মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা দুইটার পর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক দাবি করেন, মাদকের সরবরাহ নেটওয়ার্ক বন্ধ করাই সেদিনের অভিযানের লক্ষ্য।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে অতিরঞ্জিত প্রচারণা করা হয়েছে।’
ইশরাক হোসেন বলেন, ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের যাওয়ার ঘটনায় কিছুটা সত্য, কিছুটা অতিরিঞ্জিত কল্পকাহিনী বানানো হয়েছে। হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টার ফলে দল বিব্রত হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল।
তার নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ তার পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে ধরতে দৌড়ান। তাদের একজন এক তরুণকে লাথি দেন। কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ, স্যার।’
আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রীর নিজের নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। নিজের নিয়োগ দেওয়া দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করে দেওয়া হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
এমন অবস্থার মধ্যে রোববার রাতে ‘ইশরাক হোসেনকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’- বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এ খবরের প্রেক্ষিতে রাতেই ইশরাক হোসেন জানান, তার পদত্যাগের নির্দেশের খবরটি গুজব। রাত পোরেতেই সকালে নিজেই ফেসবুকে একটি পোস্ট করে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করার কথা জানান ইশরাক।
এরই অংশ হিসেবে দুপুর দেড়টার পর প্রেস ক্লাবে পৌঁছান ইশরাক। প্রেস ক্লাবে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে লোগো খোলেন তিনি। লোগো খোলার সময় ইশরাক হোসেন বলেন, ‘দল চায়নি। নিজে থেকেই পদত্যাগ করছি। বিশেষ কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবে।’