রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শাবির প্রথম ছাত্রী হলের নোংরা পরিবেশ, গন্ধযুক্ত পানি
প্রকাশের তারিখ : ১১ নভেম্বর ২০২৩
দীর্ঘদিন ধরে ফিল্টারের অপরিষ্কার ও গন্ধযুক্ত পানি পান করার ফলে জন্ডিস, টাইফয়েড ও লিভার সংক্রমণসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা। ফলে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন হলের ছাত্রীরা।
জানা যায়, গত এক মাস ধরে একের পর এক ছাত্রী জন্ডিস, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-বি, লিভার সংক্রমণসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রথম ছাত্রী হলের ছাত্রীরা। এ পর্যন্ত ২০ জনের অধিক ছাত্রী এসব রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব রোগের জন্য হলের অপরিষ্কার, আয়রন ও পোকামাকড়যুক্ত নোংরা পানিকে দায়ী করছেন তারা।
হলসূত্রে জানা যায়, হলের প্রতিটি ব্লকে ছাত্রীদের বিশুদ্ধ পানি জন্য ফিল্টার দেওয়া হয়েছে। এসব ফিল্টার থেকে পানি পান করেন ছাত্রীরা। তবে গত কয়েক মাস ধরে এসব ফিল্টার দিয়ে নোংরা ও গন্ধযুক্ত পানি আসে বলে অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রীরা। এছাড়া অনেক সময় পোকামাকড়ও পাওয়া যায় এসব ফিল্টারের পানিতে। পানির অন্য কোনো উৎস না থাকায় বাধ্য হয়ে এসব পানি পান করছেন তারা।
ছাত্রীদের অভিযোগ, এ পর্যন্ত হলের সি ও ডি ব্লকে ২০ জনের অধিক ছাত্রী জন্ডিস, টাইফয়েড ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব ছাত্রীরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে ডাক্তার জন্ডিসের জন্য পানির সমস্যাকে দায়ী বলে মনে করছেন। এদিকে পানির এ সংকট দূর না হলে জন্ডিসের রোগীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন এ হলের ছাত্রীরা।
টাইফয়েড ও জন্ডিস রোগে আক্রান্ত প্রথম ছাত্রী হলের শিক্ষার্থী রায়হানা ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেই হলে পানির ফিল্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু পানির ফিল্টারের গোলযোগ প্রতিনিয়তই আমরা ফেইস করি। যার ফলে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া সবসময় নিশ্চিত হয়ে উঠে না। গত ২৫ অক্টোবর আমি হল থেকে বাসায় আসার পরই জ্বর আসে, জ্বর দুইদিন পরেও না কমায় ডাক্তার দেখালে ডাক্তার দুইটি টেস্ট দেয়, যেখানে ধরা পরে আমার টাইফয়েড এবং জন্ডিস দুইটাই হয়েছে।
ওই শিক্ষার্থী আরো বলেন, ডাক্তার বলেছে এটি ছড়িয়েছে পানি থেকেই। প্রথমে ভেবে পাচ্ছিলাম না কিভাবে হলো এই রোগ কিন্তু কিছুদিন পরে জানতে পারি হলের আরো শিক্ষার্থীরা অসুস্থ। জন্ডিস, টাইফয়েড, লিভার ইনফেকশন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর। অসুস্থ সকল শিক্ষার্থীরা এটা ভালোভাবেই বুঝতে পারছে যে সমস্যাটা হলের পানি থেকেই হয়েছে।
জন্ডিস রোগে আক্রান্ত আরেক শিক্ষার্থী নিশাত আনজুম নিশু বলেন, অনেকদিন ধরে হলের পানিতে গন্ধ আসে। পানির সাথে পোকাও আসে। নতুন বোতলে পানি নিলে সাত দিনেই বোতল লাল হয়ে যায়। আমার অনেকদিন ধরে হজমজনিত সমস্যা, পেটের সমস্যা লেগেই আছে। পুজোর ছুটিতে বাসায় এসে টেস্ট করে প্রথমে টাইফয়েড তারপর জন্ডিস ধরা পড়ছে।
পানি থেকে জন্ডিস হতে পারে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের ডা. কৃষ্ণপদ আচার্য্য বলেন, পানি থেকে জন্ডিস হতে পারে। জন্ডিস হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে নোংরা ও গন্ধযুক্ত পানি অন্যতম। এ অবস্থায় পানিকে ভালোভাবে ফিল্টারিং করে অথবা পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। যাতে পানিতে থাকা জন্ডিসের জীবাণু মারা যায়।
হলের পানি সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন বলেন, পানি সমস্যার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। পানি থেকে জন্ডিস হচ্ছে কি না সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য হলের সাত জায়গা থেকে টেস্টের জন্য পানি দেওয়া হয়েছে। তিন চারদিনের মধ্যে আমরা এর ফলাফল পেয়ে যাবো। ছাত্রীদের পানি সমস্যা দূরীকরণে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কবির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি জানতাম না। আমি উপাচার্য ও হল প্রভোস্টের সাথে এ বিষয়ে আলাপ করতেছি।
তিনি আরো বলেন, মেয়েদের তিনটি হলের জন্য স্থায়ীভাবে তিনটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট বসানো হবে। তবে আপাতত শিক্ষার্থীদের যাতে পানির এ সমস্যা দূর করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলবো।
সূত্র: শ্যামল সিলেট
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত