বিড়ি টেনে টেনে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর ছবি ভাইরাল হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মাজহারুল হাসান মজুমদার এর।
তিনি শাবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে কর্মরত।
শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ধূমপান করার এই ছবি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
অধ্যাপক মাজহারুল হাসান মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীদের ১০ মার্কের একটি অনলাইন পরীক্ষা নেওয়ার সময় বাসায় বসে আমি ধূমপান করি। কিন্তু কম্পিউটারের মাধ্যমে 'ইথারে' ভেসে আমার শিক্ষার্থীদের এটা (ধূমপান) ইফেক্ট করবে- এটা বিজ্ঞানসম্মত নয়।'
ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের সামনে ধূমপান করা কতটুকু নৈতিক এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে শত শত বিশ্ব নেতাদের সামনে বসে পাইপ টেনেছেন।'
এ সময় তিনি আরও বলেন, 'এটা আমার চোখে মোটেও অনৈতিক নয়। কারণ এটা কোনোভাবেই আমার শিক্ষার্থীদের ইফেক্ট করছে না।'
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মহিবুল আলম বলেন, 'বিষয়টি আমাদের শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জাজনক। কোনোভাবেই আমাদের শিক্ষক সমিতি এ ঘটনার দায় নেবে না। আমরাও চাই, সত্যিই যদি তিনি অনলাইন ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের সামনে ধূমপান করে থাকেন তাহলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।'
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'ক্লাসে ধূমপান করলে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরণের বিরূপ প্রভাব পড়বে। আর ঘটনাটি নিন্দনীয়। আমরা ওই শিক্ষককে সতর্ক করবো, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরণের কর্মকাণ্ড না করে।'
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুসারে ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এমদাদুল হক শাবি ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ধূমপানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।
মতামত