দেখতে দেখতে রহমতের দশক শেষে চলে যাচ্ছে মাগফিরাতও। মহামারী করোনাকালের প্রথম সংক্রমণের সময় গেলো বছর এভাবে এক গদিতে বসে মালিক-কর্মচারীদের ইফতার খাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়েনি কোথাও।
এবছর রমজানের শুরু থেকে ১১টি রোজা ছিল কড়া লকডাউনে। বন্ধ ছিল শপিংমল আর দোকানপাট। ১২ রমজান অর্থাৎ ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় বিপনীবিতানগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য। শুরু থেকে প্রথম দিকে পণ্য বিপনীগুলো বিশেষ করে কাপড়, টেইলার্স আর প্রসাধনী ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত মহাজনরা বাসা-বাড়িতে গিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ইফতার করে তৃপ্তি অনুভব করেছেন।
তবে রমজান মাসের প্রথম দশকের পর থেকে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র ক্রেতাদের ভীড় বাড়তে শুরু হয়। যার দরুণ দোকানের গদি কিংবা ফ্লোরে বসেই ইফতার সারতে হয় ব্যবসায়ীদের।
শুক্রবার ইফতারের আধঘন্টা আগে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সিলেট নগরীর করিম উল্লাহ মার্কেটের নিবরাস, সাদাফ বস্ত্র বিতান, এরাবিয়ান টেইলার্স, পাদুকালয়সহ প্রতিটি দোকানে মালিক-কর্মচারীর ইফতারের পূর্ব প্রস্ততি।
শামীমাবাদ থেকে টিফিনে করে ইফতার নিয়ে আসা রাজু তো প্রায়ই ঘর্মাক্ত হয়ে গেছে। তারপরও তার চেহারায় আনন্দের রেখা। এমাদকে সাথে নিয়ে দোকানের গদিতে প্রস্তুত করা হচ্ছে ইফতার।
এভাবেই প্রতিদিন তারা একসাথে বসে ইফতার গ্রহণের মাঝে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন বলে শ্যামল সিলেটকে জানিয়েছেন।
নিবরাস ও সাদাফ বস্ত্র বিতানের পরিচালক আবু সালেহ আরিফ এবং আবু সুফিয়ান বলেন-এটা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নেয়ামত।
সারা বছর আমরা যাদেরকে হোটেল-রেস্তোরায় দুপুরের খাবারের জন্য ৫০/১০০টাকা দিয়ে নিজেরা দায়মুক্ত হই।
কিন্তু রমজান এলেই তাদেরকে নিয়ে একই গদিতে একসাথে বসে একই খাবার গ্রহণ করি। এটা রমজানের মহান শিক্ষা বলেই মনে করেন এই ব্যবসায়ী।
পাদুকালয়ের সেলসম্যান রাজু ও এমাদ বলেন-ভাই খুব খুশী লাগে যখন মহাজন এর সাথে বসে ইফতার খাই।
এদিকে নিবরাস সুন্নাহ ঘরের পরিচালক তুফায়েল আহমদ শ্যামল সিলেটকে বলেন, আমি দোকানের কর্মচারীদের সাথে ইফতার করার মাধ্যমে আত্মিক তৃপ্তিবোধ করি।
তাছাড়া এখন থেকে পুরোধমে ঈদের বেচাকেনা শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।
মতামত