শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

একমাস থেকে পাটলাই নদীতে আটকে আছে চুনা-কয়লাবাহী ট্রলার



একমাস থেকে পাটলাই নদীতে আটকে আছে চুনা-কয়লাবাহী ট্রলার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের পাটলাই নদীতে দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে শতাধিক ট্রলারের জট লেগে আছে। এ স্থানে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই ট্রলার সুলেমানপুর বাজার থেকে বোয়ালমারা পর্যন্ত আটকে আছে।   নৌযানগুলোর চালক ও শ্রমিকেরা পড়েছেন বিপাকে। খুব ধীরে দুই একটি ট্রলার মাঝেমধ্যে পক্ষকাল সময় নিয়ে পার হচ্ছে।   তবে নৌযানের চালকরা জানান, আমরা এখন বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের অপেক্ষায় আছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, পাটলাই নদী খননের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। শেষ হলে খননের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে। খনন হলে নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে। জামালগঞ্জের ইকবাল হোসেন জানান, কয়লা পরিবহনকারী তাদের ট্রলারটি ১৫ দিনে পার হয় গত বৃহস্পতিবার। এখন তিনি বিরাট লোকসানের মুখে পড়েছেন। কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন তালুকদার বলেন, ‘বড়ছড়া, বাগলী ও চারাগাঁও এই তিনটি স্টেশন দিয়ে কয়লা, চুনাপাথর আমদানি হয়। এসব পণ্য নদী পথে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়।   কিন্তু নৌজটের কারণে সবকিছু পুরোপুরি স্থবির। শুষ্ক মৌসুম কয়লা ও চুনাপাথর ব্যবসার সময়। কিন্তু সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। অন্যদিকে আটকে পড়া নৌযানগুলো ডাকাত দলের নজরে পড়েছে। রাতের আঁধারে ধরালো অস্ত্রের মুখে কয়লা লুঠ করার ঘটনা ঘটছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ২৫ টন কয়লা লুঠের ঘটনা ঘটে।   মাসুক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জিল্লুর রহমান বলেন, তার ট্রলারে ১৬৫ টন কয়লা ছিল। ডাকাতরা প্রায় ২৫ টন কয়লা লুট করে নিয়ে যায়।   তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বলেন, বাল্কহেড ডাকাতির অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। চুরি-ডাকাতি যাতে না হয় সেজন্য আমরা এলাকাটি নজরদারিতে রেখেছি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে এই সমস্যা চলছে। কিন্তু খননের উদ্যোগ নেই। এবার ঐ স্থানে পানি আরো কমেছে। পাটলাই নদীর দুই কিলোমিটার অংশ খুবই সরু ও অগভীর।   প্রতিদিন দু-তিনটির বেশি বাল্কহেড সুলেমানপুর নদী এলাকা পাড়ি দিতে পারে না। নৌকা শ্রমিকরা জানান, নদী ভরাটের কারণে সুলেমানপুর ঘাটে বড় ট্রলার থেকে কয়লা ও চুনা পাথর আনলোড করা হয় ছোট ট্রলারে।   তারপর আবার বড় নৌকায় মালামাল উঠাতে সময় ও অর্থের অপচয় হয়। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সুলেমানপুর বাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে নদীটির ২০০ ফুট স্থান আপাতত এস্কেভেটর দিয়ে খনন করলে দীর্ঘ এই নৌজট হ্রাস পেত। ভারত থেকে আমদানি করা কয়লা ও চুনাপাথর পাটলাই নদীপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা হয়ে থাকে। কিন্তু নাব্যতা সংকটে সারাদেশের জন্য আমদানিকৃত কয়লা ও চুনাপাথর পড়ে আছে।   স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন।   কমোডর গোলাম সাদেক জানান, নদীর নাব্য সমস্যা নিরসনে হাওর এলাকায় স্থায়ীভাবে খনন করে গভীরতা বাড়ানো হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারি পাটলাই নদীর ৩ কিলোমিটার সার্ভে করা হয়। আশা করি, বিআইডব্লিউটির মাধ্যমে নাব্যসংকট কাটবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


একমাস থেকে পাটলাই নদীতে আটকে আছে চুনা-কয়লাবাহী ট্রলার

প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

featured Image
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের পাটলাই নদীতে দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে শতাধিক ট্রলারের জট লেগে আছে। এ স্থানে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই ট্রলার সুলেমানপুর বাজার থেকে বোয়ালমারা পর্যন্ত আটকে আছে।   নৌযানগুলোর চালক ও শ্রমিকেরা পড়েছেন বিপাকে। খুব ধীরে দুই একটি ট্রলার মাঝেমধ্যে পক্ষকাল সময় নিয়ে পার হচ্ছে।   তবে নৌযানের চালকরা জানান, আমরা এখন বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের অপেক্ষায় আছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, পাটলাই নদী খননের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। শেষ হলে খননের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে। খনন হলে নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে। জামালগঞ্জের ইকবাল হোসেন জানান, কয়লা পরিবহনকারী তাদের ট্রলারটি ১৫ দিনে পার হয় গত বৃহস্পতিবার। এখন তিনি বিরাট লোকসানের মুখে পড়েছেন। কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন তালুকদার বলেন, ‘বড়ছড়া, বাগলী ও চারাগাঁও এই তিনটি স্টেশন দিয়ে কয়লা, চুনাপাথর আমদানি হয়। এসব পণ্য নদী পথে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়।   কিন্তু নৌজটের কারণে সবকিছু পুরোপুরি স্থবির। শুষ্ক মৌসুম কয়লা ও চুনাপাথর ব্যবসার সময়। কিন্তু সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। অন্যদিকে আটকে পড়া নৌযানগুলো ডাকাত দলের নজরে পড়েছে। রাতের আঁধারে ধরালো অস্ত্রের মুখে কয়লা লুঠ করার ঘটনা ঘটছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ২৫ টন কয়লা লুঠের ঘটনা ঘটে।   মাসুক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জিল্লুর রহমান বলেন, তার ট্রলারে ১৬৫ টন কয়লা ছিল। ডাকাতরা প্রায় ২৫ টন কয়লা লুট করে নিয়ে যায়।   তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বলেন, বাল্কহেড ডাকাতির অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। চুরি-ডাকাতি যাতে না হয় সেজন্য আমরা এলাকাটি নজরদারিতে রেখেছি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে এই সমস্যা চলছে। কিন্তু খননের উদ্যোগ নেই। এবার ঐ স্থানে পানি আরো কমেছে। পাটলাই নদীর দুই কিলোমিটার অংশ খুবই সরু ও অগভীর।   প্রতিদিন দু-তিনটির বেশি বাল্কহেড সুলেমানপুর নদী এলাকা পাড়ি দিতে পারে না। নৌকা শ্রমিকরা জানান, নদী ভরাটের কারণে সুলেমানপুর ঘাটে বড় ট্রলার থেকে কয়লা ও চুনা পাথর আনলোড করা হয় ছোট ট্রলারে।   তারপর আবার বড় নৌকায় মালামাল উঠাতে সময় ও অর্থের অপচয় হয়। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সুলেমানপুর বাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে নদীটির ২০০ ফুট স্থান আপাতত এস্কেভেটর দিয়ে খনন করলে দীর্ঘ এই নৌজট হ্রাস পেত। ভারত থেকে আমদানি করা কয়লা ও চুনাপাথর পাটলাই নদীপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা হয়ে থাকে। কিন্তু নাব্যতা সংকটে সারাদেশের জন্য আমদানিকৃত কয়লা ও চুনাপাথর পড়ে আছে।   স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন।   কমোডর গোলাম সাদেক জানান, নদীর নাব্য সমস্যা নিরসনে হাওর এলাকায় স্থায়ীভাবে খনন করে গভীরতা বাড়ানো হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারি পাটলাই নদীর ৩ কিলোমিটার সার্ভে করা হয়। আশা করি, বিআইডব্লিউটির মাধ্যমে নাব্যসংকট কাটবে।

সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪