আজ ১২ সেপ্টেম্বর, রবিবার থেকে সারাদেশে খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর উল্টো চিত্র দেখা যায় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে।
খুলার দিনে স্কুলটি তালাবদ্ধ। ভিডিওচিত্র ধারণ করায় সাংবাদিককে হুমকি দিলেন এক সহকারি শিক্ষক।
দোয়ারাবাজারের আলমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। দুপুর পর্যন্ত তালাবদ্ধ ওই বিদ্যালয়ে দেখা মেলেনি কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর। টানানো হয়নি জাতীয় পতাকা।
খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা দুপুর বারোটায় ছুটে যান ওই বিদ্যালয়ে। এসময় স্থানীয় দৈনিক হাওরাঞ্চলের কথা’র দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি এম এ মোতালিব ভূঁইয়া তালাবদ্ধ স্কুলের ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে দেন। এতে ওই স্কুলের সহকারি শিক্ষক আল আমিন ওই সংবাদকর্মীর মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় দোয়ারাবাজার থানায় একটি জিডি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, রোববার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয় তালাবদ্ধ থাকায় আগত অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে যায় । শুধু দায় এড়াতে সকালে কয়েকজন শিক্ষক এসে কিছু মাস্ক বিতরণ করেই তারা চলে যান।
এদিকে সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিতের হুমকি প্রদানে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। দুপুরে জরুরি বৈঠকে হুমকিদাতা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে দোয়ারাবাজার থানা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেন তারা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে জানান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
সংবাদকর্মী এম এ মোতালিব ভূঁইয়া বলেন, 'আমি খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুপুর বারোটায় আলমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে দেই। কিছুক্ষণ পরেই সহকারী শিক্ষক আলআমিন আমার মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালমন্দসহ আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।'
জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ মিয়া বলেন, 'স্কুল খোলা হয়েছে। সাংবাদিকের সাথে সহকারী শিক্ষক আল আমিনের মোবাইল ফোনে অসদাচরণের বিষয়ে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।'
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন কুমার সানা বলেন, 'বিদ্যালয় তালাবদ্ধ রাখার খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
দোয়ারাবাজার থানার ওসি দেবদুলাল ধর বলেন, 'শিক্ষক কর্তৃক সংবাদকর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের হুমকির বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।'
মতামত