শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিলেটে বহিস্কার হচ্ছেন আওয়ামী লীগের ১১ বিদ্রোহী
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২১
সিলেটে বহিস্কার হচ্ছেন আওয়ামী লীগের ১১ বিদ্রোহী প্রার্থী। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে দলের বিদ্রোহীপ্রার্থীদের তালিকা তৈরী চলছে।
কেন্দ্রে নির্দেশনা পেলে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
এমন তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বলছেন, বিদ্রোহীদের বিষয়ে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে আলোচনা হয়েছে। বিদ্রোহীদের বিষয়ে কঠোর মনোভাব রয়েছে দলটির।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিলেটে দ্বিতীয় ধাপে ভোট হবে সিলেট সদর, বালাগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে। এর মধ্যে সাতটিতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী মাঠে আছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
এসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে ‘টক্কর’ দিয়ে ভোটে নেমেছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। তাদের কারণে যেমন অস্বস্তিতে পড়েছেন দল মনোনীত প্রার্থীরা, তেমনি আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও বিব্রত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে জালালাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ ইছাহাক।তার বিপরীতে বিদ্রোহী হয়েছেন তিনজন। তারা হচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আস্রব আলী ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী।
মোগলগাঁওয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান হিরন মিয়ার বিপরীতে বিদ্রোহী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আছন মিয়া। তবে, অন্য দুই ইউনিয়ন কান্দিগাঁওয়ে নিজাম উদ্দিন ও হাটখোলায় মুশাহিদ আলী আওয়ামী লীগের এককপ্রার্থী। এ দু'টি ইউনিয়নে দলের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতেই আওয়ামী লীগপ্রার্থীর পাশাপাশি ভোটে লড়ছেন দলের বিদ্রোহীরা। শুধুমাত্র ইছাকলস ইউনিয়নে দলের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।
এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী এখলাসুর রহমান। ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নে দল মনোনীতপ্রার্থী মুল্লক হোসেনের বিপরীতে বিদ্রোহী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াছুর রহমান ও সদস্য আমিনুল ইসলাম।
তেলিখালে নুর মিয়ার বিপরীতে রয়েছেন উপজেলার সহসভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী আবদুল ওয়াদুদ আলফু মিয়া।
উত্তর রণিখাইতে ফয়জুর রহমান মাস্টারের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন এবং দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে ইকবাল হুসেন ইমাদের বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুল হান্নান এবং ইউনিয়ন সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সামসুল হক।
বালাগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নে শিহাব উদ্দিনের বিপরীতে বিদ্রোহী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মতিন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তবে বোয়ালজুড় ইউনিয়নে আনহার মিয়া, দেওয়ানবাজারে ছহুল আবদুল মুনিম, পশ্চিম গৌরীপুরে আমিরুল ইসলাম (মধু), বালাগঞ্জ সদরে জুনেদ মিয়া ও পূর্ব গৌরীপুরে হিমাংশু রঞ্জন দাস একক দলীয় প্রার্থী।
একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে আলাপকালে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেশির ভাগ ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমান চেয়ারম্যানকে প্রার্থী হিসেবে রেখে দেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে অনেক চেয়ারম্যান তাদের মেয়াদকালে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। এমনকি দলের নেতাকর্মীদের সাথেও সুসম্পর্ক নেই। তবুও তারা মনোনয়ন পেয়ে গেছেন। অপরদিকে, অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন যাদের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাদের ধারণা তারা নির্বাচনে জয়ী হলে দল তাদের ক্ষমা করে দেবে।
এ ব্যাপারে উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফয়জুর রহমান বলেন, দলের সিদ্ধান্ত না মেনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের তারা আমলে নিচ্ছেন না। তারপরও দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন তিনি। তিনি বলেন, জনগণ অবশ্যই ভালো জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল সিলেটকে বলেন, যারা ইতিপূর্বে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করেছেন শেখ হাসিনা তাদেরকে এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন দেননি।
এবারো যারা নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।ইতোমধ্যে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় অনেক নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক শ্যামল সিলেট
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত