শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

সিলেটে বিএনপি নেতা আ.ফ.ম কামাল খুন, দুই ছাত্রদলকর্মী গ্রেফতার



সিলেটে বিএনপি নেতা আ.ফ.ম কামাল খুন, দুই ছাত্রদলকর্মী গ্রেফতার
সিলেট নগরীর আম্বরখানায় বিএনপি নেতা আফম কামালকে ছুরিকাঘাত করে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাত ৯ টার দিকে বড়বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত আফম কামাল (৪২)সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন আলীনগর পালপুরের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে ও নগরীর বালুচর এলাকার বাসিন্দা। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট আইন কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ছিলেন। তিনি এক সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের অনুসারী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর খাসদবির এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা আফম কামালের প্রাইভেট কার আটকিয়ে চালকের আসনে বসা অবস্থায় তার বুকে ও হাতে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের ধারণা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সংঘাতের কারণে খুন হতে পারেন আফম কামাল। এ ঘটনায় সাবেক ছাত্রদলের দুই নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আফম কামাল নিজের প্রাইভেককারে চালানো অবস্থায় তাকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, কামালের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জড়ো হন। খুনের ঘটনায় নেতকর্মীরা রাত পৌনে ১১টার দিকে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভকারীরা নগরীর চৌহাট্টাস্থ সরকারি আলিয়া মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া চৌহাট্টা ও রিকাবীবাজার পয়েন্টে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভার তোরণ ভাঙচুর করে। ওই এলাকায় সাঁটানো ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের সামনে থাকা জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান সাংবাদিকদের বলেন, আফম কামালকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার পেছনে সরকার দলীয় ‘সন্ত্রাসী’ নেতাকর্মীরা জড়িত রয়েছেন। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার দাবি করেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়দিন আগে বিএনপির গণসমাবেশ নিয়ে নেতাকর্মীরা সিসিকের ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীমের বাসায় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আফম কামালও ছিলেন। বৈঠক থেকে বিএনপির গণসমাবেশের বিষয় নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে বৈঠক অসমাপ্ত রেখে উঠে আসেন আফম কামালসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। এরই জের ধরে তাকে খুন করা হতে পারে- এমন ধারণাও করছেন আফম কামাল সমর্থকরা। একাধিক সূত্র জানায়, আফম কামাল আম্বরখানা লাহিন এয়ার ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে লোকজনকে বিদেশে পাঠানোর কাজেও জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় ভোক্তভোগীকে সৌদি পাঠানোর নামে সাড়ে ৩লাখ টাকা পাওনা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে ২১ অক্টোবরে আজিজুর রহমান সম্রাট নামে লামাকাজির এক ব্যক্তি কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহারনামীয় ৪ নং আসামি ছিলেন আফম কামাল। মামলায় কামালসহ ১০জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই ঘটনার জেরেও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে কিনা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের তান্ডবের প্রতিবাদে রাতেই নগরীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন। রাত ১১টার দিকে রিকাবীবাজার পয়েন্ট থেকে এ বিক্ষোভ বের হয়ে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা তপন মিত্র, জেলার নেতা মোস্তাক আহমদ পলাশসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিলেটে বিএনপি নেতা আ.ফ.ম কামাল খুন, দুই ছাত্রদলকর্মী গ্রেফতার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২২

featured Image
সিলেট নগরীর আম্বরখানায় বিএনপি নেতা আফম কামালকে ছুরিকাঘাত করে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাত ৯ টার দিকে বড়বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত আফম কামাল (৪২)সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন আলীনগর পালপুরের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে ও নগরীর বালুচর এলাকার বাসিন্দা। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট আইন কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ছিলেন। তিনি এক সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের অনুসারী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর খাসদবির এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা আফম কামালের প্রাইভেট কার আটকিয়ে চালকের আসনে বসা অবস্থায় তার বুকে ও হাতে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের ধারণা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সংঘাতের কারণে খুন হতে পারেন আফম কামাল। এ ঘটনায় সাবেক ছাত্রদলের দুই নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আফম কামাল নিজের প্রাইভেককারে চালানো অবস্থায় তাকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, কামালের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জড়ো হন। খুনের ঘটনায় নেতকর্মীরা রাত পৌনে ১১টার দিকে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভকারীরা নগরীর চৌহাট্টাস্থ সরকারি আলিয়া মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া চৌহাট্টা ও রিকাবীবাজার পয়েন্টে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভার তোরণ ভাঙচুর করে। ওই এলাকায় সাঁটানো ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের সামনে থাকা জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান সাংবাদিকদের বলেন, আফম কামালকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার পেছনে সরকার দলীয় ‘সন্ত্রাসী’ নেতাকর্মীরা জড়িত রয়েছেন। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার দাবি করেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়দিন আগে বিএনপির গণসমাবেশ নিয়ে নেতাকর্মীরা সিসিকের ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীমের বাসায় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আফম কামালও ছিলেন। বৈঠক থেকে বিএনপির গণসমাবেশের বিষয় নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে বৈঠক অসমাপ্ত রেখে উঠে আসেন আফম কামালসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। এরই জের ধরে তাকে খুন করা হতে পারে- এমন ধারণাও করছেন আফম কামাল সমর্থকরা। একাধিক সূত্র জানায়, আফম কামাল আম্বরখানা লাহিন এয়ার ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে লোকজনকে বিদেশে পাঠানোর কাজেও জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় ভোক্তভোগীকে সৌদি পাঠানোর নামে সাড়ে ৩লাখ টাকা পাওনা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে ২১ অক্টোবরে আজিজুর রহমান সম্রাট নামে লামাকাজির এক ব্যক্তি কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহারনামীয় ৪ নং আসামি ছিলেন আফম কামাল। মামলায় কামালসহ ১০জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই ঘটনার জেরেও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে কিনা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের তান্ডবের প্রতিবাদে রাতেই নগরীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন। রাত ১১টার দিকে রিকাবীবাজার পয়েন্ট থেকে এ বিক্ষোভ বের হয়ে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা তপন মিত্র, জেলার নেতা মোস্তাক আহমদ পলাশসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪