শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

সিলেটে শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত বিদ্যালয়: সবখানে সাজ সাজ রব

সিলেটের বার্তা ডেস্ক : / ৯ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

মহামারী করোনার ঘ্রাস করে নিল পুরো দেড়টি বছর। অপেক্ষার পালা শেষে আজ খুলছে স্কুল। সর্বত্র বিরাজ করছে সাজ সাজ রব।

আবারো শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখর হচ্ছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। খুলছে কলেজের দরজাও। তবে হয়তো আগের মতো পরিবেশ পাবে না শিক্ষার্থীরা। থাকবে বিধি নিষেধের কড়াকড়ি। ক্লাস করতে আসা ছাত্রছাত্রীদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক ছাড়া কেউ স্কুলে এলে পড়বে বাঁধার মুখে। প্রায় ১৭ মাস পর খুলছে দেশের বিদ্যালয়গুলো।

করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ ছিলো দেশের শিক্ষাঙ্গণগুলো। আজ রোববার থেকে খুলছে স্কুল কলেজ। স্কুলগুলো এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। করোনায় যে মানসিক আঘাত এসেছে, তার কারণে শিশু কিশোরদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল থাকার নির্দেশ এসেছে। বলা হয়েছে, আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে।

সরেজমিনে সিলেটের একাধিক স্কুলে গিয়ে বেলুনসহ নানা উপকরণ দিয়ে সাজাতে দেখা গেছে। স্কুলে শিশু-কিশোররা যেন নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করে, সে জন্য করিডোরে দাগ দিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে ফটকে বড় করে ব্যানার টানিয়ে লেখা হয়েছে, ‘নো মাস্ক, নো স্কুল’। অর্থাৎ মাস্ক ছাড়া এলে কাউকে ক্লাস করতে দেয়া হবে না। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বিরাজ করছে আনন্দঘন পরিবেশ।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বেশিরভাগ স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা অনুপাতে একাধিক ভাগে ভাগ ও তিন ফুট দূরত্ব রেখে শিক্ষার্থী বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া, আগে স্কুলের কিছু গেইট বন্ধ থাকলেও এবার শিক্ষার্থীদের ঢুকতে ও বের হতে সব গেইটই খুলে দেয়া হবে।

সিলেটের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যানার স্কুল প্রাঙ্গণে টাঙানো হয়েছে। যেখানে ‘ নো মাস্ক, নো স্কুল’ ছাড়াও ‘অপ্রয়োজনে মুখ, চোখ ও নাক স্পর্শ না করি’, ‘বারবার সাবান ও পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করি’ ইত্যাদি স্লোগান আছে।

সিলেটের অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেও লাগানো হয়েছে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যানার।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে ব্লুবার্ড স্কুলেও।
সিলেট নগরীর নয়াসড়কস্থ খাজাঞ্চিবাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হোসেন আহমদ বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি যেন কঠোর ভাবে মানা হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তদারকি দলও গঠন করা হয়েছে। আর শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে আমাদের বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যানারও তৈরি করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ১৭ মাস পর আজ বিদ্যালয় খুলছে। এজন্য শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যেন শিক্ষার্থীদের কোনো রকম চাপ না দিয়ে পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করে তোলার ব্যবস্থা করা হয়।’
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রতাপ চৌধুরী জানান, অনেকদিন পরে বিদ্যালয় ও কলেজ খুলছে। তাই শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কার্যক্রমে আসার পরপরই যাতে চাপে না পড়েন ; তারা যাতে আনন্দের সাথে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়-সে সব বিষয়ের প্রতি সকলে খেয়াল রাখবেন। এজন্য প্রতিদিন জুম মিটিং, পরিদর্শন, নির্দেশনাসহ নানাভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে তারা সংযুক্ত থাকবেন বলে জানান এ শিক্ষা কর্মকর্তা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক মো. মোসলেম উদ্দিন জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম চালু করতে শিক্ষক-কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের গাইড লাইন এসেছে। প্রাথমিকের জন্য শিগগিরই আসবে।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার ৯ দিন পর ১৭ মার্চ থেকে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ধাপে ধাপে ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। জুন মাসের শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ দিয়েও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রাণঘাতি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সে পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় সরকার। জুলাই থেকে আরও কঠোর বিধিনিষেধে যায় সরকার। গত রোববার আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদ পরিবেশন ছাড়াও জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে খবর সংগ্রহ করে সূত্রসহ প্রকাশ করা হয়। তাই কোনো আপত্তি থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর