শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

সিলেটে মাছের ঘাটতি তিন হাজার টন!



সিলেটে মাছের ঘাটতি তিন হাজার টন!
রেণু পোনা উৎপাদনে নেই কোনো উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে রেণু পোনার সরবরাহ না পাওয়া আর মাছের খাবারের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে মাছ চাষে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন সিলেটের খামারিরা। বাজারে চাষের মাছের চাহিদা থাকলেও তা বিক্রি করে খামারের খরচ উঠছে না বলে দাবি করেছেন মাছচাষিরা। তারা বলছেন, সিলেটের সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোথাও মাছের রেণু পোনা উৎপাদন করা হয় না। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পোনা কিনে আনতে গিয়ে বড় একটা খরচ করতে হয় খামারিদের। মাছের খাবারের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির কারণে, মাছ বড় করতে যে খরচ হচ্ছে, মাছ বিক্রি করে সে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রাকৃতিকভাবে মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ এলাকা সিলেটের অধিবাসীদের মধ্যে হাওর-নদীর মাছের প্রতি আলাদা টান আছে। তবে জলাভূমি কমে আসায় চাহিদার বিপরীতে ‘দেশি’ মাছের জোগান কমছে। বিপরীতে বাড়ছে পুকুর-খামারে উৎপাদিত মাছের চাহিদা। এখনো সিলেটের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ মাছ আসে প্রাকৃতিক জলাধার হাওর-বিল থেকে। তবে জলাধার ভরাট ও অন্যান্য কারণে কমছে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন। সে তুলনায় বাড়ছে না পুকুর বা খামারে মাছের চাষ। জেলায় চাহিদার তুলনায় মাছের ঘাটতি রয়েছে প্রায় তিন হাজার টন। নগরীর শিববাড়ি এলাকার মাছ চাষি বাবলা আহমেদ বলেন, মাছ চাষটা ভালো বুঝি। তা ছাড়া অনেক দিনের ব্যবসা তাই ছাড়তে পাড়ছি না। কিন্তু বছর শেষে লাভ আসছে না। ঋণের বোঝা বাড়ছে। এদিকে বাজারে মাছের ফিডের প্রতি কেজি এখন প্রায় ৮৪ টাকা। এক কেজি মাছ তৈরি করতে দেড় কেজি ফিড খাওয়াতে হয়। খামারের শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ পকেট থেকে দিতে হয়। এভাবে বেশিদিন ব্যবসা চালানো যাবে না। দক্ষিণ সুরমা এলাকার মাছ চাষি খয়সর আহমেদ বলেন, সিলেটে কেউ পোনা উৎপাদন করে না। আনতে হয় যশোর বা বগুড়া থেকে। অনেকে কন্ট্রাক্টে এনে দেন। কিন্তু খরচ পড়ে অনেক। অনেক সময় ভুল পোনা দেওয়ায় হয়। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে সহায়তার কথা বলা হয় কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কিছু পোনা উৎপাদন হলেও সেখান থেকে সহজে পাওয়া যায় না। পোনা পেতেই সিলেটের চাষিদের অনেক বেগ পেতে হয়। আলাপকালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সীমা রানী বিশ্বাস জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাছচাষিদের নানাভাবে উৎসাহ ও পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়ভাবে মাছের পোনা উদপাদনের ব্যবস্থা না থাকা একটা সীমাবদ্ধতা। এ জন্য বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া মাছ চাষে যান্ত্রিকীকরণ ও দেশি মাছ চাষের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে যুদ্ধের কারণে খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকছে না, এ জন্য স্থানীয়ভাবে মাছের খাবার উৎপাদনেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সিলেটে ২৭৭টি বাণিজ্যিক মৎস্য খামার ও ৬৬৭টি জলমহালে উৎপাদন হয় প্রায় ১৫ হাজার টন মাছ। অন্যদিকে জেলার সরকারি-বেসরকারি পুকুরে উৎপাদিত হয় প্রায় ২৪ হাজার টন মাছ। তবে জেলার ৫৫ হাজার ৩৪৮টি পুকুরের মধ্যে অধিকাংশ পুকুর এখনো চাষের বাইরে। রেণু পোনার অভাব আর মাছের খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে এসব পুকুরে মাছ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না পুকুর মালিকরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিলেটে মাছের ঘাটতি তিন হাজার টন!

প্রকাশের তারিখ : ১৫ নভেম্বর ২০২৩

featured Image
রেণু পোনা উৎপাদনে নেই কোনো উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে রেণু পোনার সরবরাহ না পাওয়া আর মাছের খাবারের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে মাছ চাষে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন সিলেটের খামারিরা। বাজারে চাষের মাছের চাহিদা থাকলেও তা বিক্রি করে খামারের খরচ উঠছে না বলে দাবি করেছেন মাছচাষিরা। তারা বলছেন, সিলেটের সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোথাও মাছের রেণু পোনা উৎপাদন করা হয় না। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পোনা কিনে আনতে গিয়ে বড় একটা খরচ করতে হয় খামারিদের। মাছের খাবারের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির কারণে, মাছ বড় করতে যে খরচ হচ্ছে, মাছ বিক্রি করে সে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রাকৃতিকভাবে মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ এলাকা সিলেটের অধিবাসীদের মধ্যে হাওর-নদীর মাছের প্রতি আলাদা টান আছে। তবে জলাভূমি কমে আসায় চাহিদার বিপরীতে ‘দেশি’ মাছের জোগান কমছে। বিপরীতে বাড়ছে পুকুর-খামারে উৎপাদিত মাছের চাহিদা। এখনো সিলেটের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ মাছ আসে প্রাকৃতিক জলাধার হাওর-বিল থেকে। তবে জলাধার ভরাট ও অন্যান্য কারণে কমছে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন। সে তুলনায় বাড়ছে না পুকুর বা খামারে মাছের চাষ। জেলায় চাহিদার তুলনায় মাছের ঘাটতি রয়েছে প্রায় তিন হাজার টন। নগরীর শিববাড়ি এলাকার মাছ চাষি বাবলা আহমেদ বলেন, মাছ চাষটা ভালো বুঝি। তা ছাড়া অনেক দিনের ব্যবসা তাই ছাড়তে পাড়ছি না। কিন্তু বছর শেষে লাভ আসছে না। ঋণের বোঝা বাড়ছে। এদিকে বাজারে মাছের ফিডের প্রতি কেজি এখন প্রায় ৮৪ টাকা। এক কেজি মাছ তৈরি করতে দেড় কেজি ফিড খাওয়াতে হয়। খামারের শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ পকেট থেকে দিতে হয়। এভাবে বেশিদিন ব্যবসা চালানো যাবে না। দক্ষিণ সুরমা এলাকার মাছ চাষি খয়সর আহমেদ বলেন, সিলেটে কেউ পোনা উৎপাদন করে না। আনতে হয় যশোর বা বগুড়া থেকে। অনেকে কন্ট্রাক্টে এনে দেন। কিন্তু খরচ পড়ে অনেক। অনেক সময় ভুল পোনা দেওয়ায় হয়। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে সহায়তার কথা বলা হয় কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কিছু পোনা উৎপাদন হলেও সেখান থেকে সহজে পাওয়া যায় না। পোনা পেতেই সিলেটের চাষিদের অনেক বেগ পেতে হয়। আলাপকালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সীমা রানী বিশ্বাস জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাছচাষিদের নানাভাবে উৎসাহ ও পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়ভাবে মাছের পোনা উদপাদনের ব্যবস্থা না থাকা একটা সীমাবদ্ধতা। এ জন্য বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া মাছ চাষে যান্ত্রিকীকরণ ও দেশি মাছ চাষের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে যুদ্ধের কারণে খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকছে না, এ জন্য স্থানীয়ভাবে মাছের খাবার উৎপাদনেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সিলেটে ২৭৭টি বাণিজ্যিক মৎস্য খামার ও ৬৬৭টি জলমহালে উৎপাদন হয় প্রায় ১৫ হাজার টন মাছ। অন্যদিকে জেলার সরকারি-বেসরকারি পুকুরে উৎপাদিত হয় প্রায় ২৪ হাজার টন মাছ। তবে জেলার ৫৫ হাজার ৩৪৮টি পুকুরের মধ্যে অধিকাংশ পুকুর এখনো চাষের বাইরে। রেণু পোনার অভাব আর মাছের খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে এসব পুকুরে মাছ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না পুকুর মালিকরা।

সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪