রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

বিদ্যুৎ ইস্যুতে হিসাব পাল্টালো হাবিবের



বিদ্যুৎ ইস্যুতে হিসাব পাল্টালো হাবিবের
ভোটের আগে বিদ্যুৎ ইস্যুতে নৌকা নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। এই ইস্যুতে সংসদে কথা বলায় ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তার। উল্টো আশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. ইহতেশামুল হক দুলালের।   এ কারণে ভোটাররা শেষ মুহুর্তে ট্রাকে ঝুকছেন। এমনিতে সিলেট-৩ আসনে হাবিব পাশে পাননি আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশকে। শেষ মুহুর্তে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ ইস্যু। এসবের পরও এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী পরিবার ও তার অনুসারীরা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিপক্ষে থাকার বিষয়টি ভোটের মাঠে রয়েছে আলোচনায় ওঠে এসেছে।   ফলে মাঝির কারণে নৌকার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে ভোটে। সুবিধা পেতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। ড. দুলালকে বেঁছে নেওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোটারদের অনেকে বলেন, ‘সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী করোনাকালে মারা যান। উপ নির্বাচনে তাঁর স্থলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিববে আমরা ভোট দিয়ে সংসদে পাঠালাম।   আর তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে সম্পূরক বাজেট বক্তৃতায় আরেক দফা বিদ্যুৎবিল বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। যখন নিত্যপণ্যের দামে মানুষের নাভিশ্বাস ছুটছে, সংসার চালানো ছিল কষ্ঠসাধ্য, তখন তিনি মানুষের মহান সংসদে দাঁড়িয়ে মানুষের বিপক্ষে গিয়ে কথা বলেছেন।   তিনি লন্ডনে ছিলেন, এটাতো লন্ডন-আমেরিকা না? গত বছরের জুনে সংসদে দাঁড়িয়ে সম্পূরক বাজেট বক্তৃতায় হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছিলেন- ‘আমার মনে হয়, আমাদের উচিৎ বিদ্যুৎ বিল আরও বাড়িয়ে দেওয়া।   ইউরোপ-আমেরিকার মতো বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দিলে আর লোডশেডিং হবে না। কারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো।’   সংসদে তাঁর বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর প্রস্তাবে সেসময় সারা দেশের ন্যায় ক্ষুভে ফুসে ওঠেন সিলেটের মানুষ। অনেকে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। মানুষের পোষে রাখা সেই ক্ষোভ এবার ভোটের মাঠে নৌকায় ঝাঁকুনি দিচ্ছে।   যে কারণে ফুরফুরে মেজাজে আছেন হাবিবের দলেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. দুলাল। ওই নির্বাচনী এলাকা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপ নির্বাচনে হাবিবুর রহমান বিজয়ী হওয়ার থেকে হয়রানীর শিকার হয়ে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর অনুসারী অনেক নেতাকর্মী দেশ ছেড়েছেন।   এ কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগে ফাঁটল ধরে।সে বিষয়টিও এখন ভোটের মাঠে আলোচনায়। এছাড়াও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় আড়াই বছরে ৯ কোটি ঋণ মারার তথ্য দিয়েছেন হাবিব। গণমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে মানুষের মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।   অল্প সময়ে ঋণের বোঝা কমানোর বিষয়টি আলাদিনের চেরাগের ন্যায় দেখছেন ভোটাররা। সেই সঙ্গে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের ৬ কোটি টাকার সংস্কার কাজে সওজের অনিয়মের বিষয়টিও পাশ কাটিয়ে যাওয়া এবং সংস্কার কাজের পর উদ্বোধন করা নিয়ে কড়া সমালোচনা হচ্ছে নির্বাচনী মাঠে।   এসব সমালোচনা উৎরেও নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠ দখলে রেখে হাবিবুর রহমান হাবিব নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি ট্রাক প্রতীক স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা দুলালও দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ভোট আদায়ের কৌশলে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।   এছাড়া এ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী চেনামুখ আতিকুর রহমান আতিকও রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তবে এ দুই প্রার্থীর ভীড়ে ছন্দপতনের লাঙ্গলের ইশ ধরে এগিয়েছেন আতিকও। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে এতোদিন প্রার্থীরা বিচরণ করেছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে।   এবার প্রার্থীদের খতিয়ান নিয়ে হিসাব মেলাচ্ছেন ভোটারাও। স্থানীয়রা জানান, এ আসনে জনমত সৃষ্টি করে প্রার্থী হলেও বাছাইকালে বাদ পড়ে যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। তার বাদ পড়ায় অনেকটা চার্মিংমোডে ছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব।   কিন্তু সমোঝোতার বলি হয়ে এ আসনে আতিকুর রহমান জোটের প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন ছিল। সে বাধা ডিঙিয়ে অবশেষে নৌকা নিয়ে ভোটের মাঠে ফিরেন হাবিব। ফলে তার নৌকার পালে হাওয়া ধরে। জনসাধারণের ধারণা ছিল নৌকা ও লাঙ্গলের খেলায় হাবিব-ই অপ্রতিদ্বন্দ্বি।   এ ধারা বজায় ছিল ভোটের মাঠেও। কিন্তু সংসদে হাবিবুর রহমান হাবিবের বিদ্যুৎ ইস্যুতে মাঠের হিসাব পাল্টাতে থাকে। সেই সুযোগে ভোটের মাঠে আপীলে ফিরে আসা বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের মহাসচিব ও আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুললের ট্রাকে ঝুকছেন ভোটাররা।   যে কারণে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ডা. দুলালের ট্রাক। এমনটি জানালেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিব ও আওয়ামী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাক্তার দুলাল প্রসঙ্গে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল অনেকটা কৌশলী উত্তরে বলেন, মাঠ পর্যায়ে যার গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে, তিনি বিজয়ী হবেন। দীর্ঘ নির্বাচনী অভিজ্ঞতা নিয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীন রাজনীতিবিদ মোস্তাকুর রহমান মফুর বলেন, হাবিবুর রহমান হাবিব একটি দলের প্রার্থী এবং ডাক্তার দুলাল হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।   তাই দলীয় প্রার্থীর সাথে একজন ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। ডা. দুলাল সাহেবের দৃশ্যমান ভোট লক্ষ্য করা না গেলেও নীরবে কি অবস্থান রয়েছে সেটা ভাবার বিষয়।তবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষেই কাজ করছেন তারা।   একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসন থেকে বিজয়ী সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী করোনায় মারা যান। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এ আসনে উপ নির্বাচনে ভোটে হাবিবকে বেছে নেন এলাকার মানুষ। বর্তমান এই সংসদ সদস্য এবারো নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন। সিলেট-৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৭১০জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০১ এবং মহিলা ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮ জন, হিজড়া ভোটার একজন।এ আসনে কেন্দ্র সংখ্যা ১৫১টি।   এসব কেন্দ্র অস্থায়ী ৮৫টিসহ ৮৭৫টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে পুরুষ কক্ষ ৪২৯ এবং মহিলা কক্ষ ৪৪৬টি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিদ্যুৎ ইস্যুতে হিসাব পাল্টালো হাবিবের

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪

featured Image
ভোটের আগে বিদ্যুৎ ইস্যুতে নৌকা নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। এই ইস্যুতে সংসদে কথা বলায় ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তার। উল্টো আশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. ইহতেশামুল হক দুলালের।   এ কারণে ভোটাররা শেষ মুহুর্তে ট্রাকে ঝুকছেন। এমনিতে সিলেট-৩ আসনে হাবিব পাশে পাননি আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশকে। শেষ মুহুর্তে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ ইস্যু। এসবের পরও এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী পরিবার ও তার অনুসারীরা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিপক্ষে থাকার বিষয়টি ভোটের মাঠে রয়েছে আলোচনায় ওঠে এসেছে।   ফলে মাঝির কারণে নৌকার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে ভোটে। সুবিধা পেতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। ড. দুলালকে বেঁছে নেওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোটারদের অনেকে বলেন, ‘সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী করোনাকালে মারা যান। উপ নির্বাচনে তাঁর স্থলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিববে আমরা ভোট দিয়ে সংসদে পাঠালাম।   আর তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে সম্পূরক বাজেট বক্তৃতায় আরেক দফা বিদ্যুৎবিল বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। যখন নিত্যপণ্যের দামে মানুষের নাভিশ্বাস ছুটছে, সংসার চালানো ছিল কষ্ঠসাধ্য, তখন তিনি মানুষের মহান সংসদে দাঁড়িয়ে মানুষের বিপক্ষে গিয়ে কথা বলেছেন।   তিনি লন্ডনে ছিলেন, এটাতো লন্ডন-আমেরিকা না? গত বছরের জুনে সংসদে দাঁড়িয়ে সম্পূরক বাজেট বক্তৃতায় হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছিলেন- ‘আমার মনে হয়, আমাদের উচিৎ বিদ্যুৎ বিল আরও বাড়িয়ে দেওয়া।   ইউরোপ-আমেরিকার মতো বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দিলে আর লোডশেডিং হবে না। কারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো।’   সংসদে তাঁর বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর প্রস্তাবে সেসময় সারা দেশের ন্যায় ক্ষুভে ফুসে ওঠেন সিলেটের মানুষ। অনেকে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। মানুষের পোষে রাখা সেই ক্ষোভ এবার ভোটের মাঠে নৌকায় ঝাঁকুনি দিচ্ছে।   যে কারণে ফুরফুরে মেজাজে আছেন হাবিবের দলেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. দুলাল। ওই নির্বাচনী এলাকা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপ নির্বাচনে হাবিবুর রহমান বিজয়ী হওয়ার থেকে হয়রানীর শিকার হয়ে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর অনুসারী অনেক নেতাকর্মী দেশ ছেড়েছেন।   এ কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগে ফাঁটল ধরে।সে বিষয়টিও এখন ভোটের মাঠে আলোচনায়। এছাড়াও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় আড়াই বছরে ৯ কোটি ঋণ মারার তথ্য দিয়েছেন হাবিব। গণমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে মানুষের মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।   অল্প সময়ে ঋণের বোঝা কমানোর বিষয়টি আলাদিনের চেরাগের ন্যায় দেখছেন ভোটাররা। সেই সঙ্গে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের ৬ কোটি টাকার সংস্কার কাজে সওজের অনিয়মের বিষয়টিও পাশ কাটিয়ে যাওয়া এবং সংস্কার কাজের পর উদ্বোধন করা নিয়ে কড়া সমালোচনা হচ্ছে নির্বাচনী মাঠে।   এসব সমালোচনা উৎরেও নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠ দখলে রেখে হাবিবুর রহমান হাবিব নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি ট্রাক প্রতীক স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা দুলালও দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ভোট আদায়ের কৌশলে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।   এছাড়া এ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী চেনামুখ আতিকুর রহমান আতিকও রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তবে এ দুই প্রার্থীর ভীড়ে ছন্দপতনের লাঙ্গলের ইশ ধরে এগিয়েছেন আতিকও। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে এতোদিন প্রার্থীরা বিচরণ করেছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে।   এবার প্রার্থীদের খতিয়ান নিয়ে হিসাব মেলাচ্ছেন ভোটারাও। স্থানীয়রা জানান, এ আসনে জনমত সৃষ্টি করে প্রার্থী হলেও বাছাইকালে বাদ পড়ে যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। তার বাদ পড়ায় অনেকটা চার্মিংমোডে ছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব।   কিন্তু সমোঝোতার বলি হয়ে এ আসনে আতিকুর রহমান জোটের প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন ছিল। সে বাধা ডিঙিয়ে অবশেষে নৌকা নিয়ে ভোটের মাঠে ফিরেন হাবিব। ফলে তার নৌকার পালে হাওয়া ধরে। জনসাধারণের ধারণা ছিল নৌকা ও লাঙ্গলের খেলায় হাবিব-ই অপ্রতিদ্বন্দ্বি।   এ ধারা বজায় ছিল ভোটের মাঠেও। কিন্তু সংসদে হাবিবুর রহমান হাবিবের বিদ্যুৎ ইস্যুতে মাঠের হিসাব পাল্টাতে থাকে। সেই সুযোগে ভোটের মাঠে আপীলে ফিরে আসা বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের মহাসচিব ও আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুললের ট্রাকে ঝুকছেন ভোটাররা।   যে কারণে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ডা. দুলালের ট্রাক। এমনটি জানালেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিব ও আওয়ামী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাক্তার দুলাল প্রসঙ্গে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল অনেকটা কৌশলী উত্তরে বলেন, মাঠ পর্যায়ে যার গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে, তিনি বিজয়ী হবেন। দীর্ঘ নির্বাচনী অভিজ্ঞতা নিয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীন রাজনীতিবিদ মোস্তাকুর রহমান মফুর বলেন, হাবিবুর রহমান হাবিব একটি দলের প্রার্থী এবং ডাক্তার দুলাল হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।   তাই দলীয় প্রার্থীর সাথে একজন ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। ডা. দুলাল সাহেবের দৃশ্যমান ভোট লক্ষ্য করা না গেলেও নীরবে কি অবস্থান রয়েছে সেটা ভাবার বিষয়।তবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষেই কাজ করছেন তারা।   একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসন থেকে বিজয়ী সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী করোনায় মারা যান। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এ আসনে উপ নির্বাচনে ভোটে হাবিবকে বেছে নেন এলাকার মানুষ। বর্তমান এই সংসদ সদস্য এবারো নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন। সিলেট-৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৭১০জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০১ এবং মহিলা ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮ জন, হিজড়া ভোটার একজন।এ আসনে কেন্দ্র সংখ্যা ১৫১টি।   এসব কেন্দ্র অস্থায়ী ৮৫টিসহ ৮৭৫টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে পুরুষ কক্ষ ৪২৯ এবং মহিলা কক্ষ ৪৪৬টি।

সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪