প্রবাসে যাওয়ার সময় চোখে ছিল স্বপ্ন—একদিন হাসিমুখে ফিরবেন, সঙ্গে থাকবে পরিবারের জন্য কেনাকাটা আর প্রিয়জনদের জন্য উপহার। স্বজনরাও সেই অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাটের দুই প্রবাসী আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদের মরদেহ বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছানোর পর তাঁদের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে লামার তালুক গ্রামের পরিবেশ।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মরদেহ বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজি-২০৬) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ দুটি নিয়ে যাওয়া হয় কানাইঘাট উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামের বাড়িতে।
দুপুর ২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা শেষবারের মতো তাঁদের প্রিয়জনকে দেখতে ছুটে আসেন। কফিন খোলার পর স্বজনদের আহাজারিতে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
প্রায় আধা ঘণ্টা বাড়িতে রাখার পর মরদেহ দুটি নেওয়া হয় স্থানীয় আকুনি মাদরাসায়। সেখানে এলাকার মানুষ শেষবারের মতো দুই প্রবাসীকে দেখেন। পরে বাদ আসর একই সঙ্গে তাঁদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে লামার তালুক গ্রামের কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদকে।
এদিকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁদের পরিবার আরও ৩ লাখ টাকা করে অনুদান পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালকসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কানাইঘাট উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ।
প্রবাসে কর্মজীবন শেষে দেশে ফেরার পথে তাঁদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।