সিলেটের আখালিয়াস্থ মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় এক প্রবাসীর নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়।
সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্তকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী ইদ্রিছ আলীর নবজাতক সন্তানের চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালের চিকিৎসকদের চরম অবহেলার অভিযোগ উঠার পর সিভিল সার্জন দপ্তর এ পদক্ষেপ নেয়।
তদন্ত কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেন- খাদিমপাড়া ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মোছা. ফাতেমা ইয়াসমিন, গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনেস্থেশিয়া বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট (বর্তমানে প্রেষণে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে কর্মরত) ডা. মিজানুর রহমান মামুন এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট (বর্তমানে প্রেষণে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে কর্মরত) ডা. রুপা সরকার।
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাউন্ট এডোরা হসপিটালে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে গৃহবধূকে নরমাল ডেলিভারির সময় টানা-হেঁচড়া করে নবজাতকের মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ উঠে।
জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দক্ষিণ কলাউড়া গ্রামের প্রবাসী ইদ্রিস আলীর স্ত্রী নাজমা বেগম গর্ভকালীন সিলেটের গাইনি ডাক্তার রেজওয়ানা মির্জার অধীনে চিকিৎসা নেন। এই চিকিৎসকের পরামর্শে নাজমা বেগমকে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মাউন্ট এডোরা হসপিটালে ভর্তি করানো হয়। শুক্রবার বিকালে তার প্রসব বেদনা উঠলে ডাক্তার রেজওয়ানা মির্জার ফোনে দেওয়া পরামর্শে নরমাল ডেলিভারেরির প্রস্তুতি নেন হাসপাতালের ডিউটিরত ডাক্তাররা। কিন্তু ডেলিভারির সময় নবজাতককে ‘টানা-হেঁচড়া’ কারা হলে তার মৃত্যু হয়।
নাজমা বেগমের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন- চিকিৎসকরা কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ না দিয়ে এবং প্রসূতি বা তার অভিভাবকদের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই আগের ভুল আল্ট্রাসনোগ্রাফির উপর ভিত্তি করে সিজারের পরিবর্তে নরমাল ডেলিভারে করতে যান কর্তব্যরতরা। এছাড়া এসময় ডাক্তার রেজওয়ানা মির্জা হাসপাতালে উপস্থিতও ছিলেন না।
স্বজনদের দাবি- সিজার করলে ৩-৪ কেজি ওজনের বাচ্চা হতে পারতো বলে জানানো হলেও চিকিৎসকরা নরমাল ডেলিভারি করে প্রসূতিকে ঝুঁকিতে ফেলেন এবং শিশুকে মেরে ফেলেন।
ঘটনার দিন মাউন্ট এডোরা হাসপিটালের ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অসম্মতি প্রকাশ করে বলেন- রোগীর স্বজনদের যদি মনে হয় ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তবে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন এবং হাসপাতাল পক্ষ তা আইনগতভাবে মোকাবিলা করবে, এতে কোনো সমস্যা নেই।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন- বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে রিপোর্ট পেশের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, মাউন্ট এডোরা হাসপিটালে প্রায়ই ভুল চিকিৎসায় এভাবে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠে।