প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৪
নির্বাচনী যাত্রা শুরু অন্তবর্তী সরকারের
নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিবেদক
আগামী ৭ নভেম্বর তিন মাস পূর্ণ করবে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকার। এই সময়ের মধ্যে নানামুখী সংস্কারে হাত দিয়েছে সরকার। গঠন করেছে ১০টি সংস্কার কমিশন। শুরু থেকেই বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের চাপ দিয়ে আসছে। তবে জামায়াতসহ অন্যান্য দল প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে যৌক্তিক সময়ে নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে যখন সরকার-বিএনপি টানাপোড়েন তখনই আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানালেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যাত্রা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি গঠন হয়ে গেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সই হওয়ার পর মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে। কমিটি গঠনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ১০ জনের নাম সুপারিশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার বিধান রয়েছে।
নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি বা অনুসন্ধান কমিটির প্রধান করা হয়েছে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। একই সঙ্গে কমিটির সদস্য হিসেবে হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানকে মনোনীত করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সুপ্রিম কোর্টের এ দুজন বিচারপতির নাম সুপারিশ করার পর তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
এদিকে, সার্চ কমিটি কত সদস্যের হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, আইনে যা বলা আছে, তাই হবে। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন রয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোই ছিল ভুয়া। এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। একটি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুন্দর নির্বাচন দেবে।
নির্বাচন দিতে কত সময় লাগবে, তা অনেকগুলো ‘ফ্যাক্টর’-এর (বিষয়) ওপর নির্ভর করবে বলে উল্লেখ করেন আইন উপদেষ্টা।
গত কয়েকটি নির্বাচনকে ভুয়া ও ভোটার তালিকাও প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার তো আমরা ভুয়া নির্বাচন করবো না। এবার অবাধ, অসাধারণ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করবো। ভোটার তালিকা হালনাগাদে সময় লাগবে। আর সংস্কারের সাথে নির্বাচনকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা হবে, তা দেখতে হবে।”
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য কিছু দল অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না সে প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, এটা আমার বলার স্টেজ না। এখন আপনি যদি মনে করেন, যারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, অঙ্গহানি ঘটিয়েছে এবং এখনও ওটার পক্ষে কথা বলে; ওই অডিও যদি সত্যি হয়-তাহলে যে নেত্রী অন্য দেশে বসে ২৮৭ জনকে দেখে নেওয়ার সন্ত্রাসী হুমকি দেয়, যিনি একটা গণহত্যা মামলার আসামি; আমার মনে হয় না তাদের অনুশোচনা-বিচারের আগে বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে এত সহজে তাকে গ্রহণ করবে। সুতরাং, একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটা আসবে।
আসিফ নজরুল বলেন, যারা আন্দোলনের নেতাদের কিশোর গ্যাং বলার চেষ্টা করে, তাদের রাজনৈতিক অধিকার থাকা উচিৎ কি না, সেই প্রশ্ন বাংলাদেশের প্রত্যেকটা বিবেকবান মানুষের কাছে করে গেলাম আমি।
এদিকে, সরকার বলছে নির্বাচনী যাত্রা শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, সংবিধান সংস্কার, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনতে যে ১০ কমিশন গঠন করা হয়েছে-সেসবের প্রতিবেদন কবে মিলবে তার কোন উত্তর জানা যায়নি।
তবে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কমিশনগুলোর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। মূলত তারপরই সংস্কারের মূল কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। কিন্তু সংস্কার করতে ঠিক কত সময় লাগবে এবং কবে নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি সরকার।
এদিকে, সরকার যখন নির্বাচনমুখী যাত্রার কথা বলছে তখন বিএনপি নির্বাচনের দাবিতে নতুন কর্মসূচীর কথা ভাবছে। আগামী মাসে (নভেম্বর) রাজধানী ঢাকাসহ জেলা ও মহানগরে নতুন করে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করবে। রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি সামনে রেখে এই কর্মসূচি শুরু করছে দলটি-এমনটাই জানা গেছে দলীয় সূত্রে।
উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদে পাস হওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী সার্চ কমিটি (অনুসন্ধান কমিটি) গঠন করেন রাষ্ট্রপতি।
আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের এ কমিটি গঠিত হয়। যার সভাপতি হন প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক। সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতির মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক। এ দুই বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে একজন হবেন নারী।
তিন সদস্যের উপস্থিতিতে কমিটির সভার কোরাম হবে। এ কমিটির কাজে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সার্চ কমিটি গঠনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্য সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার কথা বলা হয়েছে।
আইনে বর্ণিত যোগ্যতা-অযোগ্যতা বিবেচনা করে তাঁরা ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবেন। ১০ জনের মধ্য থেকেই ৫ জনকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি গঠন করবেন নতুন নির্বাচন কমিশন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এক মাসের মাথায় ৫ সেপ্টেম্বর বিদায় নেয় কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন, যাদের অধীনে এ বছরের প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হয়েছিল।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে। সেই সংস্কার শেষে নতুন ইসির অধীনে হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের তরফে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ন্যূনতম ঐক্যমতের’ উপর নির্ভর করছে নির্বাচনের ‘টাইমলাইম’।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪