ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্লাবিত হয়েছে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার শতভাগ এলাকা।
উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা বানভাসি মানুষের মধ্যে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
বেসরকারি তথ্য মতে, উপজেলা প্রশাসন ঘোষিত আশ্রয়কেন্দ্র ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে কয়েক সহস্রাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন উঁচু বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছেন আরও সহস্রাধিক পরিবার।
আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলোতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, শিশু, গর্ভবর্তী নারী, নবজাতক ও অনেক প্রসূতি নারী রয়েছেন। পানিবন্দি লোকজন চরম খাদ্য সংকট ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন। সরকারি-বেসরকারিভাবে এখনো কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে বালাগঞ্জকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি উঠেছে। শুক্রবার রাতে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তলিয়ে যাওয়া বালাগঞ্জ বাজারে এখন গলা ও বুকসমান পানি। শুক্রবার থেকে বন্ধ রয়েছে বাজারের সব দোকানপাট।
শনিবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডুবে গেছে উপজেলা প্রশাসন ভবন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের নিচতলা। বন্যা আক্রান্ত হয়েছে বালাগঞ্জ বাজারের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থাকা সরকারি খাদ্য গুদাম। তলিয়ে গেছে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়।
ছোট-বড় সব বাজারের ওপর দিয়ে পানির প্রবল স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার কয়েক সহস্রাধিক পুকুর ও মৎস্য খামারের মাছ ভেসে গেছে। বন্যাদুর্গত দু’একটি এলাকায় ত্রাণ হিসেবে নামমাত্র কিছু চাল দিয়ে ফটোসেশন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন বানভাসিরা।
এদিকে, গবাদিপশুর খাদ্য সংকটে মানুষ আরও বিপাকে পড়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্র ও আক্রান্ত এলাকায় অনেকেই গরু, ভেড়া-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে এক ঘরেই বসবাস করতে দেখা গেছে। চুলা ধরানোর লাকড়িও ঘরে নেই।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোজিনা আক্তারকে কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রীতি ভূষণ দাস বলেছেন, সরকারি তথ্য মতে উপজেলার ৮০-৯০ ভাগ প্লাবিত হয়েছে।
আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে উঠেছে সাড়ে ৪শ’ পরিবারের প্রায় দুই হাজার মানুষ। নগদ ৪ লাখ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ২ লাখ টাকায় ৯শ’ মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আরও শুকনো খাবার প্যাকেট করা হচ্ছে। ২৩ টন চাল এসেছে দু’এক দিনের মধ্যে আরও ৯টন আসবে।