শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তিন মাস রাজপথে থাকবে বিএনপি!
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৩
সরকার পতনের এক দফা দাবি নিয়ে আগামী তিন মাস রাজপথে থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আগের ১০ দফা দাবি থেকে সরে গিয়ে সরাসরি সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজানোর মতো অবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছে দলটি। সংগত কারণে এবার ঈদুল আজহার পর তথা চলতি জুলাই মাসেই দেশের রাজনীতি নয়া বাঁকে মোড় নিতে যাচ্ছে। ‘ঈদের পর আন্দোলন’ কথাটি কৌতুকপ্রদ হয়ে উঠলেও এবার সত্যিকারের দামামা বাজাতে প্রস্তুত বিএনপি। আরো প্রায় ৩৬টি দল রাজপথে বিএনপির সঙ্গে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই বিএনপি কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নতুন ডেটলাইন ঠিক করেছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক নাজুক অবস্থা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া ইত্যাদি স্পর্শকাতর বিষয় বিএনপির দাবি আদায়ের পক্ষে কার্যকর টনিক হিসেবে কাজ করবে। যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় অন্য দলগুলোও এক দফা আন্দোলনের সঙ্গে একমত হয়েছে। এর বাইরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে নামার চেষ্টা করছে জামায়াত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জুলাইয়ের মাঝামাঝি ঢাকায় আসছে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। গুরুত্বপূর্ণ ওই সফরে নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড। ওই প্রতিনিধিদলে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু’র নামও রয়েছে। বাংলাদেশ সফরকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
এসব বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সুরাহার পথ খোঁজা হতে পারে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও শিগগির ঢাকা সফর করতে পারে। তাই মাঠ এবং কূটনীতির টেবিলে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে চলতি জুলাই মাস। এমন একটি সময় বিএনপিও রাজপথে শক্তি দেখাতে তৎপরতা শুরু করেছে।
এক দফা দাবির বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শিগগির আমরা এক দফা আন্দোলন শুরু করব। অর্থাৎ বিএনপি দশ দফা ও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের দফাগুলো মিলিয়ে এক দফা করা হয়েছে। অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন কমিশনের অধীনে নির্বাচন। এখন এসব দাবি নিয়ে একটা জায়গায় আমরা এসেছি। সেটা মূলত এই অবৈধ সরকারের পদত্যাগের দাবি।’
তিনি আরো বলেন, ‘হরতাল-অবরোধের মতো কোনো কর্মসূচিতে সচেতনভাবে আমরা যাচ্ছি না। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন হচ্ছে, আগামী দিনেও তাই হবে। তবে এবার আন্দোলনের ধরন হবে ভিন্ন। জনগণের সম্পৃক্ততাও থাকবে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। সরকার যাতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় রাজপথের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গতিও সেভাবে ত্বরান্বিত হবে।’
বিএনপি নেতারা জানান, কিছু দাবি সংবলিত করে একদফা দাবি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। যার মধ্যে প্রধান বিষয় সরকারের পদত্যাগ। আরও রয়েছে সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। এক দফার বিষয়ে ইতিমধ্যে একমত হয়েছে আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো। কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হবে। কর্মসূচির মধ্যে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, পদযাত্রা, লংমার্চ ও রোডমার্চ, সব শেষে ঢাকামুখী ‘চল চল ঢাকা চল’ কর্মসূচি থাকবে। নির্বাচন কমিশন, সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবন ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দেওয়ার ভাবনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এবার একটি বিষয় আমরা জোরালোভাবে স্পষ্ট করতে যাচ্ছি। সেটি হলো, শেখ হাসিনার কাছে পদত্যাগের দাবি জানাব না। কারণ দাবি জানিয়ে কাউকে পদত্যাগ করানো যায় না। প্রতিটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে জনগণ শেষ পর্যন্ত পদত্যাগে বাধ্য করে। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এবার সেই কাজটি করবে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল ড. অলি আহমদ বলেন, ‘আমরাও বিএনপির সঙ্গে একমত। দীর্ঘদিন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, চূড়ান্ত আন্দোলন এক দফারই আন্দোলন। এক দফার কর্মসূচিতে এলডিপিও রাজপথে থাকবে।’
এ ছাড়া যৌথ রূপরেখাও প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা জানান, বিরোধী আন্দোলনে সফলতা এলে এবং নির্বাচনে বিজয়ী হলে ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের যৌথ রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। শুধু দু-একটি বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও তা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তারা আশা করেন, চলতি সপ্তাহেই তা সমাধান হবে।
সূত্র মতে, বিএনপি ছাড়াও এক দফা আন্দোলনে একমত হয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চে থাকা ৬ দল- জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এলডিপি, গণফোরাম (একাংশ), পিপলস পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি। ১২-দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে থাকা জাতীয় পার্টি (জাফর), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় দল, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট (মাওলানা আবদুর রকীব), জাগপা (তাসমিয়া প্রধান), বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জাগপা (লুৎফর), ডেমোক্রেটিক লীগ, পিপলস লীগ, বাংলাদেশ ন্যাপ (শাওন), বিকল্প ধারা বাংলাদেশ (নুরুল আমিন বেপারি), সাম্যবাদী দল (নূরুল ইসলাম), গণদল, ন্যাপ ভাসানী (আজহারুল ইসলাম) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি পার্টি। গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মার্কবাদী-লেলিনবাদী) ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল। বিএনপি নেতারা জানান, আপাতত এসব দল এক দফা আন্দোলনে থাকছে। পরে আরো বেশ কটি দল যুক্ত হতে পারে।
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত