শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার নার্সের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ



ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার নার্সের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা না দিয়ে অশুভ আচরণসহ দূর্ব্যবহার এর অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে শনিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি দায়ের করেন, ভুক্তভোগি লুৎফুর রহমান শাওন। তিনি ছাতক পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের গণক্ষাই আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ছাতক প্রতিনিধি।

জানা যায়, গেল ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে হঠাৎ পেটে ব্যথা নিয়ে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে যান সাংবাদিক লুৎফুর রহমান শাওন। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মহসিন দুটি ইনজেকশন লিখে দিলে বাহিরের ফার্মেসি থেকে ক্রয় করে আনা হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ইনজেকশন পুষ করার জন্য রুবেল নামের একজন স্টাফ এর মোবাইল নাম্বার দেন। রুবেলকে ফোন দেওয়ার ২০ মিনিট পরে এসে রুবেল ইনজেকশন পুষ করেন। কিন্তু পেটের ব্যথা না কমায় কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি দেন। কিন্তু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স, আয়া বা ওয়ার্ড বয় কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

তারা সরকারি ডিউটি রেখে দরজা বন্ধ করে ঘুমাচ্ছিলেন। রোগির স্বজন কর্তৃক ঘুমন্ত নার্সদের দরজায় ডাকার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে অশুভ আচরণ ও দূর্ব্যবহার করেন। এক পর্যায়ে স্যালাইন ইনজেকশন পুষ করে ডিউটিতে থাকা নার্স, আয়া পুনরায় ঘুমিয়ে পড়েন।

এদিকে, ভর্তির প্রায় এক ঘন্টা পর পেটের ব্যথা বেড়ে গেলে ঘুমিয়ে থাকা নার্স ও জরুরি বিভাগে গিয়ে কোনো ডাক্তার না পেয়ে নিরুপায় হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করে অন্যত্রে চলে যেতে বাধ্য হন। ভুক্তভোগি শাওন জানান, মেডিকেল থেকে তাকে কোনো ধরনের ঔষধ দেওয়া হয় নি। অথচ সরকার প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার ঔষধ বরাদ্দ দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভর্তি রোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিন রাত ১২ টা হওয়ার পরেই ডিউটিতে থাকা ডাক্তার, নার্স, আয়া কাউকে খোঁজে পাওয়া যায় না। হাসপাতালের খাবারেও ভেজাল, ওয়ার্ডে টয়লেট, লাইটিং ফ্যানসহ ইলেক্টিক ব্যবস্থা নাজুক।

হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্সদের বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে অশুভ আচরণ ও দূর্ব্যবহার, ডেলিভারী রোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে মিষ্টি খাওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাক্তার সাইদুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজীব চক্রবর্তীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জরুরি একটি মিটিংয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি আরএমও কর্তৃক হোয়াটসআপে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং বলেন বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ঢাকা থেকে ফিরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার নার্সের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

featured Image

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা না দিয়ে অশুভ আচরণসহ দূর্ব্যবহার এর অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে শনিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি দায়ের করেন, ভুক্তভোগি লুৎফুর রহমান শাওন। তিনি ছাতক পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের গণক্ষাই আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ছাতক প্রতিনিধি।

জানা যায়, গেল ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে হঠাৎ পেটে ব্যথা নিয়ে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে যান সাংবাদিক লুৎফুর রহমান শাওন। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মহসিন দুটি ইনজেকশন লিখে দিলে বাহিরের ফার্মেসি থেকে ক্রয় করে আনা হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ইনজেকশন পুষ করার জন্য রুবেল নামের একজন স্টাফ এর মোবাইল নাম্বার দেন। রুবেলকে ফোন দেওয়ার ২০ মিনিট পরে এসে রুবেল ইনজেকশন পুষ করেন। কিন্তু পেটের ব্যথা না কমায় কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি দেন। কিন্তু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স, আয়া বা ওয়ার্ড বয় কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

তারা সরকারি ডিউটি রেখে দরজা বন্ধ করে ঘুমাচ্ছিলেন। রোগির স্বজন কর্তৃক ঘুমন্ত নার্সদের দরজায় ডাকার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে অশুভ আচরণ ও দূর্ব্যবহার করেন। এক পর্যায়ে স্যালাইন ইনজেকশন পুষ করে ডিউটিতে থাকা নার্স, আয়া পুনরায় ঘুমিয়ে পড়েন।

এদিকে, ভর্তির প্রায় এক ঘন্টা পর পেটের ব্যথা বেড়ে গেলে ঘুমিয়ে থাকা নার্স ও জরুরি বিভাগে গিয়ে কোনো ডাক্তার না পেয়ে নিরুপায় হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করে অন্যত্রে চলে যেতে বাধ্য হন। ভুক্তভোগি শাওন জানান, মেডিকেল থেকে তাকে কোনো ধরনের ঔষধ দেওয়া হয় নি। অথচ সরকার প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার ঔষধ বরাদ্দ দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভর্তি রোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিন রাত ১২ টা হওয়ার পরেই ডিউটিতে থাকা ডাক্তার, নার্স, আয়া কাউকে খোঁজে পাওয়া যায় না। হাসপাতালের খাবারেও ভেজাল, ওয়ার্ডে টয়লেট, লাইটিং ফ্যানসহ ইলেক্টিক ব্যবস্থা নাজুক।

হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্সদের বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে অশুভ আচরণ ও দূর্ব্যবহার, ডেলিভারী রোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে মিষ্টি খাওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাক্তার সাইদুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজীব চক্রবর্তীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জরুরি একটি মিটিংয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি আরএমও কর্তৃক হোয়াটসআপে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং বলেন বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ঢাকা থেকে ফিরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।


সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪