রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খালেদা জিয়ার 'রাজনীতি' করা না করার বিতর্কে জড়াবে না বিএনপি
প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৩
বিএনপির সাজাপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা না করা নিয়ে বেশ বিতর্ক হচ্ছে। সম্প্রতি যে বিতর্কের অবতারণা সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা করছেন তাতে আপাতত জড়াবে না বিএনপি। দলটি মনে করে, সরকার অতি সচেতনভাবেই এ বিতর্ক সামনে আনছে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।
খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে পারা না পারার বিষয়টি বিএনপির জন্য একটি ট্র্যাপ বলে মনে করছেন নেতারা। আন্তর্জাতিক চাপ বা লোকদেখানোর কৌশলের কারণে এটা হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক নেতা। তবে সরকার বলছে, খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে যে বিতর্ক, তার পেছনে সরকারের কোন দুরভিসন্ধি নেই।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবি রয়েছে তা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতেই এমন বিতর্ক সামনে আনছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা না করা নিয়ে সরকারের অন্তত চারজন মন্ত্রী নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সর্বশেষ এটি নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আগে আমরা চেয়ারপারসনের মুক্তি এবং তার সুস্থতা নিয়েই ভাবছি। এটি নিয়ে সরকারি দল যা বলছে তাতে আমরা কান দিতে চাই না।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন কিনা না এমন একটি বিতর্ক মাঠে আনে সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। মন্ত্রীরা এটি নিয়ে স্ববিরোধী বক্তব্যও দেন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে পারার বিষয়টি সামনে আনেন। এ অবস্থায় চলছে আইনের নানা ব্যাখ্যা আর যুক্তিতর্ক। জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর স্ববিরোধী বক্তব্য নিয়ে বেশ সরব রাজনৈতিক মঞ্চও। সপ্তাহজুড়ে চলা এই বিতর্ক যেন থামছেই না।
তবে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পাঁচ বছর পর হঠাৎ খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্য আমলে নিচ্ছে না বিএনপি। বিষয়টিকে দলটি সন্দেহের চোখে দেখছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, এর পেছনে কোনো দুরভিসন্ধি থাকতে পারে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা নিয়ে হঠাৎ তারা উতলা হয়ে উঠলেন কেন? একই সঙ্গে তিনি তার মুক্তি দাবি করে বলেছেন, সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হওয়ার পরই খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে ফেরার প্রসঙ্গ আসবে। আগে মুক্তি, তার পর অন্যকিছু।
এই ইস্যু প্রথম সামনে আনেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে বাধা নেই, তবে নির্বাচন করতে পারবেন না। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকও একই কথা বলেন। দুই দিন পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন না। তার সঙ্গে একমত পোষণ করে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। মন্ত্রীদের এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা নাটকীয়তা তৈরি হয়।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন কিনা এটা সম্পূর্ণ তার সিদ্ধান্ত। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় খালেদা জিয়ার যে সাজা স্থগিত করা হয়েছে, সেটার সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং আইনি দিক বিশ্লেষণ করে তিনি পরবর্তী পদক্ষেপের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এ প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার আইনি বাধা রয়েছে। কারণ, তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাকে রাজনীতি করতে হলে আদালত থেকে ওই মামলায় বেকসুর খালাস বা জামিন পেতে হবে। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাজনীতি করতে পারবেন না। তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া যেখানে আছেন, ওটা একটা সাব-জেল। জেল কোড অনুযায়ী তাকে চলাফেরা করতে হবে। এখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঠিক কথাই বলেছেন।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন কী পারবেন না, সে সিদ্ধান্ত তার। তিনি একজন অসুস্থ ব্যক্তি, তাকে নিয়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী প্রতিনিয়ত নানা ধরনের কথা ও মিথ্যাচার করছেন। এখানে সরকার ও আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একাকার হয়ে গেছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে রাজনীতি করেছেন এবং সংসদ নির্বাচনও করেছেন। তিনি পারলে, খালেদা জিয়া কেন রাজনীতি করতে পারবেন না। এখন অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সরকার চাইলে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন, না চাইলে পারবেন না।
দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্তির পর থেকে তিনি গুলশানের ভাড়া বাড়িতেই অবস্থান করছেন। ওই সময় সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রথমে ছয় মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর’-এর ধারা-৪০১ (১)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়। এর পর প্রতি ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করার মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত