দক্ষিণ সুরমার নগরীর ২৫নং ওয়ার্ডের বারখলা এলাকার জাহাজ বিল্ডিং থেকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আট বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে এক রেলওয়ে আনসার সদস্য’কে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।
সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে অভিযুক্ত আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।
পাশবিক নির্যাতনের শিকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিশুর এক মামা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সিলেট রেলস্টেশন সংলগ্ন বাবুল মিয়ার কলোনীতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুটি তার মায়ের সাথে বসবাস করে আসছে। বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা তিন সন্তান নিয়ে বিশ্বনাথের বাড়ি থেকে সিলেটে আসেন। বাসা-বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শিশুর বড় দুই ভাই এক মাদ্রাসায় থেকে পড়ালেখা করছে।
ঘটনারদিন সোমবার সকালে প্রতিদিনের ন্যায় শিশুটি পুঁথির মালা বিক্রির জন্য সিলেট রেল স্টেশনে যায়। সেখান থেকে শিশুটিকে ফুসলিয়ে রেল স্টেশনে কর্মরত আনসার নাজমুল (৪৫) তার ভাড়া বাসা বারখলা এ-ব্লকের ৩নং বাসা জাহাজ বিল্ডিংয়ে নিয়ে যায়। অভিযুক্ত নাজমুল তার বউ ও দুই বাচ্চা নিয়ে এই বাসায় ভাড়া থাকলেও ঘটনার দিন তার বউ ও বাচ্চারা বাসায় ছিলো না।
সেই সুযোগে শিশুটিকে আনসার সদস্য নাজমুল দিনভর ধর্ষণ করে। দুপুরে বাসার সামনের সড়কে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে স্থানীয়রা তার অভিভাবকের মাধ্যমে থানায় নিয়ে যায়।
পরে থানা পুলিশ দ্রুত তাদের গাড়িতে করে শিশুকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
এদিকে, ধর্ষণের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাসা ঘেরাও করে রাখে। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটায় দক্ষিণ সুরমা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই কল্লোল গোস্বামীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ বারখলার জাহাজ বিল্ডিং এর দ্বিতীয় তলার ২০৯ নং রুম থেকে বারখলা রূপালী যুব সংঘের সদস্যদের সহযোগীতায় আনসার সদস্য নাজমুলকে কয়েক প্যাকেট কনডম ও যৌন উত্তেজক ঔষধসহ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
মতামত