শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তারাও দেখে স্বপ্ন!
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
অন্য অনেক মেয়ে শিশুর মতো পপিরও (৮) পুতুল খেলার বয়স, মনে আছে খেলার তীব্র বাসনাও। পপি পুতুল অনেক ভালবাসে, সে যেখানে যায় সেখানেই তার পুতুলটিকে নিয়ে যায়। মাত্র ৮ বছর বয়সী পপি দৈনিক ৯-১০ ঘণ্টা করে কাজ করে, তার স্কুলে যাওয়ার সামর্থ্য নাই, আহার জুটাতে পুতুল খেলার বয়সে সে এক হাতে নিয়েছে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করার থলি, অন্যহাতে হৃদয়ের সঙ্গে চেপে ধরে আড়াল করে রেখেছে নিজের শিশু মনটাকে। তার শৈশবের সব স্বপ্নকে ধারণ করে আছে দারিদ্রের কষাঘাতে।
পপির মতো কয়েকশ’ শিশু বিয়ানীবাজার পৌরশহরসহ উপজেলার পথে পথে জীবনীপাত করে নির্মম শৈশব পার করছে। ভোর থেকে এসব শিশুদের কেউ ময়লার ভাগাড়ে, কেউ মাছ-তরকারির বাজারে, কেউ ভিক্ষাবৃত্তিতে আবার কেউ দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে অন্য কাজে নিয়োজিত। ছিন্নমূল এসব শিশুরাই জীবন সংগ্রামে নেমে বিভিন্ন কাজ-কর্মে জড়িয়ে পড়েছে। তারা পথশিশু, তারা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনাদরে অবহেলায় বড় হচ্ছে। এসব পথশিশুদের বয়স ৮ থেকে ১৪/১৫ বছর।
সেই ভোর থেকে কাজ শুরু হয়ে রাতের অনেকটা সময় জুড়ে ওরা কাজ করে। একটু ভুল হলেই মার খেতে হয়। দিন শেষে ২০ থেকে ৫০/৬০ টাকা কিংবা মাস শেষে ৫০০/৬০০ টাকা পেয়ে থাকে। যা তাদের শ্রম এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। বিয়ানীবাজারের লেখক ও গবেষক ফয়জুল রহমান বলেন, ‘পথশিশুদের অনিশ্চিত ও অন্ধকার জীবনের কথা আমরা সবাই জানি। আমাদের মনুষ্যত্ববোধই পারে তাদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে। এখন দরকার যে যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা। তাহলেই পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব।
পৌরশহরের একটি চায়ের স্টলে কাজ করে কামরান (১৪)। তার বাড়ি কানাইঘাটে। মাস শেষে সাড়ে ৪ হাজার টাকা বেতন পায়। সে মোটেও লেখাপড়া করেনি। কামরান জানায়, মা-বাব কাজে দিয়েছে। তাই মাস শেষে বাবার কাছে টাকা পাঠাই। এখানকার ছোট ছোট চায়ের স্টলগুলোতে সবচেয়ে বেশী শিশু কাজ করে। মাছবাজারে নানাকাজে দিন পার করে পথশিশুরা। তবে সব পথশিশুদের জীবন একিরকম নয় কিছু সংখ্যক পথশিশুদের চিত্র ভিন্ন। এসব পথশিশু সমাজ-সংস্কৃতির কোন সুবিধা পাচ্ছে না।
অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। সমাজের দুষ্টচক্রের সাথে নিয়তই তাদের ওঠাবসা। বিয়ানীবাজারে পথশিশুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েইে চলেছে। মূলত দারিদ্রের কারণে শিশুরা পথশিশুতে পরিণত হচ্ছে। এছাড়া বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ বা একাধিক বিয়ে, তাদের মৃত্যু, পারিবারিক অশান্তি, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং হারিয়ে যাওয়াসহ নানা কারনে বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শিশুরা পরিণত হয় পথশিশুতে।
পথশিশুদের নিয়ে
বিয়ানীবাজারে কোন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কার্যক্রম চোখে পড়েনি। তবে প্রায় বছর দু’য়েক পূর্বে বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে পথশিশুদের মধ্যে ঈদের পোষাক বিতরণ করা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিলাদ মো. জয়নুল ইসলাম বলেন, মানবিক দায়বোধ থেকে আমরা পথশিশুদের বাছাই করে ঈদের পোষাক পৌছে দিয়েছিলাম। তবে তা ছিল খুব সামান্য।
উদ্বেগের বিষয়, বিয়ানীবাজারে পথশিশুর সংখ্যা কত তার সঠিক হিসাব নেই কারো কাছে। তাদের অমানবিক জীবন নিয়ে স্থানীয় কোন উদ্যোগও নেই।
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত