শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ওসমানীনগর ছাত্রলীগ: ১৭বছর অপেক্ষার অবসান
প্রকাশের তারিখ : ২৯ নভেম্বর ২০২২
কমিটি বিহীন ১৭ বছর হচ্ছে পার করেছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা ও তাজপুর ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগ। কমিটি না থাকায় ছন্নছাড়া চলেছে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনটি। ফলে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই চৌধুরীর বলয়ে বিভক্ত হয়েছিল এতোদিন।
এই সময়ে ছাত্রত্বের সোনালী সময় পর করেছেন অনেকে। তাদের কপালে জুটেনি পড় পদবী।অপেক্ষার যন্ত্রণায় অনেকে ছাত্রলীগ থেকে নাম লিখিয়েছেন যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগে। অথচ এই সময়ে জেলা ছাত্রলীগের তিনটি কমিটি অতিবাহিত হয়ে গেলেও খাদে পড়ে থাকা ওসমানীনগর ছাত্রলীগকে কেউ টেনে তুলেননি।
অবশেষে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ উদ্যোগ নেন ওসমানীনগর উপজেলা কমিটি গঠনের। তাতে উজ্জীবিত হচ্ছে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রলীগ।
ফলে দীর্ঘ ১৭ বছর কমিটি বিহীন ওসমানীনগর উপজেলা ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন নেতাকর্মী-সমর্থকরা।
উপজেলার গুরুত্বপূর্ন এ দুই ইউনিটের কমিটি না হওয়ায় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে অভিযোগ নেতাকর্মীদেরও।
ওসমানীনগর উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে ভূমিকা নিলো জেলা কমিটি। এরইমধ্যে পদ প্রত্যাশী শতাধিক নেতাকর্মীদের জীবনবৃত্তান্ত গ্রহন করেছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ।
গত রোববার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার তাজপুর কদমতলা ডাকবাংলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ ও সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ উপজেলা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত গ্রহন করেন।
সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনেকে জানান গত ২০০২ সালে ফয়সল আহমদ সুমনকে সভাপতি এবং রিংকু পালকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট থানা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হয়। কিছুদিন পর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্থায়ীভাবে প্রবাসে চলে যান।
এরপর ২০০৫ সালে এই কমিটি ভেঙে দেওয়া হলে নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে ওসমানীনগর থানা ছাত্রলীগ। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর অতিবাহিত হলেও ছাত্রলীগের কোন কমিটি গঠন করা হয়নি।ফলে ছাত্রলীগ কর্মীদের দলীয় কর্মসূচি ভুলে নেতাদের জন্মদিনের কেককাটা ও সেলফী নিয়ে ব্যস্থ থাকতে দেখা যায়।
২০১৪ সালে পূর্ণাঙ্গ ভাবে ওসমানীনগর উপজেলা গঠন হলে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের জন্য দৌ&ড়ঝাপ শুরু হয়। কিন্তু এ যাত্রায়ও কমিটি হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ত্রানবিতরনে আসলে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের গুঞ্জনে গ্রুপ-উপ গ্রুপে বিভক্ত থাকা ছাত্রলীগ নেতারা পদ ভাগিয়ে নিতে জোর লবিং ও দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেন।নিজেদের অনুগত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পদ পাইয়ে দিতে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের সিনিয়র নেতারাও বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালান। তখন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেলেও কমিটি গঠনের কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত না হওয়ায় আমেজে ভাটা পড়েছিলো।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যে সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচনী প্রচারণায় আসেন। তখন উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের জন্য তাদের কাছে খোলা চিঠি প্রদান করা হয়। কিন্তু দির্ঘদিন অপক্ষো করেও কোন সুফল মিলেনি।
গত বছরের শেষের দিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দ্বায়িত্বে আসেন ওসমানীনগরের নাজমুল হোসেন।তিনি দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদনের আশা জাগে নেতাকর্মীদের মনে।
সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। যাছাই বাছাই করে ত্যাগী নেতাদের হাতে ওসমানীনগর ও তাজপুর কলেজ ছাত্রলীগের দ্বায়িত্ব অতি শিগগিরই দেওয়া হবে।দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ছাত্রলীগকে ঘরে বসে থাকলে হবে না।
এসময় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগ সব সময় ঐক্যবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বাস্তবায়নে ছাত্রলীগ সব সময় মাঠে কাজ করছে। ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রলীগকে সু-সংগঠিত করতে এই উপজেলার দুই ইউনিটে কমিটি অনুমোদন করা হবে।
যারাই দ্বায়িত্ব পাবেন সব সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মাঠে কাজ করতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ বিএনপি জামাতের সকল চক্রান্ত মোকাবেলায় ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রলীগকে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত