ভয়াবহ বন্যায় সিলেট বিভাগের চার জেলার ৩৪টি উপজেলায় ২৩৮টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৫৯০টি খামার। ক্ষতির পরিমাণ ১২০ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩৫০ টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত গরুর সংখ্যা ৬ লাখ ৭১ হাজার ১৪৫টি, মহিষ ৪৩ হাজার ২২৩টি, ছাগল ২ লাখ ১০ হাজার ২৩৬টি, ভেড়া ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৬টি, মুরগি ৪১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৪টি এবং হাঁস ৩৬ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৩টি।
মঙ্গলবার (২৮ জুন) পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটির সার-সংক্ষেপে দেখা যায়, এবারের ভয়াবহ বন্যায় সিলেটসহ দেশের পাঁচ বিভাগের ১৫টি জেলার ৯৫টি উপজেলায় পশুসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাবেই প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ৬ হাজার ৫৬৯টি গবাদিপশুর খামার ক্ষতির মুখে পড়েছে। মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩২৮ কোটি ১৪ লাখ ৫১ হাজার ১৫০ টাকা। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ক্ষতিই হয়েছে সিলেট বিভাগের চার জেলার ৩৪টি উপজেলায়।
তারপর যথাক্রমে রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও ঢাকা। তবে ক্ষতির পরিমাণের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। তারপর সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর।
ঢাকা বিভাগের একটি জেলার ১০টি উপজেলায় ৪৬টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত খামারের সংখ্যা ২৫৮টি। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত গবাদিপশুর সংখ্যা- গরু ২ লাখ ২৫ হাজার ৭৬০টি, মহিষ ১৫০টি, ছাগল ৬৮০টি, ভেড়া ১৪৫টি, মুরগি ১৩ হাজার ১০০টি ও হাঁস ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬১টি।
ময়মনসিংহের তিন জেলার ২১ উপজেলায় ১০৮টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ে ৫৮৬টি খামার। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৬ কোটি ৪১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৫৬৮টি গরু, ৯০টি মহিষ, ১ লাখ ৬ হাজার ৪১৭টি ছাগল, ৭ হাজার ৮৪৪টি ভেড়া, ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩৩২টি মুরগি এবং ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬০টি হাঁস।
রাজশাহী বিভাগের দুটি জেলার আটটি উপজেলায় ৩৮টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারের সংখ্যা ১৩৫টি। ক্ষতির পরিমাণ ৯১ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত গরুর সংখ্যা ৯৫ হাজার ৮৬৬টি, মহিষ ১ হাজার ২১৪টি, ছাগল ৮৭ হাজার ৬২৭টি, ভেড়া ৯ হাজার ২২৪টি, মুরগি ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৭২টি ও হাঁস ৪৭ হাজার ৮৩১টি।
রংপুরের পাঁচটি জেলার ২২টি উপজেলায় ৯৮টি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত খামারের সংখ্যা শূন্য উল্লেখ থাকলেও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২৯ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা বলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। ক্ষতিগ্রস্ত গবাদিপশুর মধ্যে গরু ৫০ হাজার ৬৬৬টি, মহিষ ৮৮৬টি, ছাগল ২৭ হাজার ২৯১টি, ভেড়া ৫ হাজার ৬৩৯টি, মুরগি ১ লাখ ৮৬৫টি এবং হাঁস ৪৯ হাজার ৯০০টি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বন্যায় প্রাণিসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে ঢাকা থেকে সিলেটে দুটি টিম পাঠানো হয়েছিল। তারা স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। অন্যান্য অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ অফিসগুলোর পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বলেন, হঠাৎ করে সৃষ্ট বন্যায় মানুষের পাশাপাশি খামার মালিকরাও রয়েছেন বিপদের মধ্যে শেষ খবর যাওয়া পর্যন্ত ২ হাজার খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকের গবাদি পশু চুরি হয়ে গেছে, ভেসে গেছে পানির স্রোতে, অনেক পশু মারাও গেছে।
অনেকে আবার গবাদি পশু নিয়ে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র গেছেন। সেখানে একই জায়গায় মানুষ ও গবাদি পশু থাকছে। সে সব জায়গায় মানুষের যেমন খাবারের প্রয়োজন তেমনি পশুর জন্যও খাদ্য প্রয়োজন। এক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে প্রাণি বা গবাদিপশুর খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। পানিবাহিত রোগ থেকে পশুকুল রক্ষায় প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে ( যেখানে পশু রয়েছে) ভেটেনারি ডাক্তারকে দায়িত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরো বলেন, খামারিদের কথা চিন্তা করে যে সব জায়গায় আশ্রয়কেন্দ্র নেই সেসব জায়গায় গবাদি পশুর জন্য আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা। এসব পশুবিক্রি বা কোরবানি হাটে তোলা পর্যন্ত ভালো রাখার ব্যবস্থা করা। বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে স্বল্প বা বিনা সুদে আর্থিক সহায়তা দিতেও সরকারের কাছে আহ্বানও জানান তিনি।
সূত্র: শ্যামল সিলেট
মতামত