সুনামগঞ্জের ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে অনুমোদিত ৯০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৪ জন। শূন্য রয়েছে ৬৬টি পদ। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা ও জরুরি মেরামতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদও রয়েছে। জনবলসংকটের কারণে নিয়মিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর প্রভাব পড়ছে ছাতকসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ৪৫ হাজার ৩০০ গ্রাহকের ওপর।
বিভাগটির আওতায় ছাতক উপজেলার পাশাপাশি দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার আংশিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রুটি শনাক্তকরণ, জরুরি মেরামত ও গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে সীমিত জনবল দিয়ে। বিশেষ করে লাইনম্যান ও বিদ্যুৎ লাইনের সাহায্যকারীর সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কার্যালয়ে সহকারী প্রকৌশলীর পদটি শূন্য। চারটি উপসহকারী প্রকৌশলীর পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন একজন। নিম্নমান সহকারীর চারটি পদের মধ্যে তিনটি শূন্য। মিটার পাঠকের চারটি পদের একটিতেও কেউ নেই। ১৮টি এসবিএ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। বিদ্যুৎ লাইনের সাহায্যকারীর ১৬টি পদের মধ্যে কর্মরত চারজন।
জরুরি মেরামতকাজের জন্য তিনটি গাড়ি থাকলেও সেগুলোর কোনো স্থায়ী চালক নেই। ফোরম্যান ও লাইনম্যানের কয়েকটি পদও শূন্য। এ ছাড়া উচ্চমান সহকারী, হিসাব সহকারী, স্টোর কিপার ও অভিযোগ গ্রহণকারীর পদে জনবল নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী ও কার্যালয়ের অন্যান্য সহায়ক পদেও রয়েছে ঘাটতি।
এদিকে জনবলসংকটের কারণে বিদ্যুৎ লাইনের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে অস্থায়ী এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, এসব শ্রমিকের অনেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি নিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আবার গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রয়োজনে এসব শ্রমিকের সহায়তা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও রয়েছে।
ছাতকের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিদ্যুৎ লাইন রক্ষণাবেক্ষণের কাজও সহজ নয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাল-বিল ও হাওরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুতের লাইন গেছে। ঝড়-বৃষ্টি হলে এসব লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। তখন দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত করে মেরামত করা জরুরি হয়ে পড়ে। কিন্তু পর্যাপ্ত লাইনম্যান ও সাহায্যকারী না থাকায় এ ধরনের কাজ সামলাতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেগ পেতে হয়।
এই বিভাগের দায়িত্ব শুধু আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাবদ্ধ নয়। ছাতকে লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট কারখানা, ছাতক সিমেন্ট কারখানা, সিলেট পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও কলকারখানা রয়েছে। ছাতক ১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্র থেকে ১৩২ কেভি সার্কিটের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফলে এ বিভাগের কার্যক্রম সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ তারেক বলেন, জনবলসংকটের কারণে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো সংকটের কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিভাগটির জনবলসংকটের বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানিয়ে সিলেট অঞ্চলের বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি বড় নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সেটি সম্পন্ন হলে জনবলসংকট অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।