সিলেটে প্রতিদিনই আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং সেই সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে নতুন করে ১৬৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন আরও এক শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৪০৮, হবিগঞ্জে ১৫৮, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন রয়েছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৬৪ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৭ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৫ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৩৮ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৭ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, বিয়ানীবাজারে ১ জন এবং হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৫৬৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি আছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (২৭৯ জন) ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে (১৪১ জন)। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭১, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২৭ এবং রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালমান (১) নামের এক বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি সময়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত—উভয় ধরনের হামেই রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। বিভাগে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ১৭১ জন এবং নিশ্চিত হামে ১০ জনসহ মোট ১৮১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে সিলেটে ৭৩, হবিগঞ্জে ২৭, মৌলভীবাজারে ১৫ এবং সুনামগঞ্জে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষ করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রোগীর প্রচণ্ড চাপ থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বাড়তি হিমশিম খেতে হচ্ছে।