রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ১০:০৮ অপরাহ্ন১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

নোটিশ
★সিলেটের বার্তায় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। তাই যোগাযোগ করুন নিম্নের মেইল অথবা নাম্বারে।
সিলেটে চাহিদার চেয়ে প্রায় দুই লাখ বেশী পশু মজুদ আছে

সিলেটে চাহিদার চেয়ে প্রায় দুই লাখ বেশী পশু মজুদ আছে

মহামারী করোনাকালে আরও একটি ঈদ দরজায় কড়া নাড়ছে। মহামারীর প্রাদূর্ভাবের শুরু থেকে আসন্ন ঈদুল আযহা হবে ৫ম ঈদ। যা অতিমারীর কারণে রুদ্ধদ্বারে পালিত হতে যাচ্ছে।

একদিকে সিলেটসহ সারাদেশে ফনা তুলেছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস অপরদিকে কুরবানীর পশুর হাটে বিক্রেতাদের আগমন। তবে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সিলেট বিভাগে কুরবানীর পশুর চাহিদা মেটাতে শুধু সক্ষমই নয় বরং চাহিদার চেয়ে ১ লাখ ৭৪ হাজার পশু মজুদ রয়েছে স্থানীয়ভাবে।

এবার সিলেট বিভাগে কোরবানীর পশুর মোট চাহিদা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ এর স্থলে গরু-ছাগল রয়েছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার। সিলেটের স্থানীয় খামারী ও গৃহস্থের নিকট কোরবানীযোগ্য এসব গরু-ছাগল থাকার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুস্তম আলী।

করোনাকালে ‘অনলাইন পশুর হাটে’ কুরবানীর পশু বেচাকেনার প্রতি উৎসাহ দিচ্ছে সরকার। সেই লক্ষ্যে সিলেটের সকল উপজেলায় প্রাণী সম্পদ অফিসের উদ্যোগে রয়েছে এই ব্যবস্থা।

এমনটা জানিয়ে সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুস্তম আলী বলেন-অনলাইনে ইতোমধ্যে কোরবানীর গরু বিক্রি চলছে। কোন খামারী যাতে অসহায় বোধ না করেন, সেজন্য প্রতিটি উপজেলায় প্রাণিসম্পদ অফিসের উদ্যোগে ‘অনলাইন পশুর হাট’-এ গরু-ছাগলের ছবি এবং খামারীর ঠিকানা দেয়া হচ্ছে। যাতে ক্রেতারা সরাসরি বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। প্রতিটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে প্রতিদিন ভার্চুয়াল মিটিং হচ্ছে। কোথাও কোন সমস্যা বা প্রয়োজন হলে প্রাণিসম্পদ অফিস সাথে সাথে সহযোগিতা করবে। সিলেটে প্রাণিসম্পদ খাত অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সময় সিলেটের বেশির ভাগ গরু বাইরের জেলাগুলো থেকে আসতো। বিগত ৩ বছর থেকে সিলেটে পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেটে মোটাতাজাকরণ ও দুগ্ধ খামারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ এবং সরকারের নানাখুমী পদক্ষেপে বিগত কয়েক বছরে তরুণ-যুব উদ্যোক্তারা বেশি হারে এই ব্যবসায় আসছেন। সিলেট বিভাগে বর্তমানে গরু মোটাতাজাকরণ খামারী রয়েছেন প্রায় ১৩ হাজার। এসব খামারীদের নিকট কোরবানীযোগ্য গরু-ছাগল রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৭৪ হাজার।

এছাড়া, ব্যক্তিগত পর্যায়ে গৃহস্থ ও কৃষক পরিবারে কোরবানীর জন্য পালিত গরু-ছাগলের সংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ। খামারী ও ব্যক্তি পর্যায়ে মিলে সিলেটে মোট কোরবানীযোগ্য পশু রয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ ৭৪ হাজার। এর মধ্যে সিলেটে ১ লক্ষ ৯২ হাজার ২৫৮, সুনামগঞ্জে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১০৫, হবিগঞ্জে ৯৯ হাজার ২৪৪ এবং মৌলভীবাজারে ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৩৯৩টি। এছাড়া কোরবানীর সময় বাইরের জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা হাটে অনেক গরু আনেন। এদিকে, সিলেট বিভাগে কোরবানীর পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার। এরমধ্যে সিলেটে চাহিদা ১ লক্ষ ৭২ হাজার, সুনামগঞ্জ ৬৮ হাজার ৫০০, হবিগঞ্জ ১ লক্ষ ২ হাজার এবং মৌলভীবাজার ১ লক্ষ ৮ হাজার। খামারীরা জানান, গরু মোটাতাজাকরণ খাতে বৈপ্লবিক উন্নয়ন হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় এখন ছোট-বড় খামার গড়ে উঠেছে। সরকারের নানা সুযোগ সুবিধার কারণে অনেক শিক্ষিত যুবক আত্মকর্মী হিসেবে খামার সৃষ্টি করেছেন। গরুর খামার সৃষ্টি করতে বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

বিগত কয়েক বছরে মোটাতাজাকরণ খাতে অনেক নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়েছে। তারা যাতে কোনভাবেই হতাশ বা বিপদগ্রস্ত না হন সে ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এখনই ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা যেহেতু ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছি।

তাই, অনলাইন পশুর হাট এখন গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন পশুর হাট যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে কাজ করতে হবে। বিভিন্ন অফার বা বিজ্ঞাপন এবং মানের নিশ্চিয়তা দিয়ে ক্রেতাদের অনলাইন হাটের দিকে আকৃষ্ট করতে হবে। এক্ষেত্রে অনলাইন হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতা কেউই যাতে প্রতারিত না হন তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





Sylheter#Barta@777

©এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব sylheterbarta24.com কর্তৃক সংরক্ষিত