পাহাড়, চা-বাগান, স্বচ্ছ জলের লেক ও সবুজ অরণ্যে ঘেরা শ্রীমঙ্গলসহ পুরো মৌলভীবাজার জেলা প্রস্তুত আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের বরণে। টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে ঘিরে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো সেজেছে নতুন রূপে। হোটেল-রিসোর্টগুলোতে বাড়ছে শতভাগ বুকিং। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এবারের পূজার ছুটিতে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্ভাবনাময় বাণিজ্য হতে পারে।
শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কা বিল, মাধবপুর লেক এবং বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ঢল নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চা-বাগানের মন্দিরে মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন পর্যটনে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে হোটেল-রিসোর্টের পাশাপাশি স্থানীয় রেস্তোরাঁ, পরিবহন, চা-পাতা ও হস্তশিল্প ব্যবসায় নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. নূরুল ইসলাম জানান, ছুটি শুরুর আগেই পর্যটকদের আগমন শুরু হয়েছে। অতিথিদের সেবা দিতে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার প্রস্তুতি রয়েছে। অন্যদিকে, গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান জানান, পূজার ছুটি উপলক্ষে আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের রিসোর্টে শতভাগ বুকিং রয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার পর্যটকের সমাগম হতে পারে বিবেচনা করে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, নির্বিঘ্নে যাতায়াত এবং সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।