মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী খাসিয়া সম্প্রদায়ের জীবিকার ওপর এক নির্মম ও ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জিতে রাতের আঁধারে জুমের প্রায় ৮ হাজার পানগাছ কেটে গুঁড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পুঞ্জির ৯টি খাসিয়া পরিবার।
বুধবার দিবাগত রাতে এই তাণ্ডব চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছেন লিকিন খংপ্ডা, পাইলা পতাম, নাসরিন পতাম, জনি পতাম, নিস্তার পাটুয়াট, শিউলি আজিম, টিউনি আজিম, ডিমান পতাম এবং মাসার তংপ।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ক্ষতিগ্রস্ত জুম মালিক নাসরিন পতাম বলেন, “কে বা কারা এই কাজ করেছে জানি না। তবে খাসিয়াদের নিঃস্ব করার সবচেয়ে সহজ কৌশল যে পানগাছ কাটা, তা দুর্বৃত্তরা ভালো করেই জানে। আমরা দিনে কাজ করি বলেই তারা রাতের আঁধারে এই ক্ষতিটা করল।”
নার্সারি পুঞ্জির মান্ত্রী (প্রধান) জনি পতাম আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমরা নিরীহ মানুষ, পান চাষই আমাদের একমাত্র ভরসা। একটি গাছ চার বছর ধরে লালন-পালন করার পর পানের ফলন মেলে। অথচ দায়ের এক কোপে আমাদের চার বছরের ঘাম ও অর্থ এক নিমেষে শেষ হয়ে গেল। ৯টি পরিবারের রুজি-রোজগার বন্ধ। আমরা এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। পুলিশ এসে তদন্ত করেছে, আমরা চাই অপরাধীরা দ্রুত ধরা পড়ুক।”
খাসিয়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, “আমাদের হয়রানির শেষ কোথায়? বারবার কেন আদিবাসীদের জীবিকায় আঘাত আসবে? সুষ্ঠু বিচার পাব কি না, তা নিয়েও সংশয় জাগে।”
এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের প্রতি জোর আকুতি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।