিমিনি খেলা ‘র অবসান হয়।সত্যাশ্রিত খেলার জয় হয়।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত সহকারি পোস্ট মাস্টার জেনারেল, সিলেট প্রধান ডাকঘর।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত