রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

ডিজেল সঙ্কটের কবলে সিলেট



ডিজেল সঙ্কটের কবলে সিলেট
জ্বালানী তেল ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে সিলেটে। চাহিদার বিপরীতে অর্ধেক মিলছে ডিজেল। রেলওয়ের ইঞ্জিন ও জ্বালানীবাহী ওয়াগন সংকটের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবার সেচ মৌসুমের কারনে এই জ্বালানী তেলের চাহিদাও বেড়েছে।   বাড়তি চাহিদা ও ওয়াগন না আসার কারনে সঙ্কট তীব্র আকার দেখা দিয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই সঙ্কট অব্যাহত থাকলে অনেক পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে পড়বে, জানিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা।   গত ডিসেম্বর থেকে এই সংকট চলে আসলেও এই সপ্তাহে এসে তা চরম আকার ধারন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় ডিপোগুলোতেও ডিজেলের মজুদ ফুরিয়ে গেছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকার কারণে প্রায় প্রতিদিনই ভারী যানবাহন চালকদের সঙ্গে পাম্প কর্মচারিদের বাগবিতন্ডায় লিপ্ত হতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়ের ইঞ্জিন সংকটের কারণে চট্টগ্রাম থেকে রেলের তেলবাহী ওয়াগন সিলেটে আসতে পারছে না।   প্রতি সপ্তাহে যেখানে ৫টি ডিজেলবাহী ওয়াগন (রেক) আসার কথা, সেখানে সপ্তাহে আসছে দু’টি করে।গত শুক্রবার একটি তেলবাহি ওয়াগন (রেক) আসার কথা থাকলেও আসেনি। সংশ্লিষ্টরা জানান, বোরো মৌসুমে সিলেট ও সুনামগঞ্জে প্রতি সপ্তাহে ডিজেলের চাহিদা রয়েছে ২৭ লাখ লিটার। অথচ এর বিপরীতে মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ লিটার আসছে।   বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন সিলেটের সমন্বয়ক ও মেঘনা পেট্টোলিয়ামের জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সিলেটে সপ্তাহে ৩ দিন (মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার) ডিজেলবাহী ওয়াগন (রেক) আসে। এরমধ্যে মেঘনা পেট্টলিয়ামে ১৫৫ লিটার, যমুনায় ১৩১ লিটার এবং পদ্মায় ১৫৪ লিটার এবং পেট্টল আসে ৩৯ হাজার লিটার তেল আসে।   পদ্মা ওও যমুনা পেট্টলিয়ামে ১০ লাখ লিটার করে এবং মেঘনায় ৮ লাখ লিটার চাহিদা রয়েছে। সপ্তাহে ৩দিন আসার পর শুক্র, শনি বন্ধ থাকায় রোববারে চাপ পড়ে বেশি। আর সেচ মৌসুম হওয়াতে বিশেষ করে ডিজেলের চাহিদাও বেশি রয়েছে। তিনি বলেন, সিলেটে জ্বালানি তেলের সংকট নতুন নয়, এটি দীর্ঘদিনের।   এ অবস্থায় গত চারদিন ধরে রেলওয়ের বেশ কয়েকটি ইঞ্জন বিশ্বইজতেমায় ব্যবহৃত হওয়ার কারণে এই সংকট আরো তীব্রতর হয়েছে। কেননা, সড়ক পথে ভৈরবের আশুগঞ্জ থেকে সিলেটের দূরত্ব প্রায় ১৫৭ কিলোমিটার। যে কারণে সড়ক পথে পরিবহণ খরচ বেশি পড়ে। তাই রেলপথই এ অঞ্চলে জ্বালানি আমদানির একমাত্র ভরসা।   ফলে সংকট উত্তরণে বিকল্প হিসেবে ‘রিভার ডিপো’ করে নৌ পথে তেল আসার ব্যবস্থা করতে হবে। এদিকে, ডিজেল সংকটের কারনে পেট্রোল পাম্প মালিকদের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বোরো চাষের মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেল না পেয়ে ফসল উৎপাদন নিয়ে শংকা আছেন কৃষকরা।   ডিজেল সংকট দেখা দেওয়ায় যানবাহন চলাচল, সেচ পাম্প ও জেনারেটর চালানোর ক্ষেত্রে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে বৈঠকে বসছেন পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। শনিবার সকাল ১১টায় নগরীর দক্ষিণ সুরমার কুশিয়ারা কনভেনশন হলে এসোসিয়েশনের বৈঠক হয়। এদিন বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে আগামি ২২ জানুয়ারি থেকে সিলেট বিভাগের ১১৪টি পেট্রোল পাম্প মালিকরা জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রেখে ধর্মঘট আহ্বান করেছেন।   এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, সিলেটে ৩ বছর ধরে জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট বিদ্যমান। চাহিদার অর্ধেক ডিজেলও এখন পাওয়া যায় না।   ফলে ব্যবসা পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দিনদিন এই সংকট আরো তীব্র হচ্ছে। যার প্রভাব পড়বে বোরো চাষে ও মালামাল পরিবহণের ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, সপ্তাহে যেখানে প্রতিদিন একটি করে তেলবাহী লরি চট্টগ্রাম থেকে আসার কথা, সেখানে সপ্তাহে মাত্র একটি আসছে। তাই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।   ব্যবসায়ীরা উপায়ন্ত না পেয়ে ভৈরবের আশুগঞ্জ থেকে নিজ খরচে জ্বালানি তেল আনতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।এ নিয়ে শনিবার জরুরী বৈঠক আহ্বান করা হয়।পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়াতে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।   সূত্র: দৈনিক শ্যামল সিলেট

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডিজেল সঙ্কটের কবলে সিলেট

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৩

featured Image
জ্বালানী তেল ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে সিলেটে। চাহিদার বিপরীতে অর্ধেক মিলছে ডিজেল। রেলওয়ের ইঞ্জিন ও জ্বালানীবাহী ওয়াগন সংকটের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবার সেচ মৌসুমের কারনে এই জ্বালানী তেলের চাহিদাও বেড়েছে।   বাড়তি চাহিদা ও ওয়াগন না আসার কারনে সঙ্কট তীব্র আকার দেখা দিয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই সঙ্কট অব্যাহত থাকলে অনেক পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে পড়বে, জানিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা।   গত ডিসেম্বর থেকে এই সংকট চলে আসলেও এই সপ্তাহে এসে তা চরম আকার ধারন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় ডিপোগুলোতেও ডিজেলের মজুদ ফুরিয়ে গেছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকার কারণে প্রায় প্রতিদিনই ভারী যানবাহন চালকদের সঙ্গে পাম্প কর্মচারিদের বাগবিতন্ডায় লিপ্ত হতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়ের ইঞ্জিন সংকটের কারণে চট্টগ্রাম থেকে রেলের তেলবাহী ওয়াগন সিলেটে আসতে পারছে না।   প্রতি সপ্তাহে যেখানে ৫টি ডিজেলবাহী ওয়াগন (রেক) আসার কথা, সেখানে সপ্তাহে আসছে দু’টি করে।গত শুক্রবার একটি তেলবাহি ওয়াগন (রেক) আসার কথা থাকলেও আসেনি। সংশ্লিষ্টরা জানান, বোরো মৌসুমে সিলেট ও সুনামগঞ্জে প্রতি সপ্তাহে ডিজেলের চাহিদা রয়েছে ২৭ লাখ লিটার। অথচ এর বিপরীতে মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ লিটার আসছে।   বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন সিলেটের সমন্বয়ক ও মেঘনা পেট্টোলিয়ামের জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সিলেটে সপ্তাহে ৩ দিন (মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার) ডিজেলবাহী ওয়াগন (রেক) আসে। এরমধ্যে মেঘনা পেট্টলিয়ামে ১৫৫ লিটার, যমুনায় ১৩১ লিটার এবং পদ্মায় ১৫৪ লিটার এবং পেট্টল আসে ৩৯ হাজার লিটার তেল আসে।   পদ্মা ওও যমুনা পেট্টলিয়ামে ১০ লাখ লিটার করে এবং মেঘনায় ৮ লাখ লিটার চাহিদা রয়েছে। সপ্তাহে ৩দিন আসার পর শুক্র, শনি বন্ধ থাকায় রোববারে চাপ পড়ে বেশি। আর সেচ মৌসুম হওয়াতে বিশেষ করে ডিজেলের চাহিদাও বেশি রয়েছে। তিনি বলেন, সিলেটে জ্বালানি তেলের সংকট নতুন নয়, এটি দীর্ঘদিনের।   এ অবস্থায় গত চারদিন ধরে রেলওয়ের বেশ কয়েকটি ইঞ্জন বিশ্বইজতেমায় ব্যবহৃত হওয়ার কারণে এই সংকট আরো তীব্রতর হয়েছে। কেননা, সড়ক পথে ভৈরবের আশুগঞ্জ থেকে সিলেটের দূরত্ব প্রায় ১৫৭ কিলোমিটার। যে কারণে সড়ক পথে পরিবহণ খরচ বেশি পড়ে। তাই রেলপথই এ অঞ্চলে জ্বালানি আমদানির একমাত্র ভরসা।   ফলে সংকট উত্তরণে বিকল্প হিসেবে ‘রিভার ডিপো’ করে নৌ পথে তেল আসার ব্যবস্থা করতে হবে। এদিকে, ডিজেল সংকটের কারনে পেট্রোল পাম্প মালিকদের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বোরো চাষের মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেল না পেয়ে ফসল উৎপাদন নিয়ে শংকা আছেন কৃষকরা।   ডিজেল সংকট দেখা দেওয়ায় যানবাহন চলাচল, সেচ পাম্প ও জেনারেটর চালানোর ক্ষেত্রে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে বৈঠকে বসছেন পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। শনিবার সকাল ১১টায় নগরীর দক্ষিণ সুরমার কুশিয়ারা কনভেনশন হলে এসোসিয়েশনের বৈঠক হয়। এদিন বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে আগামি ২২ জানুয়ারি থেকে সিলেট বিভাগের ১১৪টি পেট্রোল পাম্প মালিকরা জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রেখে ধর্মঘট আহ্বান করেছেন।   এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, সিলেটে ৩ বছর ধরে জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট বিদ্যমান। চাহিদার অর্ধেক ডিজেলও এখন পাওয়া যায় না।   ফলে ব্যবসা পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দিনদিন এই সংকট আরো তীব্র হচ্ছে। যার প্রভাব পড়বে বোরো চাষে ও মালামাল পরিবহণের ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, সপ্তাহে যেখানে প্রতিদিন একটি করে তেলবাহী লরি চট্টগ্রাম থেকে আসার কথা, সেখানে সপ্তাহে মাত্র একটি আসছে। তাই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।   ব্যবসায়ীরা উপায়ন্ত না পেয়ে ভৈরবের আশুগঞ্জ থেকে নিজ খরচে জ্বালানি তেল আনতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।এ নিয়ে শনিবার জরুরী বৈঠক আহ্বান করা হয়।পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়াতে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।   সূত্র: দৈনিক শ্যামল সিলেট

সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪