গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে এক নারী পোশাকশ্রমিককে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তদের হুমকি-ধমকির ভয়ে ঘটনার পর দুই দিন ঘরবন্দী থাকার পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে স্বজনদের সহায়তায় থানায় গিয়ে মামলা করেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী ২০ বছর বয়সী ওই নারীর বাড়ি শেরপুর জেলায়। তিনি শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নে ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে থাকেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, প্রায় ছয় মাস ধরে তারা একটি বাসায় ভাড়া থাকছিলেন। এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে গত সোমবার বাসা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন তারা। বাসার মালিককে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ করে মালামাল সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। এ সময় স্থানীয় দুই যুবক ফারুক ও নয়ন তার স্বামীকে ডেকে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় পর স্বামী বাসায় ঢফরেন। রাত সাড়ে ৮টার পরে ওই দুই যুবক অজ্ঞাত আরো দুজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ঘরে প্রবেশ করেন।
তিনি জানান, একপর্যায়ে তার স্বামীকে মারধর করে পাশের কক্ষে আটকে রাখা হয়। ফারুক তার স্বামীর কাছে টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন এবং তার কথামতো কাজ করলে দুজনকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় ফারুক, নয়ন ও অজ্ঞাত একজন মিলে তার হাত বেঁধে ফেলেন। পরে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আরো জানান, ঘটনার সময় তিনি অভিযুক্তদের কাছে বারবার অনুনয়-বিনয় করেও রেহাই পাননি। ভয়ে আশপাশের কেউ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি। ঘটনার পরও অভিযুক্তদের ভয়ে স্বামীসহ বাসা থেকে বের হতে পারেননি তারা। তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ওই নারী। পরে স্বজনদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে সহযোগিতা করেন। তাদের সহায়তায় থানায় গিয়ে বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, তাকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় তাকে বলা হয়েছিল, তার স্ত্রী টাকা আনতে গেছেন। পরে স্ত্রীর কাছে গিয়ে নির্যাতনের বিষয়টি বুঝতে পারেন। কিন্তু বিচার চাইতে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, বিষয়টি জানার পর থানার পরিদর্শককে (তদন্ত) প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।